গত জুনের তুলনায় জুলাইয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা কিছুটা কমলেও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঘটনা। ধর্ষণ বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ, আত্মহত্যা বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার মাসিক প্রতিবেদনে এই চিত্র দেখা গেছে।
সংস্থাটির সভাপতি সুলতানা কামালের স্বাক্ষরে শুক্রবার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।
এমএসএফের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯০টি, যা জুনের ৬৮টির তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির ঘটনা ২১টি থেকে বেড়ে ২২টি হয়েছে।
আত্মহত্যার ঘটনা জুনে ছিল ১৭টি, যা জুলাইয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮টিতে- এক মাসে প্রায় ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি। এমএসএফ মনে করে, ধর্ষণের মতো ঘটনা বৃদ্ধি নারী ও শিশুদের চরম নিরাপত্তাহীনতার ইঙ্গিত দেয়। আর আত্মহত্যার উচ্চ হার সামাজিক নিপীড়ন ও বিচারহীনতার মানসিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
জুলাইয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ ১৬টি থেকে কমে ৭টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৫টি থেকে কমে ৩টি, ধর্ষণচেষ্টা ৩৫টি থেকে কমে ৩৪টি এবং শারীরিক নির্যাতন ৫৬টি থেকে কমে ৪২টিতে নেমেছে। হত্যাকাণ্ড ৭৬টি থেকে কমে ৫২টি হয়েছে। তবে অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা ১২টি থেকে সামান্য বেড়ে ১৩টি হয়েছে। অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা জুনের মতো জুলাইয়েও একটি ঘটেছে।
আইন অমান্য করে সালিসের মাধ্যমে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ মীমাংসার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এমএসএফ। জুলাই মাসে ধর্ষণের চেষ্টা ও ধর্ষণের মতো অন্তত তিনটি ঘটনা বেআইনি সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
জুলাই মাসে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১ জন নবজাতককে উদ্ধারের তথ্য দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। তাদের মধ্যে ৮ জন মৃত এবং ৩ জন জীবিত ছিল। এমএসএফের মতে, বেআইনি সালিস ও নবজাতক পরিত্যাগের ঘটনাগুলো সমাজে দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আরও দৃঢ় করছে।
গত জুনে নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩২০টি ঘটনা পেয়েছিল এমএসএফ। জুলাইয়ে পেয়েছে ৩০৬টি- সার্বিক ঘটনা প্রায় ৪.৪ শতাংশ কমেছে। তবে পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলছে সংস্থাটি। তাদের পর্যবেক্ষণ, মোট অপরাধ কমলেও নির্যাতনের ধরন এখন আরও বেশি নৃশংস ও জটিল রূপ নিয়েছে।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
গত জুনের তুলনায় জুলাইয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা কিছুটা কমলেও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঘটনা। ধর্ষণ বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ, আত্মহত্যা বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার মাসিক প্রতিবেদনে এই চিত্র দেখা গেছে।
সংস্থাটির সভাপতি সুলতানা কামালের স্বাক্ষরে শুক্রবার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।
এমএসএফের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯০টি, যা জুনের ৬৮টির তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির ঘটনা ২১টি থেকে বেড়ে ২২টি হয়েছে।
আত্মহত্যার ঘটনা জুনে ছিল ১৭টি, যা জুলাইয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮টিতে- এক মাসে প্রায় ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি। এমএসএফ মনে করে, ধর্ষণের মতো ঘটনা বৃদ্ধি নারী ও শিশুদের চরম নিরাপত্তাহীনতার ইঙ্গিত দেয়। আর আত্মহত্যার উচ্চ হার সামাজিক নিপীড়ন ও বিচারহীনতার মানসিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
জুলাইয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ ১৬টি থেকে কমে ৭টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৫টি থেকে কমে ৩টি, ধর্ষণচেষ্টা ৩৫টি থেকে কমে ৩৪টি এবং শারীরিক নির্যাতন ৫৬টি থেকে কমে ৪২টিতে নেমেছে। হত্যাকাণ্ড ৭৬টি থেকে কমে ৫২টি হয়েছে। তবে অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা ১২টি থেকে সামান্য বেড়ে ১৩টি হয়েছে। অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা জুনের মতো জুলাইয়েও একটি ঘটেছে।
আইন অমান্য করে সালিসের মাধ্যমে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ মীমাংসার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এমএসএফ। জুলাই মাসে ধর্ষণের চেষ্টা ও ধর্ষণের মতো অন্তত তিনটি ঘটনা বেআইনি সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
জুলাই মাসে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১ জন নবজাতককে উদ্ধারের তথ্য দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। তাদের মধ্যে ৮ জন মৃত এবং ৩ জন জীবিত ছিল। এমএসএফের মতে, বেআইনি সালিস ও নবজাতক পরিত্যাগের ঘটনাগুলো সমাজে দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে আরও দৃঢ় করছে।
গত জুনে নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩২০টি ঘটনা পেয়েছিল এমএসএফ। জুলাইয়ে পেয়েছে ৩০৬টি- সার্বিক ঘটনা প্রায় ৪.৪ শতাংশ কমেছে। তবে পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলছে সংস্থাটি। তাদের পর্যবেক্ষণ, মোট অপরাধ কমলেও নির্যাতনের ধরন এখন আরও বেশি নৃশংস ও জটিল রূপ নিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন