সংবাদ

আইসিইউর অপেক্ষায় নিভে গেল হামে আক্রান্ত শিশুর প্রাণ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, সিলেট
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, সিলেট
প্রকাশ: ৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

আইসিইউর অপেক্ষায় নিভে গেল হামে আক্রান্ত শিশুর প্রাণ
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) না পেয়ে হামে আক্রান্ত আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের হাম রোগীদের জন্য নির্ধারিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম আয়ান। সে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার মোরশেদ আলম ও খোরশেদা বেগমের ছেলে।

শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে সাতটার দিকে আয়ানকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় পরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। স্বজনদের দাবি, শামসুদ্দিন হাসপাতালে আনার পর শিশুটির জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেও কর্তৃপক্ষ তাদেরই অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে বলে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর আয়ান মারা যায়। তাদের অভিযোগ, শিশুটি মারা যাওয়ার পরপরই রহস্যজনকভাবে আইসিইউতে শয্যা খালি হয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের বারান্দায় আহাজারি করতে করতে আয়ানের বাবা মোরশেদ আলম বলেন, ‘রোগী মারা যাওয়ার পরই কীভাবে আইসিইউর সিট খালি হলো? আগে কেন দেওয়া হলো না?’

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে যথাযথ লিখিত অনুমোদন (রিফারেল) ছাড়াই শিশুটিকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। আগে থেকে কোনো যোগাযোগ না করায় তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিশুটিকে যখন এখানে আনা হয়, তখন আইসিইউর সব কটি শয্যা পূর্ণ ছিল। তাকে জরুরি বিভাগে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। পরে একটি শয্যা খালি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।’

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ডা. মিজানুর রহমান আরও বলেন, আইসিইউর প্রয়োজন হলে সাধারণত এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে যোগাযোগের মাধ্যমে রোগী স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে স্বজনরা সরাসরি রোগীকে নিয়ে চলে এসেছিলেন। আগে থেকে যোগাযোগ থাকলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


আইসিইউর অপেক্ষায় নিভে গেল হামে আক্রান্ত শিশুর প্রাণ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সিলেটে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) না পেয়ে হামে আক্রান্ত আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের হাম রোগীদের জন্য নির্ধারিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম আয়ান। সে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার মোরশেদ আলম ও খোরশেদা বেগমের ছেলে।

শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে সাতটার দিকে আয়ানকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় পরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। স্বজনদের দাবি, শামসুদ্দিন হাসপাতালে আনার পর শিশুটির জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেও কর্তৃপক্ষ তাদেরই অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে বলে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর আয়ান মারা যায়। তাদের অভিযোগ, শিশুটি মারা যাওয়ার পরপরই রহস্যজনকভাবে আইসিইউতে শয্যা খালি হয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের বারান্দায় আহাজারি করতে করতে আয়ানের বাবা মোরশেদ আলম বলেন, ‘রোগী মারা যাওয়ার পরই কীভাবে আইসিইউর সিট খালি হলো? আগে কেন দেওয়া হলো না?’

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে যথাযথ লিখিত অনুমোদন (রিফারেল) ছাড়াই শিশুটিকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। আগে থেকে কোনো যোগাযোগ না করায় তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিশুটিকে যখন এখানে আনা হয়, তখন আইসিইউর সব কটি শয্যা পূর্ণ ছিল। তাকে জরুরি বিভাগে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। পরে একটি শয্যা খালি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।’

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ডা. মিজানুর রহমান আরও বলেন, আইসিইউর প্রয়োজন হলে সাধারণত এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে যোগাযোগের মাধ্যমে রোগী স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে স্বজনরা সরাসরি রোগীকে নিয়ে চলে এসেছিলেন। আগে থেকে যোগাযোগ থাকলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত