বগুড়া শহরের ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলদীঘি, শান্তিবাগ ও চকফরিদ এলাকার অন্তত দুই হাজার পরিবারের যাতায়াতের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সরু হয়ে আছে। জরুরি প্রয়োজনে এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স ঢোকারও পথ নেই। এই দুর্ভোগ নিরসনে সড়কটি প্রশস্ত করার দাবিতে শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শহরের ফুলদীঘি এলাকায় র্যাব-১২ বগুড়া কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ড বা বড় কোনো দুর্ঘটনার সময় উদ্ধারকারী যানবাহন ঢুকতে না পারায় জানমালের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ভিটিটিআই) এবং বগুড়া সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সীমানা প্রাচীর বা দেওয়াল কয়েক ফুট সরিয়ে নিলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাঁদের দাবি, ভিটিটিআই তাদের দেওয়াল ১০ ফুট এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ৫ ফুট ভেতরে সরিয়ে নিলে সড়কটি প্রশস্ত হবে এবং জরুরি সেবাদানকারী যানবাহনগুলো অনায়াসে চলাচল করতে পারবে।
এলাকাবাসীর পক্ষে ফুলদীঘি নবীন সংঘের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি কোনো ব্যক্তির দাবি নয়, দুই হাজার পরিবারের নিরাপত্তার প্রশ্ন। এখানে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটলে সাহায্য পৌঁছানোর পথ নেই। আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটির সীমানা প্রাচীর সামান্য ভেতরে সরিয়ে রাস্তাটি বড় করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন, কাইয়ুম, রইচ উদ্দিন, কনক, শফিকুল ইসলাম ও আবু তালেব। বক্তারা জনস্বার্থে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
বগুড়া সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ভিটিটিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি বিধিবিধানের ওপর নির্ভরশীল। তবে এলাকাবাসীর সমস্যার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
আপনার মতামত লিখুন