সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহতের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহাকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিনিধি।
শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে ওসমানীনগরের কাশিকাপুর এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। সাতজন ঘটনাস্থলেই মারা যান, একজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং অন্যজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান।
জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দুর্ঘটনার সময় মহাসড়কটি ফাঁকা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালকদের বেপরোয়া গতি অথবা গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে শনিবার সকালে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি ঘোষণা করেন, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ব বরণকারীদের ৩ লাখ এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য পরিবার প্রতি ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসন উভয়েই আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন