সংবাদ

ফরম পূরণের নামে প্রতারণা, পরীক্ষা দিতে পারেননি ছয় শিক্ষার্থী


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

ফরম পূরণের নামে প্রতারণা, পরীক্ষা দিতে পারেননি ছয় শিক্ষার্থী
ছবি : সংগৃহীত

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করিয়ে দেওয়ার নামে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইবারুল ইসলাম চৌধুরীর (জিসান) বিরুদ্ধে। এর ফলে ছয় শিক্ষার্থী চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। অভিযুক্ত ইবারুল পরশুরাম পৌর এলাকার সলিয়া চৌধুরী বাড়ির ইকরামুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ছয় শিক্ষার্থীকে পাশ করিয়ে ফরম পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন ইবারুল। নিজেকে কখনো 'জুলাই যোদ্ধা', কখনো 'সমন্বয়ক' পরিচয় দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি, ছবিসহ জনপ্রতি সাড়ে সাত হাজার টাকা করে নেন। সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ হয়নি।

এক অভিভাবক জানান, টাকা নেওয়ার পর বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিলেন ইবারুল এবং জানাজানি হলে অধ্যক্ষ পরীক্ষা দিতে দেবেন না বলে ভয় দেখান। এক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজের সুনাম রক্ষায় তারা প্রথমে চুপ ছিলেন, কিন্তু পরে আরও টাকা দাবি করায় বিষয়টি প্রকাশ পায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ইবারুলের বিরুদ্ধে বালু-মাটি লুটসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

ইবারুলের বাবা ইকরামুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ছেলে টাকা হাতিয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গেছে এবং জমি বিক্রি করে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দিতে হবে। অভিযুক্ত ইবারুলও টাকা ফেরতের কথা জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন (অব.) দিদারুল আলম বলেন, সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের রেজুলেশনের মাধ্যমে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তবে বেশি বিষয়ে অকৃতকার্যদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


ফরম পূরণের নামে প্রতারণা, পরীক্ষা দিতে পারেননি ছয় শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করিয়ে দেওয়ার নামে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইবারুল ইসলাম চৌধুরীর (জিসান) বিরুদ্ধে। এর ফলে ছয় শিক্ষার্থী চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। অভিযুক্ত ইবারুল পরশুরাম পৌর এলাকার সলিয়া চৌধুরী বাড়ির ইকরামুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ছয় শিক্ষার্থীকে পাশ করিয়ে ফরম পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন ইবারুল। নিজেকে কখনো 'জুলাই যোদ্ধা', কখনো 'সমন্বয়ক' পরিচয় দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি, ছবিসহ জনপ্রতি সাড়ে সাত হাজার টাকা করে নেন। সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ হয়নি।

এক অভিভাবক জানান, টাকা নেওয়ার পর বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিলেন ইবারুল এবং জানাজানি হলে অধ্যক্ষ পরীক্ষা দিতে দেবেন না বলে ভয় দেখান। এক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজের সুনাম রক্ষায় তারা প্রথমে চুপ ছিলেন, কিন্তু পরে আরও টাকা দাবি করায় বিষয়টি প্রকাশ পায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ইবারুলের বিরুদ্ধে বালু-মাটি লুটসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

ইবারুলের বাবা ইকরামুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ছেলে টাকা হাতিয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গেছে এবং জমি বিক্রি করে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দিতে হবে। অভিযুক্ত ইবারুলও টাকা ফেরতের কথা জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন (অব.) দিদারুল আলম বলেন, সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের রেজুলেশনের মাধ্যমে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তবে বেশি বিষয়ে অকৃতকার্যদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত