সংবাদ

সাজানো মামলায় কৃষক পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ


প্রতিনিধি, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রতিনিধি, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

সাজানো মামলায় কৃষক পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ
ছবি : সংবাদ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় দুই মৌজার সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি কৃষক পরিবারকে সাজানো মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রবহমান নদীকে ‘মাছের খামার’ দাবি করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলা ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হলেও সরেজমিন অনুসন্ধানে তার কোনো প্রমাণ মেলেনি। উল্টো তথাকথিত ছিনতাই হওয়া টাকার উৎস নিয়ে বাদীর দেওয়া বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি সাংবাদিকদের সামনেই মামলার ১ নম্বর সাক্ষীকে প্রকাশ্যে বাদীকে শাসাতে দেখা গেছে।

গত ৬ আগস্ট ভোলার দক্ষিণ আইচা থানায় মামলাটি করেন চর মানিকা ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম। এতে উত্তর চর মানিকা ও চর নুরুদ্দীন এলাকার ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ‘চর নুরুদ্দীন’ ও ‘উত্তর চর মানিকা’ মৌজার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এজাহারে বাদী দাবি করেন, বিবাদীরা তার মাছের খামারে তাণ্ডব চালিয়ে কলাগাছ কাটা, মাছ চুরি এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে কলাগাছ কাটা কিংবা খামার ভাঙচুরের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তদন্তে দেখা যায়, বাদী যেটিকে মাছের খামার দাবি করেছেন, সেটি মূলত ‘বুড়াগৌরাঙ্গ’ নদীর একটি অংশ। প্রায় পাঁচ বছর আগে নদীটিতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছের ঘেরে পরিণত করা হয়। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার ১ নম্বর সাক্ষী মো. মিজান জানান, এই জমির প্রকৃত মালিক আবুল হোসেন মিয়া। তিনি মালিকের প্রতিনিধি হিসেবে জমিটি দেখাশোনা করেন। ইব্রাহিম ৩৫ বছর ধরে লিজ নিয়ে চাষাবাদ করছেন - এমন দাবি সঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে বাদীর কাছে ছিনতাই হওয়া ৭০ হাজার টাকার উৎস জানতে চাওয়া হলে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইব্রাহিম কিছু বলার আগেই সাক্ষী মিজান তাকে ‘থাপ্পড়’ দেওয়ার হুমকি দিয়ে থামিয়ে দেন। পরে ইব্রাহিম দাবি করেন, তিনি আড়তদার কুদ্দুস মিয়ার কাছ থেকে ওই টাকা দাদন হিসেবে নিয়েছিলেন। তবে আড়তদার কুদ্দুস মিয়া এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ইব্রাহিম নামে কাউকে আমি চিনি না এবং কাউকে কোনো টাকা দিইনি।’

মামলায় অভিযুক্ত কৃষক আকবর সরদার বলেন, ‘আমাদের উচ্ছেদ ও হয়রানি করতে বানোয়াট গল্প সাজিয়ে নারীদেরও আসামি করা হয়েছে। বংশপরম্পরায় আমরা এই জমি চাষাবাদ করে আসছি।’

দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান কবির বলেন, ‘মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


সাজানো মামলায় কৃষক পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় দুই মৌজার সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি কৃষক পরিবারকে সাজানো মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রবহমান নদীকে ‘মাছের খামার’ দাবি করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলা ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হলেও সরেজমিন অনুসন্ধানে তার কোনো প্রমাণ মেলেনি। উল্টো তথাকথিত ছিনতাই হওয়া টাকার উৎস নিয়ে বাদীর দেওয়া বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি সাংবাদিকদের সামনেই মামলার ১ নম্বর সাক্ষীকে প্রকাশ্যে বাদীকে শাসাতে দেখা গেছে।

গত ৬ আগস্ট ভোলার দক্ষিণ আইচা থানায় মামলাটি করেন চর মানিকা ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম। এতে উত্তর চর মানিকা ও চর নুরুদ্দীন এলাকার ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ‘চর নুরুদ্দীন’ ও ‘উত্তর চর মানিকা’ মৌজার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এজাহারে বাদী দাবি করেন, বিবাদীরা তার মাছের খামারে তাণ্ডব চালিয়ে কলাগাছ কাটা, মাছ চুরি এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে কলাগাছ কাটা কিংবা খামার ভাঙচুরের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তদন্তে দেখা যায়, বাদী যেটিকে মাছের খামার দাবি করেছেন, সেটি মূলত ‘বুড়াগৌরাঙ্গ’ নদীর একটি অংশ। প্রায় পাঁচ বছর আগে নদীটিতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছের ঘেরে পরিণত করা হয়। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার ১ নম্বর সাক্ষী মো. মিজান জানান, এই জমির প্রকৃত মালিক আবুল হোসেন মিয়া। তিনি মালিকের প্রতিনিধি হিসেবে জমিটি দেখাশোনা করেন। ইব্রাহিম ৩৫ বছর ধরে লিজ নিয়ে চাষাবাদ করছেন - এমন দাবি সঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে বাদীর কাছে ছিনতাই হওয়া ৭০ হাজার টাকার উৎস জানতে চাওয়া হলে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইব্রাহিম কিছু বলার আগেই সাক্ষী মিজান তাকে ‘থাপ্পড়’ দেওয়ার হুমকি দিয়ে থামিয়ে দেন। পরে ইব্রাহিম দাবি করেন, তিনি আড়তদার কুদ্দুস মিয়ার কাছ থেকে ওই টাকা দাদন হিসেবে নিয়েছিলেন। তবে আড়তদার কুদ্দুস মিয়া এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ইব্রাহিম নামে কাউকে আমি চিনি না এবং কাউকে কোনো টাকা দিইনি।’

মামলায় অভিযুক্ত কৃষক আকবর সরদার বলেন, ‘আমাদের উচ্ছেদ ও হয়রানি করতে বানোয়াট গল্প সাজিয়ে নারীদেরও আসামি করা হয়েছে। বংশপরম্পরায় আমরা এই জমি চাষাবাদ করে আসছি।’

দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান কবির বলেন, ‘মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত