সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ পেয়ারাবাগান, সারি সারি আমড়াগাছ, আঁকাবাঁকা খাল আর নৌকায় বসা ব্যতিক্রমী ভাসমান হাট- প্রকৃতি ও কৃষির এমন অপূর্ব সমন্বয় খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়। পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা এমনই এক সম্ভাবনাময় জনপদ, যা পরিকল্পিত উদ্যোগ ও যথাযথ অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এ অঞ্চলের পেয়ারাচাষ শুধু স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ নয়, বর্তমানে এটি পর্যটনেরও বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। সরকারি পর্যটন তালিকায় কুড়িয়ানা পেয়ারাবাগান, আটঘর ভাসমান নৌকার হাট, আমড়াবাগান ও কুড়িয়ানা পেয়ারা বাজারকে ইতোমধ্যে পর্যটন স্পট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়ন ও আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের ২২টি গ্রামে শত শত হেক্টর জমিতে পেয়ারাবাগান রয়েছে। পেয়ারাবাগান ও ভাসমান হাটকে ঘিরে ইতোমধ্যে পর্যটকদের আনাগোনাও বেড়েছে। তবে পর্যটকদের জন্য আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা না থাকা এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব এখনো এ পর্যটন সম্ভাবনার বড় সীমাবদ্ধতা।
আটঘর-কুড়িয়ানাকে পরিকল্পিত পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রথমেই প্রয়োজন সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা। এ জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক আসাদ বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়ার ঈগল পার্কে গিয়েছি। সেখানের তুলনায় এ জায়গাটির সম্ভাবনা অনেক বেশি। এখানে হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পেয়ারাবাগান, আমড়াবাগান, ভাসমান হাট, খাল ও স্থানীয় ঐতিহ্য- সব মিলিয়ে এক কথায় অসাধারণ লাগছে। তবে এখানে বসে তাজা মাছ ধরে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে খুব ভালো হতো।’
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিজান গাজি বলেন, ‘২৫ বছর পর এখানে এসেছি। কিন্তু তেমন কোনো উন্নতি দেখছি না। পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে রাস্তা ও ঘাট সংস্কার, আধুনিক নৌযান ও নির্ধারিত নৌরুট চালু এবং নিরাপদ নৌঘাট প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য পরিচ্ছন্ন টয়লেট, বিশ্রামাগার, খাবারের জায়গা, বসার স্থান, পানীয় জলের ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এসব করা গেলে বিদেশি পর্যটকরাও এখানে বেশি আসবেন।’
মিজান গাজি আরও বলেন, ‘এ জন্য সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। খাল ও নদীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে দখল ও দূষণমুক্ত জলপথ নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট নৌভ্রমণ রুট চালু করে পেয়ারাবাগান ও আমড়াবাগানের ভেতর দিয়ে নৌ-ট্যুরের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’
পরিকল্পিত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ নৌভ্রমণ, আবাসন, পরিচ্ছন্নতা, পর্যটনসেবা ও ব্যাপক প্রচারণা নিশ্চিত করা গেলে আটঘর-কুড়িয়ানা শুধু পেয়ারার বাজার হিসেবে নয়, ‘পেয়ারার রাজ্য ও ভাসমান হাট’-কে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্বতন্ত্র পর্যটন ব্র্যান্ড হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি পেতে পারে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, ‘নেছারাবাদের পর্যটন এলাকা আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারাবাগান ও ভাসমান নৌকার হাটে যারা ভ্রমণে আসেন, তাদের থাকার জন্য আধুনিক ডাকবাংলা রয়েছে। ভালো মানের খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া পেয়ারাবাগানে যেসব পিকনিক স্পট রয়েছে, সেগুলোতেও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
অমিত দত্ত আরও বলেন, ‘আটঘর-কুড়িয়ানা পর্যটন এলাকা নিয়ে আমরা পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এখানে ভিজিট করতে আসবে বলে জানিয়েছে। পেয়ারার মৌসুম থাকে তিন মাস। এ সময়টাতেই এখানে মানুষের সমাগম বেশি হয়। পর্যটন এলাকাটি আরও উন্নত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সুদৃষ্টি রয়েছে।’

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ পেয়ারাবাগান, সারি সারি আমড়াগাছ, আঁকাবাঁকা খাল আর নৌকায় বসা ব্যতিক্রমী ভাসমান হাট- প্রকৃতি ও কৃষির এমন অপূর্ব সমন্বয় খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়। পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা এমনই এক সম্ভাবনাময় জনপদ, যা পরিকল্পিত উদ্যোগ ও যথাযথ অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এ অঞ্চলের পেয়ারাচাষ শুধু স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ নয়, বর্তমানে এটি পর্যটনেরও বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। সরকারি পর্যটন তালিকায় কুড়িয়ানা পেয়ারাবাগান, আটঘর ভাসমান নৌকার হাট, আমড়াবাগান ও কুড়িয়ানা পেয়ারা বাজারকে ইতোমধ্যে পর্যটন স্পট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়ন ও আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের ২২টি গ্রামে শত শত হেক্টর জমিতে পেয়ারাবাগান রয়েছে। পেয়ারাবাগান ও ভাসমান হাটকে ঘিরে ইতোমধ্যে পর্যটকদের আনাগোনাও বেড়েছে। তবে পর্যটকদের জন্য আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা না থাকা এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব এখনো এ পর্যটন সম্ভাবনার বড় সীমাবদ্ধতা।
আটঘর-কুড়িয়ানাকে পরিকল্পিত পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রথমেই প্রয়োজন সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা। এ জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক আসাদ বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়ার ঈগল পার্কে গিয়েছি। সেখানের তুলনায় এ জায়গাটির সম্ভাবনা অনেক বেশি। এখানে হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পেয়ারাবাগান, আমড়াবাগান, ভাসমান হাট, খাল ও স্থানীয় ঐতিহ্য- সব মিলিয়ে এক কথায় অসাধারণ লাগছে। তবে এখানে বসে তাজা মাছ ধরে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে খুব ভালো হতো।’
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিজান গাজি বলেন, ‘২৫ বছর পর এখানে এসেছি। কিন্তু তেমন কোনো উন্নতি দেখছি না। পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে রাস্তা ও ঘাট সংস্কার, আধুনিক নৌযান ও নির্ধারিত নৌরুট চালু এবং নিরাপদ নৌঘাট প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য পরিচ্ছন্ন টয়লেট, বিশ্রামাগার, খাবারের জায়গা, বসার স্থান, পানীয় জলের ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এসব করা গেলে বিদেশি পর্যটকরাও এখানে বেশি আসবেন।’
মিজান গাজি আরও বলেন, ‘এ জন্য সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। খাল ও নদীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে দখল ও দূষণমুক্ত জলপথ নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট নৌভ্রমণ রুট চালু করে পেয়ারাবাগান ও আমড়াবাগানের ভেতর দিয়ে নৌ-ট্যুরের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’
পরিকল্পিত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ নৌভ্রমণ, আবাসন, পরিচ্ছন্নতা, পর্যটনসেবা ও ব্যাপক প্রচারণা নিশ্চিত করা গেলে আটঘর-কুড়িয়ানা শুধু পেয়ারার বাজার হিসেবে নয়, ‘পেয়ারার রাজ্য ও ভাসমান হাট’-কে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্বতন্ত্র পর্যটন ব্র্যান্ড হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি পেতে পারে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, ‘নেছারাবাদের পর্যটন এলাকা আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারাবাগান ও ভাসমান নৌকার হাটে যারা ভ্রমণে আসেন, তাদের থাকার জন্য আধুনিক ডাকবাংলা রয়েছে। ভালো মানের খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া পেয়ারাবাগানে যেসব পিকনিক স্পট রয়েছে, সেগুলোতেও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
অমিত দত্ত আরও বলেন, ‘আটঘর-কুড়িয়ানা পর্যটন এলাকা নিয়ে আমরা পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এখানে ভিজিট করতে আসবে বলে জানিয়েছে। পেয়ারার মৌসুম থাকে তিন মাস। এ সময়টাতেই এখানে মানুষের সমাগম বেশি হয়। পর্যটন এলাকাটি আরও উন্নত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সুদৃষ্টি রয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন