সংবাদ

পাহাড়ি ঢলে ভরাট সাতছড়ির পুকুর, সংকটে বন্যপ্রাণী


প্রতিনিধি, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
প্রতিনিধি, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

পাহাড়ি ঢলে ভরাট সাতছড়ির পুকুর, সংকটে বন্যপ্রাণী
ছবি : সংবাদ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণীদের পানীয় জলের প্রধান উৎসগুলো পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও বালু জমে বনের সবচেয়ে বড় পুকুরটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে বন্যপ্রাণীর পানির সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্যানের ভেতর বন্যপ্রাণীর গোসল ও পানি পানের জন্য তিনটি পুকুর রয়েছে। সাম্প্রতিক বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে প্রধান পুকুরটি বালু জমে পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। আরেকটি পুকুরের পাড় ভেঙে পানি বেরিয়ে যাওয়ায় সেটিও এখন ব্যবহার অনুপযোগী। এর ফলে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসার ঝুঁকিতে রয়েছে।

চুনারুঘাট জীববৈচিত্র্য বন্যপ্রাণী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জাহির মিয়া বলেন, ‘বড় পুকুরটি বন্যপ্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত এটি পুনঃখনন করা না হলে শীত মৌসুমে প্রাণীরা পানির অভাবে মারা যেতে পারে বা লোকালয়ে চলে এসে মানুষের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে পারে।’

পরিবেশকর্মী তোফাজ্জল সোহেল জানান, গত মে মাসে বড় পুকুরের পাড় ভেঙে যায়। তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জলাধারগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

উদ্যান সংশ্লিষ্টরা জানান, ২৪৩ হেক্টরের এই বনে ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং ১৯৭ প্রজাতির পাখি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লুক, চশমাপড়া হনুমান ও মায়া হরিণের মতো বিপন্ন প্রাণীও আছে। পানির উৎস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এসব প্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। পুকুর পুনঃখননের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুকুরটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের সংগঠন ‘শখের ছবিয়াল’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন বিভাগ অনুমতি দিলে তারা নিজস্ব অর্থায়নেই পুকুরটি সংস্কার করতে আগ্রহী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


পাহাড়ি ঢলে ভরাট সাতছড়ির পুকুর, সংকটে বন্যপ্রাণী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণীদের পানীয় জলের প্রধান উৎসগুলো পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও বালু জমে বনের সবচেয়ে বড় পুকুরটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে বন্যপ্রাণীর পানির সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্যানের ভেতর বন্যপ্রাণীর গোসল ও পানি পানের জন্য তিনটি পুকুর রয়েছে। সাম্প্রতিক বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে প্রধান পুকুরটি বালু জমে পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। আরেকটি পুকুরের পাড় ভেঙে পানি বেরিয়ে যাওয়ায় সেটিও এখন ব্যবহার অনুপযোগী। এর ফলে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসার ঝুঁকিতে রয়েছে।

চুনারুঘাট জীববৈচিত্র্য বন্যপ্রাণী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জাহির মিয়া বলেন, ‘বড় পুকুরটি বন্যপ্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত এটি পুনঃখনন করা না হলে শীত মৌসুমে প্রাণীরা পানির অভাবে মারা যেতে পারে বা লোকালয়ে চলে এসে মানুষের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে পারে।’

পরিবেশকর্মী তোফাজ্জল সোহেল জানান, গত মে মাসে বড় পুকুরের পাড় ভেঙে যায়। তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জলাধারগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

উদ্যান সংশ্লিষ্টরা জানান, ২৪৩ হেক্টরের এই বনে ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং ১৯৭ প্রজাতির পাখি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লুক, চশমাপড়া হনুমান ও মায়া হরিণের মতো বিপন্ন প্রাণীও আছে। পানির উৎস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এসব প্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। পুকুর পুনঃখননের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুকুরটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের সংগঠন ‘শখের ছবিয়াল’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন বিভাগ অনুমতি দিলে তারা নিজস্ব অর্থায়নেই পুকুরটি সংস্কার করতে আগ্রহী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত