পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইউরোপ ও পশ্চিমা দেশগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় মারাত্মকভাবে সময় ও অর্থ খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতের। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বিকল্প রুট হিসেবে চীনের সিনকিয়াং প্রদেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হোটান এলাকার আকাশপথ ব্যবহারের জন্য বেইজিংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি চেয়েছে নয়াদিল্লি।
বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আলোচনার প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত চীনের তরফ থেকে কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাম হামলার জেরে পাকিস্তান ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য তাদের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়, যার জবাবে ভারতও পাকিস্তানি বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ভারতের বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে অতিরিক্ত পথ ঘুরে দীর্ঘ সময় ও বেশি জ্বালানি পুড়িয়ে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনায় পাকিস্তান তাদের এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করায় ভারতীয় এয়ারলাইনগুলোর আর্থিক ক্ষতি আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভারতের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ার ইন্ডিয়া এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কেবল এক বছরেই তাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি ডলারে ঠেকতে পারে।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত বিকল্প রুট হিসেবে চীনের হোটানের আকাশপথ ব্যবহার করা গেলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ রুপি সাশ্রয় করা সম্ভব। বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের কারণে ইতিমধ্যেই নিউইয়র্ক, ভ্যাঙ্কুভার ও ওয়াশিংটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে চীনের কাছ থেকে এই অনুমোদন পাওয়া ভারতের জন্য বেশ বড় একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী ভারতীয় বিমানগুলোকে লাদাখের লেহ হয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল চীনা আকাশসীমায় প্রবেশ করতে হবে এবং জরুরি অবতরণের ক্ষেত্রে উরুমচি বা কাশগরের মতো দুর্গম অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে।
এ রকম স্পর্শকাতর নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয় থাকা সত্ত্বেও ভারত-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক বরফ গলতে শুরু করায় নতুন আশার আলো দেখছে নয়াদিল্লি। ২০২০ সালের গলওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘ টানাপোড়েন চললেও বর্তমানে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইতিবাচক উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে। সম্প্রতি দুই দেশের বিভিন্ন বিমান সংস্থা একাধিক নতুন রুট চালুর মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্র প্রসারিত করেছে।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইউরোপ ও পশ্চিমা দেশগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় মারাত্মকভাবে সময় ও অর্থ খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতের। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বিকল্প রুট হিসেবে চীনের সিনকিয়াং প্রদেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হোটান এলাকার আকাশপথ ব্যবহারের জন্য বেইজিংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি চেয়েছে নয়াদিল্লি।
বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আলোচনার প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত চীনের তরফ থেকে কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাম হামলার জেরে পাকিস্তান ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য তাদের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়, যার জবাবে ভারতও পাকিস্তানি বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ভারতের বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে অতিরিক্ত পথ ঘুরে দীর্ঘ সময় ও বেশি জ্বালানি পুড়িয়ে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনায় পাকিস্তান তাদের এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করায় ভারতীয় এয়ারলাইনগুলোর আর্থিক ক্ষতি আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভারতের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ার ইন্ডিয়া এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কেবল এক বছরেই তাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি ডলারে ঠেকতে পারে।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত বিকল্প রুট হিসেবে চীনের হোটানের আকাশপথ ব্যবহার করা গেলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ রুপি সাশ্রয় করা সম্ভব। বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের কারণে ইতিমধ্যেই নিউইয়র্ক, ভ্যাঙ্কুভার ও ওয়াশিংটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে চীনের কাছ থেকে এই অনুমোদন পাওয়া ভারতের জন্য বেশ বড় একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী ভারতীয় বিমানগুলোকে লাদাখের লেহ হয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল চীনা আকাশসীমায় প্রবেশ করতে হবে এবং জরুরি অবতরণের ক্ষেত্রে উরুমচি বা কাশগরের মতো দুর্গম অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে।
এ রকম স্পর্শকাতর নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয় থাকা সত্ত্বেও ভারত-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক বরফ গলতে শুরু করায় নতুন আশার আলো দেখছে নয়াদিল্লি। ২০২০ সালের গলওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘ টানাপোড়েন চললেও বর্তমানে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইতিবাচক উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে। সম্প্রতি দুই দেশের বিভিন্ন বিমান সংস্থা একাধিক নতুন রুট চালুর মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্র প্রসারিত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন