সংবাদ

মানবদেহের ১২ ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি বন্ধে হার্ডলাইনে সরকার


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

মানবদেহের ১২ ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি বন্ধে হার্ডলাইনে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

  • মাঠে ৭ সদস্যের জাতীয় কমিটি
  • নিয়ম ভাঙলেই আবেদন বাতিল
  • দালাল চক্রের খপ্পর থেকে রক্ষায় সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

কিডনিসহ মানবদেহের ১২ ধরনের মূল্যবান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবৈধ উপায়ে বেচাকেনা বন্ধ করতে এবার অত্যন্ত কঠোর বা হার্ডলাইনে চলে গেছে সরকার। টাকার লোভে পড়ে দেশের বহু দরিদ্র ও অসহায় মানুষ গোপনে নিজেদের কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।

অনেক ক্ষেত্রে দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে দরিদ্র দাতা কিডনি দানের পর প্রতিশ্রুত টাকা না পেয়ে মারাত্মক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে কিডনি বিক্রির পর দালালরা দাতাকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে সেই হতভাগ্য ব্যক্তি দেশে ফিরে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় নিজের কষ্টের করুণ কাহিনী তুলে ধরেন।

বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসে নীতিনির্ধারণী মহল। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে সরকার গত বছরের নভেম্বর মাসে এই অমানবিক বাণিজ্য বন্ধে যুগান্তকারী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে চলতি বছরেই জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর এই সংক্রান্ত যুগান্তকারী আইনটি সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

আইন প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নিঃস্বার্থবাদী দাতা হিসেবে সঠিক ও স্বচ্ছ উপায়ে অনুমতি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপ-উপাচার্য প্রফেসর ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদারকে সভাপতি করে একটি শক্তিশালী ৭ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিনিধি, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদর দপ্তরের একজন অতিরিক্ত আইজিপি।

নবগঠিত এই জাতীয় কমিটির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সম্পূর্ণ সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত নিঃস্বার্থবাদী দাতা নির্ধারণ করা, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন বা জালিয়াতি হতে না পারে। অঙ্গদান কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য এই কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। যদি কোনো আবেদনকারীর কাগজপত্র বা জবাব সন্তোষজনক না হয়, তবে বিশেষজ্ঞ কমিটি সেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অবৈধ সুপারিশ, তদবির কিংবা অনিয়ম করার ছিটেফোঁটাও সুযোগ রাখা হয়নি। আগ্রহী দাতাদের নির্দিষ্ট আবেদন ফরম সংগ্রহ করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রুম নম্বর ১২৩ (ব্লক-বি) বরাবর পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়া এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আবেদন ফরম স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটেও সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।

কমিটির সম্মানিত সভাপতি প্রফেসর ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার তার কার্যালয়ে একান্ত আলাপকালে জানান যে, মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন অনুযায়ী তারা বর্তমানে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। এই আইনের আওতায় কিডনি, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, অন্ত্র, লিভার বা যকৃত, অগ্ন্যাশয়, অস্থি, অস্থিমজ্জা, চক্ষু, চর্ম, টিস্যু এবং জরায়ুসহ মোট ১২ ধরনেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আইন বাস্তবায়নের পর ইতিমধ্যে কমিটি বেশ কয়েকটি সফল বৈঠক সম্পন্ন করেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, কিডনিসহ যেকোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানে সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দিতে হয়। এরপর প্রাথমিক পর্যায়ে আবেদনপত্রগুলোর কাগজপত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রাথমিক যাচাই শেষে আবেদন ফরম কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং নিঃস্বার্থ দাতা ও গ্রহীতা উভয়কেই সশরীরে কমিটির সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে তাদের উভয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া সন্তোষজনক প্রমাণিত হলেই কেবল আবেদনটি গ্রহণ করে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আর যদি সাক্ষ্য সন্তোষজনক না হয়, তবে আবেদনটি সরাসরি বাতিল করা হয় কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে সংশোধনের জন্য লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

আবেদনের সত্যতা এবং দাতা-গ্রহীতার দেওয়া তথ্য কতটা নির্ভুল তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত কঠোর তদন্তের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশের দেওয়া গোপন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগৃহীত আবেদনপত্রগুলো নিয়ে পরবর্তীতে পুনরায় বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রামপর্যায়ে পুলিশের বিশেষ তদন্ত টিমের চৌকস কর্মকর্তারা সরাসরি সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানকারী দাতা ও গ্রহীতার পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান ও খোঁজখবর নেন।

কিডনি দানে গোপনে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা কড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়। ঠিক কী কারণে দাতা নিজের অমূল্য অঙ্গটি অন্য কাউকে দিতে চাচ্ছেন, তার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে তদন্তকারী দলকে দ্রুত কমিটির বরাবর প্রতিবেদন পাঠাতে হয়। শুধু তাই নয়, দাতা কিংবা গ্রহীতা কোনো ধরনের মাদকাসক্ত কি না, সেটিও ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘ ও জটিল এই পরীক্ষার প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই কেবল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হয়।

চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তারা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সরকারের তরফ থেকে অনুমোদিত যেকোনো ভালো হাসপাতালে গিয়ে নিরাপদভাবে অঙ্গ দান করতে পারেন। বর্তমানে এই ৭ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটির কাছে পাঠানো বিভিন্ন আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে শতাধিক ব্যক্তির কিডনি দানের আইনগত অনুমতি প্রদান করা হয়েছে এবং আরও বহু আবেদন বর্তমানে অনুমোদনের প্রক্রিয়ধীন রয়েছে। এর বাইরেও একাডেমি ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে ছয় শতাধিক সফল কিডনি দান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

জাতীয় সংসদের পাসকৃত আইন এবং গত ১০ এপ্রিল প্রকাশিত গেজেটে দাতা হওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী নিকটাত্মীয় যেমন পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন, স্বামী, স্ত্রী এবং রক্তের সম্পর্কের আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা, নানা, নানি, দাদা, দাদি, নাতি, নাতনি, আপন চাচাতো, মামাতো, ফুফুতো, খালাতো ভাই বা বোন, ভাতিজা, ভাতিজি, ভাগ্নে, ভাগ্নী এবং সৎ ভাই বা বোন অঙ্গ দান করতে পারবেন।

পাশাপাশি আইনের বিধান অনুযায়ী 'নিঃস্বার্থবাদী দাতা' হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি রক্ত বা জন্মসূত্রে কোনো নিকটাত্মীয় না হওয়া সত্ত্বেও গ্রহীতার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক বা পরিচয়ের জেরে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে নিজের শরীরের কোনো অঙ্গ গ্রহীতাকে দান করার মহান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তবে চাইলেই যেকোনো হাসপাতাল যত্রতত্র অঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না। সরকার কর্তৃক সুনির্দিষ্ট অনুমতি গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করা সম্ভব।

কোনো হাসপাতাল মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে ইচ্ছুক হলে তাদেরকে যথাযথ বিধিমালা ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরকারের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হয়। সরকারের তরফ থেকে সেই আবেদন বাধ্যতামূলকভাবে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার আইনি বিধান রয়েছে।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা হিসেবে উপযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট বয়স ও স্বাস্থ্যগত মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ব্রেইন ডেথ বা মৃত ঘোষিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের বয়সসীমা ২ বছর থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আর জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে দাতার বয়স ১৮ বছর থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হওয়া আবশ্যক। তবে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজনে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শে দাতার বয়সসীমা কিছুটা শিথিলযোগ্য করা যেতে পারে।

ব্যক্তির মৃত্যুর আগে যদি তার পক্ষ থেকে অঙ্গ দানে কোনো ধরনের লিখিত আপত্তি না থাকে এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা কোনো কারণে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা না থাকে, তবেই তা বিবেচনা করা হয়। দাতার চক্ষু, অস্থিমজ্জা ও লিভার বা যকৃত প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্র ব্যতিরেকে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই এইচবিএসএজি, অ্যান্টি এইচসিভি কিংবা এইচআইভি পজিটিভ থাকা চলবে না।

এছাড়াও কোনো মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে সম্পূর্ণ অযোগ্য বলে ঘোষণা করা না হয়ে থাকে, তবেই তিনি দাতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। পক্ষান্তরে, কোনো ব্যক্তি যদি মাদকাসক্ত হন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য বা আর্থিক প্রলোভনে পড়ে অঙ্গ দানে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, কিংবা এমন কোনো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত থাকেন যা তাকে সাধারণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা হিসেবে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত করে তোলে, তবে তাকে দাতা হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।

নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শুধুমাত্র জাতীয় কমিটিই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিটি হাসপাতালেও একটি করে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ওই মেডিকেল বোর্ডে অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও একজন সার্জারি বিশেষজ্ঞসহ অন্তত দুজন এবং ন্যূনতম সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বাধ্যতামূলকভাবে থাকবেন। প্রয়োজনে এই বোর্ড আরও তিনজন সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার চিকিৎসককে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

এই মেডিকেল বোর্ডের মূল কার্যকারিতা হলো রোগীর শরীরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করা। এছাড়া ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির দেহ থেকে নিরাপদে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ এবং তা জীবিত দেহে সফলভাবে সংযোজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই বোর্ডই গ্রহণ করবে। চিকিৎসকদের অত্যন্ত কঠোর এই নিয়মগুলো মেনেই এখন থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান ও সংযোজন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

এই সংক্রান্ত সমস্ত নির্দেশনা দেশের সকল হাসপাতালে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণায়ের সেবা বিভাগ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে; যার অনুলিপি সকল হাসপাতাল, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মানবদেহের ১২ ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি বন্ধে হার্ডলাইনে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

  • মাঠে ৭ সদস্যের জাতীয় কমিটি
  • নিয়ম ভাঙলেই আবেদন বাতিল
  • দালাল চক্রের খপ্পর থেকে রক্ষায় সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

কিডনিসহ মানবদেহের ১২ ধরনের মূল্যবান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবৈধ উপায়ে বেচাকেনা বন্ধ করতে এবার অত্যন্ত কঠোর বা হার্ডলাইনে চলে গেছে সরকার। টাকার লোভে পড়ে দেশের বহু দরিদ্র ও অসহায় মানুষ গোপনে নিজেদের কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।

অনেক ক্ষেত্রে দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে দরিদ্র দাতা কিডনি দানের পর প্রতিশ্রুত টাকা না পেয়ে মারাত্মক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে কিডনি বিক্রির পর দালালরা দাতাকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে সেই হতভাগ্য ব্যক্তি দেশে ফিরে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় নিজের কষ্টের করুণ কাহিনী তুলে ধরেন।

বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসে নীতিনির্ধারণী মহল। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে সরকার গত বছরের নভেম্বর মাসে এই অমানবিক বাণিজ্য বন্ধে যুগান্তকারী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে চলতি বছরেই জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর এই সংক্রান্ত যুগান্তকারী আইনটি সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

আইন প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নিঃস্বার্থবাদী দাতা হিসেবে সঠিক ও স্বচ্ছ উপায়ে অনুমতি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপ-উপাচার্য প্রফেসর ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদারকে সভাপতি করে একটি শক্তিশালী ৭ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিনিধি, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদর দপ্তরের একজন অতিরিক্ত আইজিপি।

নবগঠিত এই জাতীয় কমিটির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সম্পূর্ণ সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত নিঃস্বার্থবাদী দাতা নির্ধারণ করা, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন বা জালিয়াতি হতে না পারে। অঙ্গদান কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য এই কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। যদি কোনো আবেদনকারীর কাগজপত্র বা জবাব সন্তোষজনক না হয়, তবে বিশেষজ্ঞ কমিটি সেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অবৈধ সুপারিশ, তদবির কিংবা অনিয়ম করার ছিটেফোঁটাও সুযোগ রাখা হয়নি। আগ্রহী দাতাদের নির্দিষ্ট আবেদন ফরম সংগ্রহ করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রুম নম্বর ১২৩ (ব্লক-বি) বরাবর পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়া এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আবেদন ফরম স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটেও সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।

কমিটির সম্মানিত সভাপতি প্রফেসর ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার তার কার্যালয়ে একান্ত আলাপকালে জানান যে, মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন অনুযায়ী তারা বর্তমানে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। এই আইনের আওতায় কিডনি, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, অন্ত্র, লিভার বা যকৃত, অগ্ন্যাশয়, অস্থি, অস্থিমজ্জা, চক্ষু, চর্ম, টিস্যু এবং জরায়ুসহ মোট ১২ ধরনেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আইন বাস্তবায়নের পর ইতিমধ্যে কমিটি বেশ কয়েকটি সফল বৈঠক সম্পন্ন করেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, কিডনিসহ যেকোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানে সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দিতে হয়। এরপর প্রাথমিক পর্যায়ে আবেদনপত্রগুলোর কাগজপত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রাথমিক যাচাই শেষে আবেদন ফরম কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং নিঃস্বার্থ দাতা ও গ্রহীতা উভয়কেই সশরীরে কমিটির সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে তাদের উভয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া সন্তোষজনক প্রমাণিত হলেই কেবল আবেদনটি গ্রহণ করে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আর যদি সাক্ষ্য সন্তোষজনক না হয়, তবে আবেদনটি সরাসরি বাতিল করা হয় কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে সংশোধনের জন্য লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

আবেদনের সত্যতা এবং দাতা-গ্রহীতার দেওয়া তথ্য কতটা নির্ভুল তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত কঠোর তদন্তের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশের দেওয়া গোপন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগৃহীত আবেদনপত্রগুলো নিয়ে পরবর্তীতে পুনরায় বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রামপর্যায়ে পুলিশের বিশেষ তদন্ত টিমের চৌকস কর্মকর্তারা সরাসরি সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানকারী দাতা ও গ্রহীতার পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান ও খোঁজখবর নেন।

কিডনি দানে গোপনে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা কড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়। ঠিক কী কারণে দাতা নিজের অমূল্য অঙ্গটি অন্য কাউকে দিতে চাচ্ছেন, তার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে তদন্তকারী দলকে দ্রুত কমিটির বরাবর প্রতিবেদন পাঠাতে হয়। শুধু তাই নয়, দাতা কিংবা গ্রহীতা কোনো ধরনের মাদকাসক্ত কি না, সেটিও ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘ ও জটিল এই পরীক্ষার প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই কেবল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হয়।

চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তারা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সরকারের তরফ থেকে অনুমোদিত যেকোনো ভালো হাসপাতালে গিয়ে নিরাপদভাবে অঙ্গ দান করতে পারেন। বর্তমানে এই ৭ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটির কাছে পাঠানো বিভিন্ন আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে শতাধিক ব্যক্তির কিডনি দানের আইনগত অনুমতি প্রদান করা হয়েছে এবং আরও বহু আবেদন বর্তমানে অনুমোদনের প্রক্রিয়ধীন রয়েছে। এর বাইরেও একাডেমি ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে ছয় শতাধিক সফল কিডনি দান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

জাতীয় সংসদের পাসকৃত আইন এবং গত ১০ এপ্রিল প্রকাশিত গেজেটে দাতা হওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী নিকটাত্মীয় যেমন পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন, স্বামী, স্ত্রী এবং রক্তের সম্পর্কের আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা, নানা, নানি, দাদা, দাদি, নাতি, নাতনি, আপন চাচাতো, মামাতো, ফুফুতো, খালাতো ভাই বা বোন, ভাতিজা, ভাতিজি, ভাগ্নে, ভাগ্নী এবং সৎ ভাই বা বোন অঙ্গ দান করতে পারবেন।

পাশাপাশি আইনের বিধান অনুযায়ী 'নিঃস্বার্থবাদী দাতা' হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি রক্ত বা জন্মসূত্রে কোনো নিকটাত্মীয় না হওয়া সত্ত্বেও গ্রহীতার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক বা পরিচয়ের জেরে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে নিজের শরীরের কোনো অঙ্গ গ্রহীতাকে দান করার মহান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তবে চাইলেই যেকোনো হাসপাতাল যত্রতত্র অঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না। সরকার কর্তৃক সুনির্দিষ্ট অনুমতি গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করা সম্ভব।

কোনো হাসপাতাল মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে ইচ্ছুক হলে তাদেরকে যথাযথ বিধিমালা ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরকারের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হয়। সরকারের তরফ থেকে সেই আবেদন বাধ্যতামূলকভাবে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার আইনি বিধান রয়েছে।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা হিসেবে উপযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট বয়স ও স্বাস্থ্যগত মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ব্রেইন ডেথ বা মৃত ঘোষিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের বয়সসীমা ২ বছর থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আর জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে দাতার বয়স ১৮ বছর থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হওয়া আবশ্যক। তবে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজনে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শে দাতার বয়সসীমা কিছুটা শিথিলযোগ্য করা যেতে পারে।

ব্যক্তির মৃত্যুর আগে যদি তার পক্ষ থেকে অঙ্গ দানে কোনো ধরনের লিখিত আপত্তি না থাকে এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা কোনো কারণে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা না থাকে, তবেই তা বিবেচনা করা হয়। দাতার চক্ষু, অস্থিমজ্জা ও লিভার বা যকৃত প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্র ব্যতিরেকে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই এইচবিএসএজি, অ্যান্টি এইচসিভি কিংবা এইচআইভি পজিটিভ থাকা চলবে না।

এছাড়াও কোনো মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে সম্পূর্ণ অযোগ্য বলে ঘোষণা করা না হয়ে থাকে, তবেই তিনি দাতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। পক্ষান্তরে, কোনো ব্যক্তি যদি মাদকাসক্ত হন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য বা আর্থিক প্রলোভনে পড়ে অঙ্গ দানে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, কিংবা এমন কোনো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত থাকেন যা তাকে সাধারণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা হিসেবে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত করে তোলে, তবে তাকে দাতা হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।

নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শুধুমাত্র জাতীয় কমিটিই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিটি হাসপাতালেও একটি করে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ওই মেডিকেল বোর্ডে অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও একজন সার্জারি বিশেষজ্ঞসহ অন্তত দুজন এবং ন্যূনতম সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বাধ্যতামূলকভাবে থাকবেন। প্রয়োজনে এই বোর্ড আরও তিনজন সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার চিকিৎসককে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

এই মেডিকেল বোর্ডের মূল কার্যকারিতা হলো রোগীর শরীরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করা। এছাড়া ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির দেহ থেকে নিরাপদে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ এবং তা জীবিত দেহে সফলভাবে সংযোজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই বোর্ডই গ্রহণ করবে। চিকিৎসকদের অত্যন্ত কঠোর এই নিয়মগুলো মেনেই এখন থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান ও সংযোজন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

এই সংক্রান্ত সমস্ত নির্দেশনা দেশের সকল হাসপাতালে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণায়ের সেবা বিভাগ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে; যার অনুলিপি সকল হাসপাতাল, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত