নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের বিলগুলো একসময় শরতের আগমনে লাল শাপলার রক্তিম আভায় ভরে উঠত। তবে অযত্ন আর মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের কারণে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিল থেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে শাপলা তুলে ফেলায় শরতের এই চিরচেনা রূপ এখন অস্তিত্ব সংকটে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জিনারদী ইউনিয়নের চাতৈল বিল, রাবান বিল, উত্তর চন্দনের বিল, বাদাতলি বিল, শাটিকা বিল, করইতলা বিল, বরাব বিল, বরিবাড়ি বিল, কোটানটেকের বিল ও গইর বিলে প্রতিবছর বর্ষার শেষে লাল শাপলা ফুটতে শুরু করে। এই মোহনীয় দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। তবে শাপলা ফোটার কয়েক দিনের মধ্যেই একশ্রেণির বিক্রেতা এবং দর্শনার্থীরা তা তুলে ফেলছেন। ফলে বিলের সৌন্দর্য কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সুকুমল ভদ্র বলেন, ‘আগে জিনারদীর প্রায় সব বিলে লাল ও সাদা শাপলা ফুটে থাকত। এখন আগের মতো আর দেখা যায় না। ফুল ফোটার আগেই মানুষ তুলে নিয়ে বাজারে বিক্রি করে দেয়।’ আতশীপাড়া গ্রামের প্রমিত ভক্ত ও কুড়াইতলীর অপু সেন জানান, রাবান ও কুড়াইতলীর মাঝামাঝি একটি বড় বিল ছিল, যা একসময় ‘পদ্ম বিল’ নামে পরিচিত ছিল। এখন মানুষ একে ‘মরা পদ্ম বিল’ বলে ডাকে, কারণ সেখানে আর পদ্ম বা শাপলা ফোটে না।
এসব বিলে বর্ষার মৌসুমে দর্শনার্থীদের ঘোরার জন্য কিছু স্থানীয় মানুষ নৌকা চালিয়ে আয় করেন। তবে একই সঙ্গে শাপলা তোলার উৎসবও চলে। চামড়াব গ্রামের একটি বিলে দেখা গেছে, তালগাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি ‘কোন্দা’ নিয়ে মানুষ শাপলা তুলে আনছেন বাজারে বিক্রি করার জন্য।
সচেতন মহলের মতে, জিনারদীর এই লাল ও সাদা শাপলা রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বিলের এই সৌন্দর্য কেবল গল্প হয়েই থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন