কলকাতায় আনন্দবাজার পত্রিকার দপ্তরের সামনে গেরুয়া পোশাকধারীদের বিক্ষোভ এবং ভবনের প্রবেশপথের স্তম্ভে গেরুয়া রং লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি সংবাদ প্রতিবেদনের শিরোনাম নিয়ে আপত্তি থেকেই ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত।
বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহল, সাংবাদিক সংগঠন এবং প্রশাসনের পাশাপাশি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে একটি সংবাদশিরোনামকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অনুভূতি, প্রতিবাদের অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা—এই একাধিক প্রশ্নকে সামনে এনেছে।
ঘটনার সূত্রপাত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনামকে কেন্দ্র করে। প্রতিবেদনে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দবন্ধ ব্যবহৃত হওয়ায় বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ও হিন্দুত্ববাদী মহলের একাংশ আপত্তি জানায়। তাদের বক্তব্য, ‘গেরুয়া’ শব্দটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে এবং সেটিকে ‘গুন্ডামি’র সঙ্গে যুক্ত করা আপত্তিকর।
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা মহলের বক্তব্য, কোনও প্রতিবেদন বা শিরোনাম নিয়ে আপত্তি থাকলে তার জবাব দেওয়ার জন্য আইনি ও গণতান্ত্রিক পথ রয়েছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই গত ২৭ আগস্ট বউবাজার থানায় আনন্দবাজারের সম্পাদকীয় দলের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর ২৯ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে আনন্দবাজার পত্রিকাকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তিনি গেরুয়া রং নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার না করার কথাও বলেন। তার বক্তব্যের পরেই বিষয়টি আরও রাজনৈতিক মাত্রা পায় এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এরপর ১ সেপ্টেম্বর কলকাতার প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে আনন্দবাজার পত্রিকার দপ্তরের সামনে গেরুয়া পোশাক ও পাগড়ি পরিহিত একদল ব্যক্তি বিক্ষোভ দেখান। তারা সংবাদপত্রের প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে স্লোগান দেন। বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন দপ্তরের প্রবেশপথের দুটি স্তম্ভে গেরুয়া রং লাগিয়ে দেন। প্রায় আধঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যান। পরে সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষ স্তম্ভগুলির গেরুয়া রং মুছে আগের রং ফিরিয়ে দেয়।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও রং লাগানোর সময় কার্যকরভাবে বাধা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে সংবাদমাধ্যমের দপ্তরের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর সাংবাদিক সংগঠনগুলির একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রতিবেদন বা শিরোনাম নিয়ে আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই আপত্তির সমাধান হওয়া উচিত যুক্তি, প্রতিবাদ, পাল্টা বক্তব্য কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। সংবাদমাধ্যমের দপ্তরের সামনে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়, যাতে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জানান, আনন্দবাজারের দপ্তরের সামনে যে বিক্ষোভ হয়েছে, তার সঙ্গে বিজেপির কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের দপ্তরে এ ধরনের আচরণকে দল সমর্থন করে না বলেও তিনি জানান। তবে ‘গেরুয়া’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে যে আপত্তি তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এখনও আলোচনার বিষয়।
এই ঘটনাপ্রবাহের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আইনি প্রক্রিয়া। আনন্দবাজারের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংবাদিকরা পুলিশের নোটিস অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। শুনানির সময় সংবাদপত্রের দপ্তরের সামনে গেরুয়া রং লাগানোর ঘটনাটিও আদালতের নজরে আনা হয়।
ফলে বর্তমানে পুরো বিষয়টি তিনটি পৃথক স্তরে এগোচ্ছে। প্রথমত, সংবাদ প্রতিবেদনের শিরোনাম নিয়ে আপত্তি এবং তার আইনি প্রক্রিয়া; দ্বিতীয়ত, আনন্দবাজারের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ ও ভবনের স্তম্ভে গেরুয়া রং লাগানোর ঘটনা; এবং তৃতীয়ত, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের গ্রহণযোগ্য সীমা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক।
একদিকে, কোনও সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভাষা নিয়ে পাঠক বা কোনও সংগঠনের আপত্তি জানানোর অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমেরও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ এবং প্রতিবেদন প্রকাশের অধিকার রয়েছে। একইভাবে প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সেই প্রতিবাদ আইন ও শান্তিপূর্ণতার সীমার মধ্যে থাকা উচিত—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
আনন্দবাজারের দপ্তরের স্তম্ভ থেকে গেরুয়া রং পরে মুছে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি যে প্রশ্নগুলি সামনে এনেছে, সেগুলি এখনও রয়ে গেছে। কোনও সংবাদশিরোনাম নিয়ে আপত্তি তৈরি হলে তার সমাধানের উপযুক্ত পথ কী, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব কোথায়, প্রতিবাদের সীমা কতটা এবং সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত—এই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের নিষ্পত্তি রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, বরং তথ্য, তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই হওয়া প্রয়োজন। কারণ ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট সংবাদশিরোনামকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও এর প্রভাব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের বৃহত্তর পরিসর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কলকাতায় আনন্দবাজার পত্রিকার দপ্তরের সামনে গেরুয়া পোশাকধারীদের বিক্ষোভ এবং ভবনের প্রবেশপথের স্তম্ভে গেরুয়া রং লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি সংবাদ প্রতিবেদনের শিরোনাম নিয়ে আপত্তি থেকেই ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত।
বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহল, সাংবাদিক সংগঠন এবং প্রশাসনের পাশাপাশি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে একটি সংবাদশিরোনামকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অনুভূতি, প্রতিবাদের অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা—এই একাধিক প্রশ্নকে সামনে এনেছে।
ঘটনার সূত্রপাত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনামকে কেন্দ্র করে। প্রতিবেদনে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দবন্ধ ব্যবহৃত হওয়ায় বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ও হিন্দুত্ববাদী মহলের একাংশ আপত্তি জানায়। তাদের বক্তব্য, ‘গেরুয়া’ শব্দটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে এবং সেটিকে ‘গুন্ডামি’র সঙ্গে যুক্ত করা আপত্তিকর।
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা মহলের বক্তব্য, কোনও প্রতিবেদন বা শিরোনাম নিয়ে আপত্তি থাকলে তার জবাব দেওয়ার জন্য আইনি ও গণতান্ত্রিক পথ রয়েছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই গত ২৭ আগস্ট বউবাজার থানায় আনন্দবাজারের সম্পাদকীয় দলের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর ২৯ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে আনন্দবাজার পত্রিকাকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তিনি গেরুয়া রং নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার না করার কথাও বলেন। তার বক্তব্যের পরেই বিষয়টি আরও রাজনৈতিক মাত্রা পায় এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এরপর ১ সেপ্টেম্বর কলকাতার প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে আনন্দবাজার পত্রিকার দপ্তরের সামনে গেরুয়া পোশাক ও পাগড়ি পরিহিত একদল ব্যক্তি বিক্ষোভ দেখান। তারা সংবাদপত্রের প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে স্লোগান দেন। বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন দপ্তরের প্রবেশপথের দুটি স্তম্ভে গেরুয়া রং লাগিয়ে দেন। প্রায় আধঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যান। পরে সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষ স্তম্ভগুলির গেরুয়া রং মুছে আগের রং ফিরিয়ে দেয়।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও রং লাগানোর সময় কার্যকরভাবে বাধা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে সংবাদমাধ্যমের দপ্তরের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর সাংবাদিক সংগঠনগুলির একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রতিবেদন বা শিরোনাম নিয়ে আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই আপত্তির সমাধান হওয়া উচিত যুক্তি, প্রতিবাদ, পাল্টা বক্তব্য কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। সংবাদমাধ্যমের দপ্তরের সামনে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়, যাতে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জানান, আনন্দবাজারের দপ্তরের সামনে যে বিক্ষোভ হয়েছে, তার সঙ্গে বিজেপির কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের দপ্তরে এ ধরনের আচরণকে দল সমর্থন করে না বলেও তিনি জানান। তবে ‘গেরুয়া’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে যে আপত্তি তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এখনও আলোচনার বিষয়।
এই ঘটনাপ্রবাহের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আইনি প্রক্রিয়া। আনন্দবাজারের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংবাদিকরা পুলিশের নোটিস অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। শুনানির সময় সংবাদপত্রের দপ্তরের সামনে গেরুয়া রং লাগানোর ঘটনাটিও আদালতের নজরে আনা হয়।
ফলে বর্তমানে পুরো বিষয়টি তিনটি পৃথক স্তরে এগোচ্ছে। প্রথমত, সংবাদ প্রতিবেদনের শিরোনাম নিয়ে আপত্তি এবং তার আইনি প্রক্রিয়া; দ্বিতীয়ত, আনন্দবাজারের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ ও ভবনের স্তম্ভে গেরুয়া রং লাগানোর ঘটনা; এবং তৃতীয়ত, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের গ্রহণযোগ্য সীমা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক।
একদিকে, কোনও সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভাষা নিয়ে পাঠক বা কোনও সংগঠনের আপত্তি জানানোর অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমেরও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ এবং প্রতিবেদন প্রকাশের অধিকার রয়েছে। একইভাবে প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সেই প্রতিবাদ আইন ও শান্তিপূর্ণতার সীমার মধ্যে থাকা উচিত—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
আনন্দবাজারের দপ্তরের স্তম্ভ থেকে গেরুয়া রং পরে মুছে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি যে প্রশ্নগুলি সামনে এনেছে, সেগুলি এখনও রয়ে গেছে। কোনও সংবাদশিরোনাম নিয়ে আপত্তি তৈরি হলে তার সমাধানের উপযুক্ত পথ কী, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব কোথায়, প্রতিবাদের সীমা কতটা এবং সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত—এই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের নিষ্পত্তি রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, বরং তথ্য, তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই হওয়া প্রয়োজন। কারণ ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট সংবাদশিরোনামকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও এর প্রভাব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের বৃহত্তর পরিসর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন