ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার তাকে ‘গ্রেপ্তার, হত্যা বা নির্যাতন’ করলেও তিনি ভয় পাবেন না।
ওয়াশিংটনভিত্তিক এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা এসব কথা বলে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে যাব। আমি ভয় পাচ্ছি না। আমি জানি তারা আমাকে হত্যা করতে পারে, গ্রেপ্তার করতে পারে এবং নির্যাতন করতে পারে... এটা আমার দায়িত্ব।’ তবে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ তিনি জানাননি।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি বলেছেন, ফিরে গেলে তার কারাগারে যাওয়া বা সহিংসতার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক দায়িত্বের কারণে তাকে তার সমর্থকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘যত ঝুঁকিই থাকুক, আমি কিছু মনে করি না। আমাকে ফিরে যেতেই হবে।’
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফেরার কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। সময় ঘনিয়ে এলে সে বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় আশ্রয় দেওয়ার জন্য ভারত সরকার ও দেশটির জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার এবং জনগণকে ধন্যবাদ। সব দলের মানুষ আমাকে গ্রহণ করেছেন, ঠিক যেমনটি করেছিলেন ১৯৭৫ সালে।’ ১৯৭৫ সালে তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ও তার বোন বেঁচে গিয়েছিলেন।
শেখ হাসিনা আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও তিনি প্রাণনাশের হুমকি সত্ত্বেও দেশে ফিরেছিলেন—যেমন ১৯৮১ সালে দীর্ঘ প্রবাসের পর এবং ২০০৭ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময়।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব তার এবং আওয়ামী লীগের সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনের চেষ্টা করছে। ওই মামলাগুলোর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই বাংলাদেশিরা অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের সরকার নির্ধারণ করুক।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সংগঠন, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার ওপরও জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার সরকারের সমালোচকরা বাংলাদেশের নাগরিক, তাদের অধিকারকে সম্মান করতে হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিশোধের ওপর নয়, পুনর্মিলনের ওপর নির্মিত হওয়া উচিত।’
শেখ হাসিনা স্বীকার করেন যে তার সরকার এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনকে ঘিরে নানা কঠিন প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সরকার, ২০২৪ সালের ঘটনা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উঠা কঠিন প্রশ্নগুলো স্বীকার করছি।’
তবে তার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো অভিযোগ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। সূত্র: এনডিটিভি

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার তাকে ‘গ্রেপ্তার, হত্যা বা নির্যাতন’ করলেও তিনি ভয় পাবেন না।
ওয়াশিংটনভিত্তিক এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা এসব কথা বলে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে যাব। আমি ভয় পাচ্ছি না। আমি জানি তারা আমাকে হত্যা করতে পারে, গ্রেপ্তার করতে পারে এবং নির্যাতন করতে পারে... এটা আমার দায়িত্ব।’ তবে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ তিনি জানাননি।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি বলেছেন, ফিরে গেলে তার কারাগারে যাওয়া বা সহিংসতার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক দায়িত্বের কারণে তাকে তার সমর্থকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘যত ঝুঁকিই থাকুক, আমি কিছু মনে করি না। আমাকে ফিরে যেতেই হবে।’
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফেরার কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। সময় ঘনিয়ে এলে সে বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় আশ্রয় দেওয়ার জন্য ভারত সরকার ও দেশটির জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার এবং জনগণকে ধন্যবাদ। সব দলের মানুষ আমাকে গ্রহণ করেছেন, ঠিক যেমনটি করেছিলেন ১৯৭৫ সালে।’ ১৯৭৫ সালে তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ও তার বোন বেঁচে গিয়েছিলেন।
শেখ হাসিনা আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও তিনি প্রাণনাশের হুমকি সত্ত্বেও দেশে ফিরেছিলেন—যেমন ১৯৮১ সালে দীর্ঘ প্রবাসের পর এবং ২০০৭ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময়।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব তার এবং আওয়ামী লীগের সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনের চেষ্টা করছে। ওই মামলাগুলোর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই বাংলাদেশিরা অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের সরকার নির্ধারণ করুক।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সংগঠন, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার ওপরও জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার সরকারের সমালোচকরা বাংলাদেশের নাগরিক, তাদের অধিকারকে সম্মান করতে হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিশোধের ওপর নয়, পুনর্মিলনের ওপর নির্মিত হওয়া উচিত।’
শেখ হাসিনা স্বীকার করেন যে তার সরকার এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনকে ঘিরে নানা কঠিন প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সরকার, ২০২৪ সালের ঘটনা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উঠা কঠিন প্রশ্নগুলো স্বীকার করছি।’
তবে তার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো অভিযোগ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। সূত্র: এনডিটিভি

আপনার মতামত লিখুন