রাজধানীর অভিজাত ও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন ঢাকা ক্লাব লিমিটেডের ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক আলতামাশ কবির (মিশু)। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি বিদায়ী সভাপতি শামীম হোসেনকে ৫৮৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন।
ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, এবার নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ হাজার ৫১৫ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৭৩ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা মোট ভোটারের ৩৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। সভাপতি পদে ১ হাজার ৩৭৩টি ভোটের মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ১ হাজার ৩৬৮টি। এর মধ্যে আলতামাশ কবির পেয়েছেন ৯৭৬ ভোট, যা মোট বৈধ ভোটের প্রায় ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শামীম হোসেন পেয়েছেন ৩৯২ ভোট। ৫টি ভোট অবৈধ বলে গণ্য হয়েছে।
নির্বাচনের এই ফলাফলকে ক্লাব সদস্যেরা বড় ধরনের ‘ব্যালট বিপ্লব’ হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নির্বাচনে শামীম হোসেন ৬৮৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন এবং সেবার আলতামাশ কবির পেয়েছিলেন ৪৯৫ ভোট। এক বছরের মাথায় বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আলতামাশ কবির এবার ক্লাবটির শীর্ষ নেতৃত্বে এলেন।
পরিচালনা পর্ষদের ভোটের চিত্র
সভাপতি পদের পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের ১০টি পরিচালক পদেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। মোট ১৬ জন প্রার্থী এই ১০টি পদের জন্য লড়াই করেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩ ভোট পেয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তারেক আহমেদ আদেল। পরিচালনা পর্ষদে নির্বাচিত অন্য বিজয়ীরা হলেন:
ওসামা তাসীর (১,০১২ ভোট), তানভীর আজিজ খান (১,০০৩ ভোট), অধ্যাপক জাহাঙ্গীর চৌধুরী (৯৯২ ভোট), এস এম হাফিজ আল আশাদ (৯৫৫ ভোট), নাজমা আক্তার (৯৩৭ ভোট), মো. আমিনুল হক (৯৩৭ ভোট), আম্বারীন ইসলাম (৮৭৮ ভোট), আব্দুর রহমান (৮২৯ ভোট) এবং রাব্বানি জব্বার (৮২৫ ভোট)।
অন্যদিকে, পর্ষদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন মাহমুদুর রহমান (৭৬৭ ভোট), নায়ীম মো. কাইয়ুম (৬৪৮ ভোট), আমিনুর রেজা খান (৬৩৮ ভোট), তানভীর আহমেদ মিকি (৬০৫ ভোট), ইসরাত হেলাল (৫৮৯ ভোট) এবং তুহিন রেজা (৫৭২ ভোট)। পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে মোট ১ হাজার ৩২৪টি বৈধ ভোট এবং ৪৯টি অবৈধ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে।
এক নজরে ঢাকা ক্লাবের ইতিহাস
১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা ক্লাব দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন এবং প্রভাবশালী সামাজিক ক্লাব। ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন পূর্ব বাংলার উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বিনোদন ও সামাজিক মেলামেশার কেন্দ্র হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করেছিল। রাজধানীর রমনা এলাকায় ৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি আভিজাত্য এবং ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনস্থল।
শুরুর দিকে এই ক্লাবের সদস্যপদ কেবল ইউরোপীয়দের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে ১৯৫০-এর দশকের পর থেকে এটি এ দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, আমলা, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের প্রধান সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯১১ সালে ঢাকা যখন নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী ছিল, তখন থেকেই এই ক্লাবটি ঢাকার আভিজাত্যপূর্ণ জীবনধারার প্রতীক হয়ে ওঠে। বর্তমানে এটি কেবল একটি ক্লাব নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁক ও সামাজিক বিবর্তনের এক নীরব সাক্ষী। প্রতি বছর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এই ক্লাবের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্য।
/

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর অভিজাত ও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন ঢাকা ক্লাব লিমিটেডের ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক আলতামাশ কবির (মিশু)। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি বিদায়ী সভাপতি শামীম হোসেনকে ৫৮৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন।
ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, এবার নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ হাজার ৫১৫ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৭৩ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা মোট ভোটারের ৩৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। সভাপতি পদে ১ হাজার ৩৭৩টি ভোটের মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ১ হাজার ৩৬৮টি। এর মধ্যে আলতামাশ কবির পেয়েছেন ৯৭৬ ভোট, যা মোট বৈধ ভোটের প্রায় ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শামীম হোসেন পেয়েছেন ৩৯২ ভোট। ৫টি ভোট অবৈধ বলে গণ্য হয়েছে।
নির্বাচনের এই ফলাফলকে ক্লাব সদস্যেরা বড় ধরনের ‘ব্যালট বিপ্লব’ হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নির্বাচনে শামীম হোসেন ৬৮৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন এবং সেবার আলতামাশ কবির পেয়েছিলেন ৪৯৫ ভোট। এক বছরের মাথায় বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আলতামাশ কবির এবার ক্লাবটির শীর্ষ নেতৃত্বে এলেন।
পরিচালনা পর্ষদের ভোটের চিত্র
সভাপতি পদের পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের ১০টি পরিচালক পদেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। মোট ১৬ জন প্রার্থী এই ১০টি পদের জন্য লড়াই করেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩ ভোট পেয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তারেক আহমেদ আদেল। পরিচালনা পর্ষদে নির্বাচিত অন্য বিজয়ীরা হলেন:
ওসামা তাসীর (১,০১২ ভোট), তানভীর আজিজ খান (১,০০৩ ভোট), অধ্যাপক জাহাঙ্গীর চৌধুরী (৯৯২ ভোট), এস এম হাফিজ আল আশাদ (৯৫৫ ভোট), নাজমা আক্তার (৯৩৭ ভোট), মো. আমিনুল হক (৯৩৭ ভোট), আম্বারীন ইসলাম (৮৭৮ ভোট), আব্দুর রহমান (৮২৯ ভোট) এবং রাব্বানি জব্বার (৮২৫ ভোট)।
অন্যদিকে, পর্ষদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন মাহমুদুর রহমান (৭৬৭ ভোট), নায়ীম মো. কাইয়ুম (৬৪৮ ভোট), আমিনুর রেজা খান (৬৩৮ ভোট), তানভীর আহমেদ মিকি (৬০৫ ভোট), ইসরাত হেলাল (৫৮৯ ভোট) এবং তুহিন রেজা (৫৭২ ভোট)। পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে মোট ১ হাজার ৩২৪টি বৈধ ভোট এবং ৪৯টি অবৈধ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে।
এক নজরে ঢাকা ক্লাবের ইতিহাস
১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা ক্লাব দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন এবং প্রভাবশালী সামাজিক ক্লাব। ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন পূর্ব বাংলার উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বিনোদন ও সামাজিক মেলামেশার কেন্দ্র হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করেছিল। রাজধানীর রমনা এলাকায় ৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি আভিজাত্য এবং ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনস্থল।
শুরুর দিকে এই ক্লাবের সদস্যপদ কেবল ইউরোপীয়দের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে ১৯৫০-এর দশকের পর থেকে এটি এ দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, আমলা, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের প্রধান সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯১১ সালে ঢাকা যখন নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী ছিল, তখন থেকেই এই ক্লাবটি ঢাকার আভিজাত্যপূর্ণ জীবনধারার প্রতীক হয়ে ওঠে। বর্তমানে এটি কেবল একটি ক্লাব নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁক ও সামাজিক বিবর্তনের এক নীরব সাক্ষী। প্রতি বছর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এই ক্লাবের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্য।
/

আপনার মতামত লিখুন