এক হাতে ক্যামেরা নিয়ে তিনি ফ্রেমবন্দী করেন সময়ের গল্প, আর অন্য হাতে তুলে নেন গাছের চারা–ছড়িয়ে দেন আগামীর সবুজের বার্তা। তিনি এস এম আরিফুল আমিন প্লাবন। পেশায় ফটোসাংবাদিক হলেও তার পরিচয়ের এক বিরাট অংশজুড়ে আছে প্রকৃতি ও মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। এক দশকের বেশি সময় ধরে ছবি তোলার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আর আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন বগুড়ার ধুনটের এই তরুণ।
আরিফুল আমিনের কাজের শুরুটা এক দশক আগে। পেশার তাগিদে ঘুরে বেড়ান টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। তবে যেখানেই যান, তার ব্যাগে থাকে গাছের চারা কিংবা বীজ। সুযোগ পেলেই তা রোপণ করেন কোনো পরিত্যক্ত জায়গায়। তিনি মনে করেন, ক্যামেরা কেবল ঘটনার সাক্ষী নয়, এটি হতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাতিয়ার।
২০২০ সালে যখন করোনা মহামারিতে থমকে গিয়েছিল জনজীবন, তখন আরিফুল বসে থাকেননি। ধুনট উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন সম্মুখযুদ্ধে। আক্রান্তদের অক্সিজেন সরবরাহ, ওষুধ ও খাবার পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে মৃত ব্যক্তির দাফন ও শেষকৃত্যেও অংশ নিয়েছেন তিনি। তার মতে, বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ থাকতে নেই।
আরিফুলের পরিবেশবান্ধব কাজের পরিধি বিশাল। তিনি গড়ে তুলেছেন ‘হেল্প দ্য নেশন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। চরাঞ্চল ও নদীভাঙন এলাকায় এ পর্যন্ত রোপণ করেছেন হাজার হাজার ফলজ ও বনজ গাছ। বিশেষ করে বজ্রপাত রোধে তালবীজ রোপণে তাঁর ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি বিলুপ্তপ্রায় করঞ্জা গাছের ৫০০টি বীজ সংগ্রহ করেছেন তিনি, যা দিয়ে নতুন চারা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তার।
শুধু গাছ লাগানোই নয়, গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে নিজের মায়ের উৎপাদিত দেশীয় সবজির বীজ বিনা মূল্যে বিতরণ করছেন আরিফুল। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশীয় প্রজাতির বীজ সংরক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রান্তিক নারীরা খুঁজে পাচ্ছেন বাড়তি আয়ের পথ। এ ছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সহায়তায় ‘স্বপ্নসেবা’ সংগঠনের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করতে গরু-ছাগল বিতরণের উদ্যোগেও যুক্ত তিনি।
আরিফুলের ব্যক্তিগত জীবনের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বেশ আলোচিত। তার কন্যাসন্তানের জন্মের পর এক মাস বয়স থেকেই তাকে সঙ্গে নিয়ে গাছ লাগানো শুরু করেছেন। লক্ষ্য হলো মাসে অন্তত ১০০টি গাছ লাগানো। নিজের মেয়েকে ‘কার্বন নিউট্রাল বেবি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি, যাতে ছোটবেলা থেকেই সে প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়।
বর্তমানে কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকলেও ছুটির দিন মানেই আরিফুলের গন্তব্য নিজ গ্রাম ধুনট। সেখানে কখনো গাছ লাগানো, কখনো বন্যপ্রাণী উদ্ধার কিংবা লেক পরিষ্কার করার কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। আরিফুল বিশ্বাস করেন, পরিবর্তনের জন্য বিশাল কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই; ব্যক্তি উদ্যোগেই সমাজ ও প্রকৃতিতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এক হাতে ক্যামেরা নিয়ে তিনি ফ্রেমবন্দী করেন সময়ের গল্প, আর অন্য হাতে তুলে নেন গাছের চারা–ছড়িয়ে দেন আগামীর সবুজের বার্তা। তিনি এস এম আরিফুল আমিন প্লাবন। পেশায় ফটোসাংবাদিক হলেও তার পরিচয়ের এক বিরাট অংশজুড়ে আছে প্রকৃতি ও মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। এক দশকের বেশি সময় ধরে ছবি তোলার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আর আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন বগুড়ার ধুনটের এই তরুণ।
আরিফুল আমিনের কাজের শুরুটা এক দশক আগে। পেশার তাগিদে ঘুরে বেড়ান টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। তবে যেখানেই যান, তার ব্যাগে থাকে গাছের চারা কিংবা বীজ। সুযোগ পেলেই তা রোপণ করেন কোনো পরিত্যক্ত জায়গায়। তিনি মনে করেন, ক্যামেরা কেবল ঘটনার সাক্ষী নয়, এটি হতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাতিয়ার।
২০২০ সালে যখন করোনা মহামারিতে থমকে গিয়েছিল জনজীবন, তখন আরিফুল বসে থাকেননি। ধুনট উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন সম্মুখযুদ্ধে। আক্রান্তদের অক্সিজেন সরবরাহ, ওষুধ ও খাবার পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে মৃত ব্যক্তির দাফন ও শেষকৃত্যেও অংশ নিয়েছেন তিনি। তার মতে, বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ থাকতে নেই।
আরিফুলের পরিবেশবান্ধব কাজের পরিধি বিশাল। তিনি গড়ে তুলেছেন ‘হেল্প দ্য নেশন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। চরাঞ্চল ও নদীভাঙন এলাকায় এ পর্যন্ত রোপণ করেছেন হাজার হাজার ফলজ ও বনজ গাছ। বিশেষ করে বজ্রপাত রোধে তালবীজ রোপণে তাঁর ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি বিলুপ্তপ্রায় করঞ্জা গাছের ৫০০টি বীজ সংগ্রহ করেছেন তিনি, যা দিয়ে নতুন চারা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তার।
শুধু গাছ লাগানোই নয়, গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে নিজের মায়ের উৎপাদিত দেশীয় সবজির বীজ বিনা মূল্যে বিতরণ করছেন আরিফুল। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশীয় প্রজাতির বীজ সংরক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রান্তিক নারীরা খুঁজে পাচ্ছেন বাড়তি আয়ের পথ। এ ছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সহায়তায় ‘স্বপ্নসেবা’ সংগঠনের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করতে গরু-ছাগল বিতরণের উদ্যোগেও যুক্ত তিনি।
আরিফুলের ব্যক্তিগত জীবনের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বেশ আলোচিত। তার কন্যাসন্তানের জন্মের পর এক মাস বয়স থেকেই তাকে সঙ্গে নিয়ে গাছ লাগানো শুরু করেছেন। লক্ষ্য হলো মাসে অন্তত ১০০টি গাছ লাগানো। নিজের মেয়েকে ‘কার্বন নিউট্রাল বেবি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি, যাতে ছোটবেলা থেকেই সে প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়।
বর্তমানে কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকলেও ছুটির দিন মানেই আরিফুলের গন্তব্য নিজ গ্রাম ধুনট। সেখানে কখনো গাছ লাগানো, কখনো বন্যপ্রাণী উদ্ধার কিংবা লেক পরিষ্কার করার কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। আরিফুল বিশ্বাস করেন, পরিবর্তনের জন্য বিশাল কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই; ব্যক্তি উদ্যোগেই সমাজ ও প্রকৃতিতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন