একবার নয়, দুইবার নয়, তিন-তিনবার সর্বনাশা পদ্মা কেড়ে নিয়েছে তার সাজানো সংসার। পঁচাশিতে এসে আব্দুস সামাদ সরদারের কাছে নদী এখন এক বিভীষিকার নাম। ৩০ বছর আগে দেবগ্রামের ভিটে হারিয়েছিলেন, ১৮ বছর আগে খুইয়েছেন বেথুরীর বাড়ি। এখন কাওয়ালজানি গ্রামে যেখানে মাথা গুঁজেছেন, রাক্ষুসে পদ্মা সেখানেও হানা দিয়েছে। ঘরের কোণে এসে ঠেকেছে নদীর ঢেউ।
কাঁপা গলায় সামাদ সরদার বলেন, ‘বাবা, এহন ভাঙলে যাওনের আর কোনো জায়গা নাই। নদী আমাগো ছাইড়া দিচ্ছে না।’
শুধু সামাদ সরদার নন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ও কাওয়ালজানি গ্রামের প্রায় ১০০টি পরিবার এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে পদ্মার তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়েছে প্রায় ১১০ বিঘা আবাদি জমি। বিঘার পর বিঘা জমিতে থাকা ধান, পাট, পেঁয়াজ আর মরিচ এখন নদীর গর্ভে।
সরেজমিনে গত ৩ সেপ্টেম্বর দেখা যায়, তীব্র স্রোত আর বড় বড় ঢেউ তীরের মাটিতে আছড়ে পড়ছে। চোখের পলকেই ধসে পড়ছে কৃষকের স্বপ্ন। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মুন্সি বাজার, বেথুরী ও কুশাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, কবরস্থান ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যখন সব শেষ হয়ে যায় তখন কর্তৃপক্ষ বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে দায় সারে। নদীশাসন আন্দোলনের নেতা জামাল মুন্সি বলেন, ‘ভরা বর্ষায় তাড়াহুড়ো করে জিও ব্যাগ ফেলে লাভ হয় না। স্রোতে মাটিসহ ব্যাগ তলিয়ে যায়। সারা বছর আমাদের কথা কেউ শোনে না।’
২৭ নম্বর বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এর আগে দুবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ সরদার জানান, গত বছরও নদী এক কিলোমিটার দূরে ছিল, এবার তা স্কুলের দোরগোড়ায়। তাদের আর সরকারি রিলিফের প্রয়োজন নেই, তারা চান স্থায়ী নদীশাসন।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান জানান, জরুরি ভিত্তিতে ৭২ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার একটি প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বর্ষার শুরুতে ও গত বছর কয়েক হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই সাময়িক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান নয়।

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একবার নয়, দুইবার নয়, তিন-তিনবার সর্বনাশা পদ্মা কেড়ে নিয়েছে তার সাজানো সংসার। পঁচাশিতে এসে আব্দুস সামাদ সরদারের কাছে নদী এখন এক বিভীষিকার নাম। ৩০ বছর আগে দেবগ্রামের ভিটে হারিয়েছিলেন, ১৮ বছর আগে খুইয়েছেন বেথুরীর বাড়ি। এখন কাওয়ালজানি গ্রামে যেখানে মাথা গুঁজেছেন, রাক্ষুসে পদ্মা সেখানেও হানা দিয়েছে। ঘরের কোণে এসে ঠেকেছে নদীর ঢেউ।
কাঁপা গলায় সামাদ সরদার বলেন, ‘বাবা, এহন ভাঙলে যাওনের আর কোনো জায়গা নাই। নদী আমাগো ছাইড়া দিচ্ছে না।’
শুধু সামাদ সরদার নন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ও কাওয়ালজানি গ্রামের প্রায় ১০০টি পরিবার এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে পদ্মার তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়েছে প্রায় ১১০ বিঘা আবাদি জমি। বিঘার পর বিঘা জমিতে থাকা ধান, পাট, পেঁয়াজ আর মরিচ এখন নদীর গর্ভে।
সরেজমিনে গত ৩ সেপ্টেম্বর দেখা যায়, তীব্র স্রোত আর বড় বড় ঢেউ তীরের মাটিতে আছড়ে পড়ছে। চোখের পলকেই ধসে পড়ছে কৃষকের স্বপ্ন। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মুন্সি বাজার, বেথুরী ও কুশাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, কবরস্থান ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যখন সব শেষ হয়ে যায় তখন কর্তৃপক্ষ বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে দায় সারে। নদীশাসন আন্দোলনের নেতা জামাল মুন্সি বলেন, ‘ভরা বর্ষায় তাড়াহুড়ো করে জিও ব্যাগ ফেলে লাভ হয় না। স্রোতে মাটিসহ ব্যাগ তলিয়ে যায়। সারা বছর আমাদের কথা কেউ শোনে না।’
২৭ নম্বর বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এর আগে দুবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ সরদার জানান, গত বছরও নদী এক কিলোমিটার দূরে ছিল, এবার তা স্কুলের দোরগোড়ায়। তাদের আর সরকারি রিলিফের প্রয়োজন নেই, তারা চান স্থায়ী নদীশাসন।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান জানান, জরুরি ভিত্তিতে ৭২ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার একটি প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বর্ষার শুরুতে ও গত বছর কয়েক হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই সাময়িক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান নয়।

আপনার মতামত লিখুন