পাহাড়ি জনপদের সব বাধা আর জটিল বাস্তবতা পেরিয়ে এক অদম্য পথচলার নাম সাধনা ত্রিপুরা। নিজ কর্মদক্ষতা, অকৃত্রিম সরলতা আর মেধা দিয়ে যিনি জয় করে নিয়েছেন সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের মন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের ২৮ জুলাই তিনি এ উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ফুলপুরের মতো জনবহুল ও প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে সাধনা ত্রিপুরার সফল নেতৃত্ব তার বহুমুখী ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়। পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধি হিসেবে অনেকে ভুলবশত তাকে অন্য কোনো সম্প্রদায়ের মনে করলেও, তিনি মূলত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর এক গর্বিত সন্তান।
খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নের এক সাধারণ পরিবারে সাধনা ত্রিপুরার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। দুর্গম পথঘাট, যাতায়াতের নানা ভোগান্তি এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা–কোনো কিছুই তার শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহকে দমাতে পারেনি। খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাহাড়ের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে রাজধানীতে এসে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করা সহজ ছিল না। তবে সাধনা ত্রিপুরা সব প্রতিকূলতা জয় করেছেন। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই প্রথম নারী, যিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পরবর্তী সময়ে ইউএনও হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
পাহাড়ি জীবনের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গি ও নিরপেক্ষ মনোভাব বজায় রেখেই সমতলের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করছেন তিনি। তার এই ভূমিকা পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে এক সুদৃঢ় সামাজিক ও মানবিক সেতুবন্ধ তৈরি করেছে।
ফুলপুরে যোগদানের পর থেকেই জনবান্ধব সাবেক ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সফলভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন সাধনা ত্রিপুরা। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি স্থানীয় নানা সামাজিক ও প্রান্তিক সমস্যা সমাধানে তিনি ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে তার তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপে আস্থা পাচ্ছেন স্থানীয় নারী ও সাধারণ মানুষ।
কাজের পরিবেশ সম্পর্কে ফুলপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক শফিকুল ইসলাম জানান, মানবিক অনুভূতির পাশাপাশি প্রশাসনিক দৃঢ়তার এক সুন্দর সমন্বয় রয়েছে সাধনা ত্রিপুরার কাজের ধারায়। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকদের কাছ থেকেও তিনি সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছেন।
পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া সাধনা ত্রিপুরার এই দীর্ঘ পথচলা কেবল তার নিজের সাফল্য নয়; বরং দেশের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া তরুণদের জন্য, বিশেষ করে পাহাড়ি নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার আলো।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাহাড়ি জনপদের সব বাধা আর জটিল বাস্তবতা পেরিয়ে এক অদম্য পথচলার নাম সাধনা ত্রিপুরা। নিজ কর্মদক্ষতা, অকৃত্রিম সরলতা আর মেধা দিয়ে যিনি জয় করে নিয়েছেন সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের মন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের ২৮ জুলাই তিনি এ উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ফুলপুরের মতো জনবহুল ও প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে সাধনা ত্রিপুরার সফল নেতৃত্ব তার বহুমুখী ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়। পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধি হিসেবে অনেকে ভুলবশত তাকে অন্য কোনো সম্প্রদায়ের মনে করলেও, তিনি মূলত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর এক গর্বিত সন্তান।
খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নের এক সাধারণ পরিবারে সাধনা ত্রিপুরার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। দুর্গম পথঘাট, যাতায়াতের নানা ভোগান্তি এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা–কোনো কিছুই তার শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহকে দমাতে পারেনি। খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাহাড়ের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে রাজধানীতে এসে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করা সহজ ছিল না। তবে সাধনা ত্রিপুরা সব প্রতিকূলতা জয় করেছেন। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই প্রথম নারী, যিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পরবর্তী সময়ে ইউএনও হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
পাহাড়ি জীবনের সহজ-সরল দৃষ্টিভঙ্গি ও নিরপেক্ষ মনোভাব বজায় রেখেই সমতলের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করছেন তিনি। তার এই ভূমিকা পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে এক সুদৃঢ় সামাজিক ও মানবিক সেতুবন্ধ তৈরি করেছে।
ফুলপুরে যোগদানের পর থেকেই জনবান্ধব সাবেক ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সফলভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন সাধনা ত্রিপুরা। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি স্থানীয় নানা সামাজিক ও প্রান্তিক সমস্যা সমাধানে তিনি ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে তার তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপে আস্থা পাচ্ছেন স্থানীয় নারী ও সাধারণ মানুষ।
কাজের পরিবেশ সম্পর্কে ফুলপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক শফিকুল ইসলাম জানান, মানবিক অনুভূতির পাশাপাশি প্রশাসনিক দৃঢ়তার এক সুন্দর সমন্বয় রয়েছে সাধনা ত্রিপুরার কাজের ধারায়। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকদের কাছ থেকেও তিনি সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছেন।
পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া সাধনা ত্রিপুরার এই দীর্ঘ পথচলা কেবল তার নিজের সাফল্য নয়; বরং দেশের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া তরুণদের জন্য, বিশেষ করে পাহাড়ি নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার আলো।

আপনার মতামত লিখুন