সম্প্রতি বাংলাদেশের সমাজে একের পর এক নৃশংসতার ঘটনা ঘটছে। রংপুরে স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, ঢাকার রাস্তায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু, মায়ের কোল থেকে শিশু কেড়ে নিয়ে আছাড় মারা, এমনকি আপন মাকে হত্যা করার মতো ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনা কি বিচ্ছিন্ন? নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ? অপরাধবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের একাধিক তত্ত্ব এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সহায়তা করে।
টেনশন থিওরি
রবার্ট মার্টনের টেনশন থিওরি অনুযায়ী, সমাজ যখন সাফল্যের কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করে—যেমন অর্থ, প্রতিপত্তি, ক্ষমতা—কিন্তু সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর বৈধ উপায় সবার জন্য সমানভাবে খোলা রাখে না, তখন সৃষ্টি হয় টেনশন বা চাপ। এই চাপ সহ্য করতে না পেরে মানুষ অবৈধ উপায় বেছে নেয়।
বাংলাদেশে তরুণদের বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক বৈষম্য এই টেনশন তৈরি করছে। বৈধ পথে সাফল্য পাওয়া যখন কঠিন হয়ে পড়ে, তখন কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে, কেউ সহিংস অপরাধে। মার্টনের ভাষায় এটা 'ইনোভেশন' বা নতুন পথের সন্ধান।
রবার্ট অ্যাগনিউ এই তত্ত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে বলেন, শুধু অর্থনৈতিক লক্ষ্য নয়, তিন ধরনের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থেকে টেনশন তৈরি হয়: প্রিয় কিছু হারানো, নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া, এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারা। এই টেনশন থেকে জন্ম নেয় রাগ। আর এই রাগ যখন বৈধভাবে প্রকাশের পথ পায় না, তখন তা সহিংস অপরাধে রূপ নেয়।
বাংলাদেশে যে তীব্র হতাশা ও রাগ তরুণ সমাজে জমা হচ্ছে, তা যখন মাদক বা ইয়াবার মতো উদ্দীপকের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন মানুষের মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব—যা ভালো-মন্দ বিচার করে—অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে মানুষ পশুর চেয়েও হিংস্র হয়ে ওঠে।
সোশ্যাল লার্নিং থিওরি
এডউইন সাদারল্যান্ডের ডিফারেনশিয়াল অ্যাসোসিয়েশন থিওরি অনুযায়ী, অপরাধ শেখা হয় ঘনিষ্ঠ মানুষের সংস্পর্শে। যে ব্যক্তি যত বেশি অপরাধমূলক আচরণের সংস্পর্শে আসে, তার অপরাধ করার সম্ভাবনা তত বাড়ে।
আলবার্ট বান্দুরার সোশ্যাল লার্নিং থিওরি আরও বলে, মানুষ অন্যের আচরণ দেখে এবং তার ফলাফল দেখে শেখে। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সহিংসতার ভিডিও ভাইরাল হয়। শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে গণপিটুনি দেখে, ভিডিও করে, লাইক দেয়, শেয়ার করে। এই দৃশ্য পরোক্ষভাবে শেখায়—সহিংসতা করা যায়, এমনকি সহিংসতা থেকে বিনোদনও পাওয়া যায়।
রোনাল্ড অ্যাকার্সের ডিফারেনশিয়াল রিইনফোর্সমেন্ট থিওরি বলে, কোনো আচরণ যখন পুরস্কৃত হয় বা শাস্তি পায় না, তখন তা বেড়ে যায়। যখন গণপিটুনিতে কেউ বাধা পায় না, বরং সমাজে 'বীর' হিসেবে পরিচিত হয়, তখন তা আরও মানুষকে উৎসাহিত করে।
কন্ট্রোল থিওরি
ট্র্যাভিস হির্শির সোশ্যাল কন্ট্রোল থিওরি প্রশ্ন করে, সবাই তো চাপ বা সুযোগ পায়, তাহলে সবাই অপরাধ করে না কেন? উত্তর—কারণ সমাজের সঙ্গে মানুষের বন্ধন থাকে। এই বন্ধন চারটি: অ্যাটাচমেন্ট (পরিবার-সমাজের টান), কমিটমেন্ট (ভবিষ্যৎ লক্ষ্যে বিনিয়োগ), ইনভলভমেন্ট (সময় ও শক্তি সঠিক কাজে ব্যয়), এবং বিলিফ (আইন ও নৈতিকতার প্রতি বিশ্বাস)।
বাংলাদেশে এই চারটি বন্ধনই দুর্বল হয়ে পড়ছে। পারিবারিক ভাঙন, মাদকাসক্ত সন্তান, হতাশ বাবা-মা—এগুলো অ্যাটাচমেন্ট ভেঙে দিচ্ছে। বেকারত্ব কমিটমেন্ট নষ্ট করছে। আর আইনের প্রতি আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে বিচারহীনতা দেখে। যখন মানুষ দেখে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, তখন আইনের প্রতি বিশ্বাস ('বিলিফ') ভেঙে পড়ে। ফলে মানুষ নিজেই আইন হাতে তুলে নিতে উদ্যত হয়—যা মব লিঞ্চিংয়ের মূল কারণ।
লেবেলিং থিওরি
হাওয়ার্ড বেকার ও এডউইন লেমার্টের লেবেলিং থিওরি বলে, কেউ অপরাধ করলেই অপরাধী হয়ে যায় না—সমাজ তাকে অপরাধী বানায়। যখন সমাজ বা রাষ্ট্র কাউকে ‘মাদকাসক্ত’, ‘অপরাধী’ বা ‘খারাপ ছেলে’ বলে চিহ্নিত করে, তখন সেই ব্যক্তি সেই পরিচয়কে আপন করে নেয়। লেমার্ট এটাকে বলেছেন ‘সেকেন্ডারি ডেভিয়েশন’—প্রাথমিক ভুলের পর সমাজের প্রতিক্রিয়ায় স্থায়ী অপরাধী হয়ে যাওয়া।
বাংলাদেশে মাদক মামলায় ধরা পড়া তরুণ কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আর চাকরি পায় না, সমাজ তাকে গ্রহণ করে না। ফলে সে আবার অপরাধে ফিরে যায়। এভাবে রাষ্ট্র নিজেই তাকে অপরাধী বানিয়ে রাখে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি ক্র্যাবের অনুষ্ঠানে বলেছেন, “অপরাধ হচ্ছে একটা উপসর্গ। দেখা যাচ্ছে অপরাধের কিন্তু রোগ হচ্ছে অন্য জায়গায়।" তার মতে, গুরুতর অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, “জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধও কমানো সম্ভব।"
তার এই বক্তব্য টেনশন থিওরির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। মাদক ও জুয়া এখানে ‘টেনশন কমানোর’ ভুল উপায় হিসেবে কাজ করে। কিন্তু তিনি আরও স্বীকার করেছেন, “পুরোনো আইন দিয়ে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা সবসময় সম্ভব হয় না।” অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতাও তিনি স্বীকার করছেন।
রুটিন অ্যাক্টিভিটি থিওরি
লরেন্স কোহেন ও মার্কাস ফেলসনের রুটিন অ্যাক্টিভিটি থিওরি বলে, অপরাধ ঘটে যখন তিনটি উপাদান মিলে যায়: উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধী, উপযুক্ত লক্ষ্য, এবং অভিভাবকের অনুপস্থিতি। বাংলাদেশে রাস্তায় গণপিটুনির ঘটনাগুলোতে দেখা যায়—পুলিশ নেই, অভিভাবক নেই, ভিড় আছে। ফলে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
কী করা উচিত
একক তত্ত্ব দিয়ে পুরো চিত্র ব্যাখ্যা করা যায় না। একসঙ্গে দেখতে হবে: টেনশন অপরাধের উদ্দেশ্য তৈরি করছে; সোশ্যাল লার্নিং সহিংসতার কৌশল শেখাচ্ছে; দুর্বল সামাজিক বন্ধন নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে দিচ্ছে; আর লেবেলিং স্থায়ী অপরাধী তৈরি করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, শুধু গ্রেপ্তার-বিচার-শাস্তি দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ হবে না। কারণ অপরাধের মূল রোগ হলো—বেকারত্ব, মাদক, জুয়া, পারিবারিক ভাঙন এবং বিচারহীনতা। এই রোগের চিকিৎসা ছাড়া শুধু উপসর্গের চিকিৎসা করলে সুস্থতা মিলবে না।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সম্প্রতি বাংলাদেশের সমাজে একের পর এক নৃশংসতার ঘটনা ঘটছে। রংপুরে স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, ঢাকার রাস্তায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু, মায়ের কোল থেকে শিশু কেড়ে নিয়ে আছাড় মারা, এমনকি আপন মাকে হত্যা করার মতো ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনা কি বিচ্ছিন্ন? নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ? অপরাধবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের একাধিক তত্ত্ব এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সহায়তা করে।
টেনশন থিওরি
রবার্ট মার্টনের টেনশন থিওরি অনুযায়ী, সমাজ যখন সাফল্যের কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করে—যেমন অর্থ, প্রতিপত্তি, ক্ষমতা—কিন্তু সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর বৈধ উপায় সবার জন্য সমানভাবে খোলা রাখে না, তখন সৃষ্টি হয় টেনশন বা চাপ। এই চাপ সহ্য করতে না পেরে মানুষ অবৈধ উপায় বেছে নেয়।
বাংলাদেশে তরুণদের বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক বৈষম্য এই টেনশন তৈরি করছে। বৈধ পথে সাফল্য পাওয়া যখন কঠিন হয়ে পড়ে, তখন কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে, কেউ সহিংস অপরাধে। মার্টনের ভাষায় এটা 'ইনোভেশন' বা নতুন পথের সন্ধান।
রবার্ট অ্যাগনিউ এই তত্ত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে বলেন, শুধু অর্থনৈতিক লক্ষ্য নয়, তিন ধরনের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থেকে টেনশন তৈরি হয়: প্রিয় কিছু হারানো, নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া, এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারা। এই টেনশন থেকে জন্ম নেয় রাগ। আর এই রাগ যখন বৈধভাবে প্রকাশের পথ পায় না, তখন তা সহিংস অপরাধে রূপ নেয়।
বাংলাদেশে যে তীব্র হতাশা ও রাগ তরুণ সমাজে জমা হচ্ছে, তা যখন মাদক বা ইয়াবার মতো উদ্দীপকের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন মানুষের মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব—যা ভালো-মন্দ বিচার করে—অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে মানুষ পশুর চেয়েও হিংস্র হয়ে ওঠে।
সোশ্যাল লার্নিং থিওরি
এডউইন সাদারল্যান্ডের ডিফারেনশিয়াল অ্যাসোসিয়েশন থিওরি অনুযায়ী, অপরাধ শেখা হয় ঘনিষ্ঠ মানুষের সংস্পর্শে। যে ব্যক্তি যত বেশি অপরাধমূলক আচরণের সংস্পর্শে আসে, তার অপরাধ করার সম্ভাবনা তত বাড়ে।
আলবার্ট বান্দুরার সোশ্যাল লার্নিং থিওরি আরও বলে, মানুষ অন্যের আচরণ দেখে এবং তার ফলাফল দেখে শেখে। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সহিংসতার ভিডিও ভাইরাল হয়। শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে গণপিটুনি দেখে, ভিডিও করে, লাইক দেয়, শেয়ার করে। এই দৃশ্য পরোক্ষভাবে শেখায়—সহিংসতা করা যায়, এমনকি সহিংসতা থেকে বিনোদনও পাওয়া যায়।
রোনাল্ড অ্যাকার্সের ডিফারেনশিয়াল রিইনফোর্সমেন্ট থিওরি বলে, কোনো আচরণ যখন পুরস্কৃত হয় বা শাস্তি পায় না, তখন তা বেড়ে যায়। যখন গণপিটুনিতে কেউ বাধা পায় না, বরং সমাজে 'বীর' হিসেবে পরিচিত হয়, তখন তা আরও মানুষকে উৎসাহিত করে।
কন্ট্রোল থিওরি
ট্র্যাভিস হির্শির সোশ্যাল কন্ট্রোল থিওরি প্রশ্ন করে, সবাই তো চাপ বা সুযোগ পায়, তাহলে সবাই অপরাধ করে না কেন? উত্তর—কারণ সমাজের সঙ্গে মানুষের বন্ধন থাকে। এই বন্ধন চারটি: অ্যাটাচমেন্ট (পরিবার-সমাজের টান), কমিটমেন্ট (ভবিষ্যৎ লক্ষ্যে বিনিয়োগ), ইনভলভমেন্ট (সময় ও শক্তি সঠিক কাজে ব্যয়), এবং বিলিফ (আইন ও নৈতিকতার প্রতি বিশ্বাস)।
বাংলাদেশে এই চারটি বন্ধনই দুর্বল হয়ে পড়ছে। পারিবারিক ভাঙন, মাদকাসক্ত সন্তান, হতাশ বাবা-মা—এগুলো অ্যাটাচমেন্ট ভেঙে দিচ্ছে। বেকারত্ব কমিটমেন্ট নষ্ট করছে। আর আইনের প্রতি আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে বিচারহীনতা দেখে। যখন মানুষ দেখে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, তখন আইনের প্রতি বিশ্বাস ('বিলিফ') ভেঙে পড়ে। ফলে মানুষ নিজেই আইন হাতে তুলে নিতে উদ্যত হয়—যা মব লিঞ্চিংয়ের মূল কারণ।
লেবেলিং থিওরি
হাওয়ার্ড বেকার ও এডউইন লেমার্টের লেবেলিং থিওরি বলে, কেউ অপরাধ করলেই অপরাধী হয়ে যায় না—সমাজ তাকে অপরাধী বানায়। যখন সমাজ বা রাষ্ট্র কাউকে ‘মাদকাসক্ত’, ‘অপরাধী’ বা ‘খারাপ ছেলে’ বলে চিহ্নিত করে, তখন সেই ব্যক্তি সেই পরিচয়কে আপন করে নেয়। লেমার্ট এটাকে বলেছেন ‘সেকেন্ডারি ডেভিয়েশন’—প্রাথমিক ভুলের পর সমাজের প্রতিক্রিয়ায় স্থায়ী অপরাধী হয়ে যাওয়া।
বাংলাদেশে মাদক মামলায় ধরা পড়া তরুণ কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আর চাকরি পায় না, সমাজ তাকে গ্রহণ করে না। ফলে সে আবার অপরাধে ফিরে যায়। এভাবে রাষ্ট্র নিজেই তাকে অপরাধী বানিয়ে রাখে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি ক্র্যাবের অনুষ্ঠানে বলেছেন, “অপরাধ হচ্ছে একটা উপসর্গ। দেখা যাচ্ছে অপরাধের কিন্তু রোগ হচ্ছে অন্য জায়গায়।" তার মতে, গুরুতর অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, “জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধও কমানো সম্ভব।"
তার এই বক্তব্য টেনশন থিওরির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। মাদক ও জুয়া এখানে ‘টেনশন কমানোর’ ভুল উপায় হিসেবে কাজ করে। কিন্তু তিনি আরও স্বীকার করেছেন, “পুরোনো আইন দিয়ে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা সবসময় সম্ভব হয় না।” অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতাও তিনি স্বীকার করছেন।
রুটিন অ্যাক্টিভিটি থিওরি
লরেন্স কোহেন ও মার্কাস ফেলসনের রুটিন অ্যাক্টিভিটি থিওরি বলে, অপরাধ ঘটে যখন তিনটি উপাদান মিলে যায়: উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধী, উপযুক্ত লক্ষ্য, এবং অভিভাবকের অনুপস্থিতি। বাংলাদেশে রাস্তায় গণপিটুনির ঘটনাগুলোতে দেখা যায়—পুলিশ নেই, অভিভাবক নেই, ভিড় আছে। ফলে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
কী করা উচিত
একক তত্ত্ব দিয়ে পুরো চিত্র ব্যাখ্যা করা যায় না। একসঙ্গে দেখতে হবে: টেনশন অপরাধের উদ্দেশ্য তৈরি করছে; সোশ্যাল লার্নিং সহিংসতার কৌশল শেখাচ্ছে; দুর্বল সামাজিক বন্ধন নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে দিচ্ছে; আর লেবেলিং স্থায়ী অপরাধী তৈরি করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, শুধু গ্রেপ্তার-বিচার-শাস্তি দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ হবে না। কারণ অপরাধের মূল রোগ হলো—বেকারত্ব, মাদক, জুয়া, পারিবারিক ভাঙন এবং বিচারহীনতা। এই রোগের চিকিৎসা ছাড়া শুধু উপসর্গের চিকিৎসা করলে সুস্থতা মিলবে না।

আপনার মতামত লিখুন