সংবাদ

ট্রাম্প-শি বৈঠকের পরেই তাইওয়ানে মার্কিন যুদ্ধবিমান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

ট্রাম্প-শি বৈঠকের পরেই তাইওয়ানে মার্কিন যুদ্ধবিমান
ছবি : রয়টার্স

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের মুখে নিজেদের আকাশসীমার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক ‘এফ-১৬ভি’ যুদ্ধবিমান হাতে পেয়েছে তাইওয়ান। ২০১৯ সালে দেওয়া অর্ডারের অধীনে নির্মিত ৬৬টি ‘এফ-১৬ভি ব্লক ৭০’ যুদ্ধবিমানের প্রথম চালানের ২টি বিমান শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাহাড়ি পূর্ব উপকূলের তাইতুং এলাকার চিহ-হাং বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।

কয়েক মাসের বিলম্বের পর হাওয়াই ও গুয়াম হয়ে বিমান দুটি তাইওয়ানে পৌঁছায়। এই চালানের মধ্য দিয়ে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সূচনা হলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে একে ‘আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ’ উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। একই দিন তাইপেতে পার্লামেন্টে সাংবাদিকদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানান, দ্রুতই বাকি যুদ্ধবিমানগুলো দেশে এসে পৌঁছাবে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার মূল্যে ৬৬টি লকহিড মার্টিনের তৈরি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে তাইওয়ান। সবকটি বিমান যুক্ত হলে তাইওয়ানের কাছে এফ-১৬ সিরিজের বিমানের সংখ্যা দাঁড়াবে ২০০-এরও বেশি। মূলত সফটওয়্যার জটিলতা এবং কারিগরি কারণে এগুলো সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল।

পর্যাপ্ত অ্যাভিওনিক্স, আধুনিক অস্ত্র ও রাডার সমৃদ্ধ এই এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানগুলো চীনা বিমানবাহিনীর ৫ম প্রজন্মের ‘জে-২০’ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে তৈরি। যদিও তাইওয়ানকে সবচেয়ে আধুনিক এফ-২২ বা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিতে ওয়াশিংটন রাজি নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইন অনুযায়ী তাইওয়ানকে আত্মরক্ষামূলক পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম প্রদানে বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এফ-১৬ভি পৌঁছানোর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মে মাসে বেইজিং সফরে তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত ১,৪০০ কোটি ডলারের একটি নতুন অস্ত্র প্যাকেজ আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

চীনা আগ্রাসনের হুমকি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জোর দিয়ে বলেন, ‘তাইওয়ানকে শক্তি প্রয়োগ করে দখল করার বেইজিংয়ের মানসিকতা কোনো দিনই বদলায়নি।’ আকাশ সুরক্ষার পাশাপাশি তাইওয়ান তাদের নিজস্ব অস্ত্র তৈরি ও উন্নত প্রযুক্তির সাবমেরিন (যেমন- 'নারওয়াল') বানানোর কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বেইজিং বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র সরবরাহের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

/ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


ট্রাম্প-শি বৈঠকের পরেই তাইওয়ানে মার্কিন যুদ্ধবিমান

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের মুখে নিজেদের আকাশসীমার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক ‘এফ-১৬ভি’ যুদ্ধবিমান হাতে পেয়েছে তাইওয়ান। ২০১৯ সালে দেওয়া অর্ডারের অধীনে নির্মিত ৬৬টি ‘এফ-১৬ভি ব্লক ৭০’ যুদ্ধবিমানের প্রথম চালানের ২টি বিমান শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাহাড়ি পূর্ব উপকূলের তাইতুং এলাকার চিহ-হাং বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।

কয়েক মাসের বিলম্বের পর হাওয়াই ও গুয়াম হয়ে বিমান দুটি তাইওয়ানে পৌঁছায়। এই চালানের মধ্য দিয়ে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সূচনা হলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে একে ‘আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ’ উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। একই দিন তাইপেতে পার্লামেন্টে সাংবাদিকদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানান, দ্রুতই বাকি যুদ্ধবিমানগুলো দেশে এসে পৌঁছাবে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার মূল্যে ৬৬টি লকহিড মার্টিনের তৈরি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে তাইওয়ান। সবকটি বিমান যুক্ত হলে তাইওয়ানের কাছে এফ-১৬ সিরিজের বিমানের সংখ্যা দাঁড়াবে ২০০-এরও বেশি। মূলত সফটওয়্যার জটিলতা এবং কারিগরি কারণে এগুলো সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল।

পর্যাপ্ত অ্যাভিওনিক্স, আধুনিক অস্ত্র ও রাডার সমৃদ্ধ এই এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানগুলো চীনা বিমানবাহিনীর ৫ম প্রজন্মের ‘জে-২০’ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে তৈরি। যদিও তাইওয়ানকে সবচেয়ে আধুনিক এফ-২২ বা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিতে ওয়াশিংটন রাজি নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইন অনুযায়ী তাইওয়ানকে আত্মরক্ষামূলক পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম প্রদানে বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এফ-১৬ভি পৌঁছানোর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মে মাসে বেইজিং সফরে তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত ১,৪০০ কোটি ডলারের একটি নতুন অস্ত্র প্যাকেজ আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

চীনা আগ্রাসনের হুমকি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জোর দিয়ে বলেন, ‘তাইওয়ানকে শক্তি প্রয়োগ করে দখল করার বেইজিংয়ের মানসিকতা কোনো দিনই বদলায়নি।’ আকাশ সুরক্ষার পাশাপাশি তাইওয়ান তাদের নিজস্ব অস্ত্র তৈরি ও উন্নত প্রযুক্তির সাবমেরিন (যেমন- 'নারওয়াল') বানানোর কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বেইজিং বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র সরবরাহের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

/ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত