মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সৌদি প্রবাসী আশরাফ আলীর স্ত্রী পারভীন আকতার ও তার ছয় বছর বয়সী শিশুপুত্র আব্দুল নূরকে গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলায় দেবর সোলাইমান হোসেনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ শুনানি ও ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
মামলার নথি ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে প্রবাসী আশরাফ আলীর স্ত্রী পারভীনের সঙ্গে তার আপন দেবর সোলাইমানের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে পারভীন তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সোলাইমান অস্বীকৃতি জানান, যা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এরই জের ধরে সোলাইমান পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে পারভীনকে গলা কেটে হত্যা করেন।
ঘটনার সময় পারভীনের ৬ বছর বয়সী ছেলে আব্দুল নূর হত্যাকাণ্ডটি দেখে ফেলে। প্রত্যক্ষদর্শী শিশুটি যেন বিষয়টি কারও কাছে প্রকাশ করতে না পারে, সেই আশঙ্কায় অবুঝ শিশুটিকেও একইভাবে গলা কেটে হত্যা করেন সোলাইমান।
নৃশংস এ ঘটনার পর ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি নিহত পারভীনের মা মজিরন বেগম বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় সোলাইমানকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এদিকে আদালতের ঘোষিত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেনি কোনো পক্ষই। উভয় পক্ষই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নূরতাজ আলম বাহার বলেন, ‘জোড়া খুনের মতো এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আসামি যে সাজা পেয়েছেন, তাতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট নয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাজা বৃদ্ধির দাবিতে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমার মক্কেল কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাননি। এ রায়ে আমরা অসন্তুষ্ট। রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি তুলে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সৌদি প্রবাসী আশরাফ আলীর স্ত্রী পারভীন আকতার ও তার ছয় বছর বয়সী শিশুপুত্র আব্দুল নূরকে গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলায় দেবর সোলাইমান হোসেনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ শুনানি ও ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
মামলার নথি ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে প্রবাসী আশরাফ আলীর স্ত্রী পারভীনের সঙ্গে তার আপন দেবর সোলাইমানের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে পারভীন তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সোলাইমান অস্বীকৃতি জানান, যা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এরই জের ধরে সোলাইমান পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে পারভীনকে গলা কেটে হত্যা করেন।
ঘটনার সময় পারভীনের ৬ বছর বয়সী ছেলে আব্দুল নূর হত্যাকাণ্ডটি দেখে ফেলে। প্রত্যক্ষদর্শী শিশুটি যেন বিষয়টি কারও কাছে প্রকাশ করতে না পারে, সেই আশঙ্কায় অবুঝ শিশুটিকেও একইভাবে গলা কেটে হত্যা করেন সোলাইমান।
নৃশংস এ ঘটনার পর ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি নিহত পারভীনের মা মজিরন বেগম বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় সোলাইমানকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এদিকে আদালতের ঘোষিত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেনি কোনো পক্ষই। উভয় পক্ষই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নূরতাজ আলম বাহার বলেন, ‘জোড়া খুনের মতো এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আসামি যে সাজা পেয়েছেন, তাতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট নয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাজা বৃদ্ধির দাবিতে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমার মক্কেল কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাননি। এ রায়ে আমরা অসন্তুষ্ট। রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি তুলে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

আপনার মতামত লিখুন