কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্তে মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সাহাজুল ইসলাম (৩২) নামের এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীমান্ত সংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাহাজুল ইসলাম উপজেলার জামালপুর গ্রামের সাহাবাজের ছেলে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে সাহাজুল ইসলাম মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় সীমান্ত এলাকায় এক ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএসএফ সদস্যরা সাহাজুলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়েন। এতে তার পা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলি ও স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
সীমান্তে বিএসএফের এই অনাকাঙ্ক্ষিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী মাঠে কাজ করা বাংলাদেশি কৃষকেরা এক ভারতীয় নাগরিককে ধরে নিয়ে আসেন। বর্তমানে ওই ভারতীয় নাগরিক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে রয়েছেন।
এদিকে বিএসএফের গুলিবর্ষণের ঘটনার তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যরা সতর্কতামূলক তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে কড়া অবস্থান নেন। তবে বিজিবির তৎপরতায় বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম বলেন, 'নদীতে একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির জের ধরে বিএসএফ সদস্যরা হঠাৎ গুলি চালান। এতে সাহাজুল আহত হলে পুরো সীমান্তজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।'
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, বিএসএফের অপেশাদার গুলিবর্ষণের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে। বিএসএফের গুলিবর্ষণ এবং বিজিবির হেফাজতে থাকা ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে সীমান্ত প্রোটোকল ও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের কাছে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্তে মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সাহাজুল ইসলাম (৩২) নামের এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীমান্ত সংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাহাজুল ইসলাম উপজেলার জামালপুর গ্রামের সাহাবাজের ছেলে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে সাহাজুল ইসলাম মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় সীমান্ত এলাকায় এক ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএসএফ সদস্যরা সাহাজুলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়েন। এতে তার পা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলি ও স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
সীমান্তে বিএসএফের এই অনাকাঙ্ক্ষিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী মাঠে কাজ করা বাংলাদেশি কৃষকেরা এক ভারতীয় নাগরিককে ধরে নিয়ে আসেন। বর্তমানে ওই ভারতীয় নাগরিক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে রয়েছেন।
এদিকে বিএসএফের গুলিবর্ষণের ঘটনার তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যরা সতর্কতামূলক তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে কড়া অবস্থান নেন। তবে বিজিবির তৎপরতায় বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম বলেন, 'নদীতে একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির জের ধরে বিএসএফ সদস্যরা হঠাৎ গুলি চালান। এতে সাহাজুল আহত হলে পুরো সীমান্তজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।'
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, বিএসএফের অপেশাদার গুলিবর্ষণের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে। বিএসএফের গুলিবর্ষণ এবং বিজিবির হেফাজতে থাকা ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে সীমান্ত প্রোটোকল ও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের কাছে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন