কন্যাশিশুর শিক্ষা, সার্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া বিশেষ ভাষণে রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত আবেগঘন ও সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয়, বরং এটি অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা। তার শিক্ষা কোনো দয়া নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর তার নিরাপত্তা রক্ষা করা কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং তা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব।”
দুই কন্যার জনক হিসেবে দেশের প্রতিটি কন্যাশিশুর মাঝে নিজের সন্তানকে দেখতে পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি সমাজে কন্যাশিশুর প্রতি অবহেলা ও বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি শিশুবিয়ে বন্ধের ওপর বিশেষ জোর দেন।
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সুরা আশ-শূরার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। কন্যাসন্তান মহান আল্লাহর নেয়ামত হওয়া সত্ত্বেও সমাজে একে অবমূল্যায়ন করা হয়, যা মানসিকতার পরিবর্তনের মাধ্যমে এখনই বন্ধ করা প্রয়োজন।”
এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দারিদ্র্যের কারণে হওয়া শিশুবিয়ে একটি শৈশবকে কেড়ে নেয় এবং অকাল মাতৃত্ব ও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এজন্য পরিবার ও রাষ্ট্রকে কন্যাশিশুর শিক্ষায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সাথে বিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও ডিজিটাল মাধ্যমে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নেরও তাগিদ দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যের শেষ অংশে নারী ক্ষমতায়নে দেশের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে নারী বিষয়ক দপ্তর এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ও অবৈতনিক শিক্ষা নারীশিক্ষার প্রসারে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিল।”
বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিভিন্ন কার্যকরী কর্মসূচি গ্রহণ করছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি সুযোগ-সুবিধা যেন দূর-দূরান্তের গ্রামের সেই শেষ কন্যাশিশুটির কাছেও পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
কন্যাশিশুর শিক্ষা, সার্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া বিশেষ ভাষণে রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত আবেগঘন ও সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয়, বরং এটি অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা। তার শিক্ষা কোনো দয়া নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর তার নিরাপত্তা রক্ষা করা কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং তা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব।”
দুই কন্যার জনক হিসেবে দেশের প্রতিটি কন্যাশিশুর মাঝে নিজের সন্তানকে দেখতে পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি সমাজে কন্যাশিশুর প্রতি অবহেলা ও বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি শিশুবিয়ে বন্ধের ওপর বিশেষ জোর দেন।
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সুরা আশ-শূরার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। কন্যাসন্তান মহান আল্লাহর নেয়ামত হওয়া সত্ত্বেও সমাজে একে অবমূল্যায়ন করা হয়, যা মানসিকতার পরিবর্তনের মাধ্যমে এখনই বন্ধ করা প্রয়োজন।”
এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দারিদ্র্যের কারণে হওয়া শিশুবিয়ে একটি শৈশবকে কেড়ে নেয় এবং অকাল মাতৃত্ব ও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এজন্য পরিবার ও রাষ্ট্রকে কন্যাশিশুর শিক্ষায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সাথে বিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও ডিজিটাল মাধ্যমে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নেরও তাগিদ দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যের শেষ অংশে নারী ক্ষমতায়নে দেশের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে নারী বিষয়ক দপ্তর এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ও অবৈতনিক শিক্ষা নারীশিক্ষার প্রসারে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিল।”
বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিভিন্ন কার্যকরী কর্মসূচি গ্রহণ করছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি সুযোগ-সুবিধা যেন দূর-দূরান্তের গ্রামের সেই শেষ কন্যাশিশুটির কাছেও পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

আপনার মতামত লিখুন