সংবাদ

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে: নৌমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে: নৌমন্ত্রী
ছ‌বি: সংগৃ‌হিত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে চলমান বিতর্ক ও প্রতিবাদের মধ্যেই নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘জাতির বৃহত্তর স্বার্থে’ জাতীয় বন্দর কৌশল বা ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার নিশ্চিত করতে বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদেশি বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।

র‌বিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত বৃহস্পতিবার এনসিটি পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই চুক্তি সইয়ের সময় অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে কয়েকটি বামপন্থী সংগঠন বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এর আগে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করে আনা হয়। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার শেষ মুহূর্তে চুক্তির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও এনসিটি পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হয়।

সেমিনারে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ সমুদ্র, নদ ও স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। তাই বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়, দক্ষতা ও কার্যকর কৌশল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব বড় কথা নয়, বরং রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

এ উদ্যোগে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন বলে জানান শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার (মার্সক) ও সিঙ্গাপুরের পিএসএ-এর মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এর সুফল পেতে হলে সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়লে শুধু আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমই সহজ হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। এ ছাড়া নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া এবং জাইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর তাকাহাশি জুনকোসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় বন্দর কৌশল কার্যকর হলে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে: নৌমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে চলমান বিতর্ক ও প্রতিবাদের মধ্যেই নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘জাতির বৃহত্তর স্বার্থে’ জাতীয় বন্দর কৌশল বা ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার নিশ্চিত করতে বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদেশি বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।

র‌বিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত বৃহস্পতিবার এনসিটি পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই চুক্তি সইয়ের সময় অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে কয়েকটি বামপন্থী সংগঠন বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এর আগে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করে আনা হয়। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার শেষ মুহূর্তে চুক্তির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও এনসিটি পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হয়।

সেমিনারে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ সমুদ্র, নদ ও স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। তাই বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়, দক্ষতা ও কার্যকর কৌশল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব বড় কথা নয়, বরং রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

এ উদ্যোগে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন বলে জানান শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার (মার্সক) ও সিঙ্গাপুরের পিএসএ-এর মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এর সুফল পেতে হলে সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়লে শুধু আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমই সহজ হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। এ ছাড়া নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া এবং জাইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর তাকাহাশি জুনকোসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় বন্দর কৌশল কার্যকর হলে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত