সংবাদ

‘কিশোরী-তরুণীদের স্বাবলম্বী করতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

‘কিশোরী-তরুণীদের স্বাবলম্বী করতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শুধু প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে পরিবারকে সম্পৃক্ত করা, নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।

সোমবার রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচি তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর নারীদের ক্ষমতায়নে তাদের পরিবারকে সম্পৃক্ত করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সমাজে একজন নারীকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারলে নারীর ব্যক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথও সুগম হবে।

নারীর ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিত কর্মসূচি নিতে হবে। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার আগে তার আত্মবিশ্বাস, নিজের অধিকার সম্পর্কে ধারণা এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাও জরুরি।

কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে যোগাযোগ দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজের দক্ষতা, কাজ, পণ্য বা সেবার গুণাগুণ কার্যকরভাবে অন্যের কাছে তুলে ধরতে পারা গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা। তাই নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগদক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ, সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি করে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। মেয়েদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়ানো গেলে নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনগত সুরক্ষা ও সচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থান ও আয়মূলক কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ পরিবার ও সমাজে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সঙ্গে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে সমন্বিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া কিশোরী ও তরুণীদের জন্য এমন কর্মসূচি নিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সহযোগিতাও পান। এক্ষেত্রে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এসময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


‘কিশোরী-তরুণীদের স্বাবলম্বী করতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ’

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শুধু প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে পরিবারকে সম্পৃক্ত করা, নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।

সোমবার রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচি তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর নারীদের ক্ষমতায়নে তাদের পরিবারকে সম্পৃক্ত করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সমাজে একজন নারীকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারলে নারীর ব্যক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথও সুগম হবে।

নারীর ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিত কর্মসূচি নিতে হবে। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার আগে তার আত্মবিশ্বাস, নিজের অধিকার সম্পর্কে ধারণা এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাও জরুরি।

কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে যোগাযোগ দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজের দক্ষতা, কাজ, পণ্য বা সেবার গুণাগুণ কার্যকরভাবে অন্যের কাছে তুলে ধরতে পারা গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা। তাই নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগদক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ, সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি করে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। মেয়েদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়ানো গেলে নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনগত সুরক্ষা ও সচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থান ও আয়মূলক কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ পরিবার ও সমাজে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সঙ্গে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে সমন্বিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া কিশোরী ও তরুণীদের জন্য এমন কর্মসূচি নিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সহযোগিতাও পান। এক্ষেত্রে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এসময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত