সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অভূতপূর্ব মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। অতি সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। কয়েক দশকের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য ও জ্বালানি সরবরাহ দিয়ে সাহায্য করলেও হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযানে নামেনি।
তবে রিয়াদের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, "সৌদি আরবের সমর্থনে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।"
মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত বিস্তার ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে মারাত্মক অস্বস্তিকর সময়ে সৃষ্টি হয়েছে। ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক নাতাশা হল ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, "সৌদি আরবের সত্যিই সহায়তা প্রয়োজন, কিন্তু সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ট্রাম্পও কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছেন।"
মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সাহায্য পর্যাপ্ত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে সৌদি আরব এখন পাকিস্তান, তুরস্কসহ আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ও সহায়তা প্রার্থনা করছে।
তবে ইয়েমেনে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি ও প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়াতে ওয়াশিংটনের তীব্র অনীহা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক কারেন ইয়ং পরিস্থিতির গভীরতা বিশ্লেষণ করে বলেন, "ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে দেশটির অভ্যন্তরে জনসমর্থন নেই বললেই চলে।"
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা মনিটরিংয়ের বিশ্লেষক আমেনেহ মেহভার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বাড়তে পারে, যা নতুন উত্তেজনার চক্র তৈরি করবে।"
মার্কিন নাগরিকদের ইতোমধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সৌদি আরবের নিরাপত্তা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর এই ত্রিমুখী জটিল চ্যালেঞ্জ মার্কিন প্রশাসন কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অভূতপূর্ব মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। অতি সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। কয়েক দশকের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য ও জ্বালানি সরবরাহ দিয়ে সাহায্য করলেও হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযানে নামেনি।
তবে রিয়াদের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, "সৌদি আরবের সমর্থনে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।"
মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত বিস্তার ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে মারাত্মক অস্বস্তিকর সময়ে সৃষ্টি হয়েছে। ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক নাতাশা হল ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, "সৌদি আরবের সত্যিই সহায়তা প্রয়োজন, কিন্তু সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ট্রাম্পও কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছেন।"
মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সাহায্য পর্যাপ্ত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে সৌদি আরব এখন পাকিস্তান, তুরস্কসহ আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ও সহায়তা প্রার্থনা করছে।
তবে ইয়েমেনে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি ও প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়াতে ওয়াশিংটনের তীব্র অনীহা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক কারেন ইয়ং পরিস্থিতির গভীরতা বিশ্লেষণ করে বলেন, "ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে দেশটির অভ্যন্তরে জনসমর্থন নেই বললেই চলে।"
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা মনিটরিংয়ের বিশ্লেষক আমেনেহ মেহভার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বাড়তে পারে, যা নতুন উত্তেজনার চক্র তৈরি করবে।"
মার্কিন নাগরিকদের ইতোমধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সৌদি আরবের নিরাপত্তা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর এই ত্রিমুখী জটিল চ্যালেঞ্জ মার্কিন প্রশাসন কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন