সংবাদ

হরমুজে ২০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৯ এএম

হরমুজে ২০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে একটি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল ছিল। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

​আইআরজিসির দাবি, ট্যাংকারটি প্রণালির একটি অননুমোদিত নৌপথ দিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। পথিমধ্যে সেটি সামুদ্রিক মাইনের সংস্পর্শে এলে এই বিস্ফোরণ ঘটে এবং জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।

​নৌবাহিনীর বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ইরানি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিতে ট্যাংকারটি ইচ্ছাকৃতভাবে এর অবস্থান শনাক্তকারী ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সুরক্ষায় জাহাজটি ওই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ করেছে আইআরজিসি। তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বিধি লঙ্ঘন এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো সমন্বয় না করার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও ওই ট্যাংকারের নাম, সুনির্দিষ্ট সময়, হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে বিবৃতিতে কিছু জানানো হয়নি।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও তেল পরিবহন নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা বর্তমানে চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের কারণে বর্তমানে কোনো ইরানি জাহাজ ওই জলপথ অতিক্রম করতে পারছে না। গত এক সপ্তাহে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর ১০ কোটির বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ওয়াশিংটন সহায়তা দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের তেল রপ্তানিও ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

​এর জবাবে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। দেশটির ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হামিদ বোভার্ড জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হলে তার দ্রুত ও যথোচিত জবাব দেওয়া হবে। এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের অন্যায্য চাপের কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না।

​মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ‘অমানবিক’ ও ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, তেহরান সবসময় আলোচনার পক্ষে, তবে শক্তি প্রয়োগ করে কখনো ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না।

​বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই তীব্র পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে কেবল বিশ্ব জ্বালানি বাজারই নয়, বরং পুরো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তেলবাহী এই সুপারট্যাংকারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


হরমুজে ২০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে একটি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল ছিল। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

​আইআরজিসির দাবি, ট্যাংকারটি প্রণালির একটি অননুমোদিত নৌপথ দিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। পথিমধ্যে সেটি সামুদ্রিক মাইনের সংস্পর্শে এলে এই বিস্ফোরণ ঘটে এবং জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।

​নৌবাহিনীর বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ইরানি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিতে ট্যাংকারটি ইচ্ছাকৃতভাবে এর অবস্থান শনাক্তকারী ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সুরক্ষায় জাহাজটি ওই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ করেছে আইআরজিসি। তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বিধি লঙ্ঘন এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো সমন্বয় না করার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও ওই ট্যাংকারের নাম, সুনির্দিষ্ট সময়, হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে বিবৃতিতে কিছু জানানো হয়নি।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও তেল পরিবহন নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা বর্তমানে চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের কারণে বর্তমানে কোনো ইরানি জাহাজ ওই জলপথ অতিক্রম করতে পারছে না। গত এক সপ্তাহে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর ১০ কোটির বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ওয়াশিংটন সহায়তা দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের তেল রপ্তানিও ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

​এর জবাবে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। দেশটির ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হামিদ বোভার্ড জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হলে তার দ্রুত ও যথোচিত জবাব দেওয়া হবে। এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের অন্যায্য চাপের কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না।

​মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ‘অমানবিক’ ও ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, তেহরান সবসময় আলোচনার পক্ষে, তবে শক্তি প্রয়োগ করে কখনো ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না।

​বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই তীব্র পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে কেবল বিশ্ব জ্বালানি বাজারই নয়, বরং পুরো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তেলবাহী এই সুপারট্যাংকারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত