সংবাদ

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, দিশেহারা ক্রেতারা


প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, দিশেহারা ক্রেতারা
ছবি : সংবাদ

চট্টগ্রাম নগরের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে গিয়ে বাজেটের সঙ্গে খরচের হিসাব মেলাতে না পেরে অনেকেই বাধ্য হয়ে কেনাকাটার ফর্দ ছোট করছেন, কমিয়ে দিচ্ছেন পণ্যের পরিমাণ। আয় না বাড়লেও সংসারের ব্যয় লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে নিত্যপণ্য কাটছাঁট করেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। অনেক পরিবারকে এমনকি দৈনন্দিন খাবারের তালিকায়ও আনতে হচ্ছে বড় পরিবর্তন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) নগরের বহদ্দারহাট, রিয়াজউদ্দীন বাজার, চকবাজার, কাজীর দেউড়ি, দুই নম্বর গেট কর্ণফুলী মার্কেট ও আগ্রাবাদ কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘিরে নগরের বাজারগুলোতে কেনাকাটার চাপ বাড়ার সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছেন বলে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ। তবে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি-পরিবহন ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, চড়া আমদানি ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতার কারণেই পণ্যের দাম বেড়েছে।

সবজি বাজারে যেন আগুনের ছোঁয়া

বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু, মিষ্টি কুমড়া ও পেঁপের মতো হাতে গোনা কয়েকটি সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও অধিকাংশ সবজির দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বর্তমানে বরবটি, বেগুন, ঝিঙে, ঢেঁড়স ও পটল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়। টমেটোর দাম লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ থেকে ২৬০ টাকা এবং শিম বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায়। এ ছাড়া ধনেপাতা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পুদিনাপাতা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, গাজর ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৪০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারেও চড়া দাম

আমীষের বাজারেও স্বস্তি নেই বললেই চলে। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের ভরসা পাঙ্গাশ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং নাইলোটিকা ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লইট্যা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, রুই ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাতলা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। পাশাপাশি পোয়া ৫০০ টাকা, কোরাল ১ হাজার টাকা, পাবদা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পুঁটি ৩০০ টাকা, দেশি কৈ ১ হাজার ৬০০ টাকা, শিং ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, শোল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, লাক্ষা ১ হাজার ২০০ টাকা, ছুরি ৩৫০ টাকা, মাইট্যা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং মলা মাছ ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

পোলট্রি ও মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, সোনালি ৩৫০ টাকা, পাকিস্তানি কক ৪০০ টাকা, দেশি সোনালি ৪৫০ টাকা, লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে হাঁসের দাম ৮৫০ টাকা এবং বেলজিয়াম হাঁস ৪০০ টাকা কেজি। মাংসের বাজারে হাড়যুক্ত গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, হাড়হীন মাংস ৯৫০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা, ছাগলের মাংস ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং ভেড়ার মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আমিষের সহজ উৎস ডিমের বাজারে ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫৫ টাকা, সাদা ডিম ১৪৫ টাকা, দেশি ডিম ২০০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২৪০ টাকায় ঠেকেছে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ ও প্রশাসনের বক্তব্য

বহদ্দারহাটে বাজার করতে আসা জিয়াউল হক নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'একই বাজেট নিয়ে বাজারে এসে এখন আর পরিবারের প্রয়োজনীয় সবজি কেনা যাচ্ছে না। বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি বাজারের এই অস্বাভাবিক ব্যয় সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।' ষোলশহর কর্ণফুলী হাটে রুবায়েত তানভীর নামের এক ক্রেতা বলেন, 'মাছ-মাংসের বাজারে তো আগুন লেগেছেই, ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই বাজারে। এ অবস্থায় গরিব মানুষ খাবে কী? বাঁচবে কীভাবে?'

বাজার পরিস্থিতি ও তদারকি সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিবিড় তদারকি চালানো হচ্ছে। দোকানগুলোতে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ এবং কেনাবেচার নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, দিশেহারা ক্রেতারা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম নগরের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে গিয়ে বাজেটের সঙ্গে খরচের হিসাব মেলাতে না পেরে অনেকেই বাধ্য হয়ে কেনাকাটার ফর্দ ছোট করছেন, কমিয়ে দিচ্ছেন পণ্যের পরিমাণ। আয় না বাড়লেও সংসারের ব্যয় লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে নিত্যপণ্য কাটছাঁট করেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। অনেক পরিবারকে এমনকি দৈনন্দিন খাবারের তালিকায়ও আনতে হচ্ছে বড় পরিবর্তন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) নগরের বহদ্দারহাট, রিয়াজউদ্দীন বাজার, চকবাজার, কাজীর দেউড়ি, দুই নম্বর গেট কর্ণফুলী মার্কেট ও আগ্রাবাদ কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘিরে নগরের বাজারগুলোতে কেনাকাটার চাপ বাড়ার সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছেন বলে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ। তবে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি-পরিবহন ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, চড়া আমদানি ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতার কারণেই পণ্যের দাম বেড়েছে।

সবজি বাজারে যেন আগুনের ছোঁয়া

বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু, মিষ্টি কুমড়া ও পেঁপের মতো হাতে গোনা কয়েকটি সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও অধিকাংশ সবজির দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বর্তমানে বরবটি, বেগুন, ঝিঙে, ঢেঁড়স ও পটল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়। টমেটোর দাম লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ থেকে ২৬০ টাকা এবং শিম বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায়। এ ছাড়া ধনেপাতা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পুদিনাপাতা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, গাজর ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৪০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারেও চড়া দাম

আমীষের বাজারেও স্বস্তি নেই বললেই চলে। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের ভরসা পাঙ্গাশ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং নাইলোটিকা ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লইট্যা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, রুই ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাতলা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। পাশাপাশি পোয়া ৫০০ টাকা, কোরাল ১ হাজার টাকা, পাবদা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পুঁটি ৩০০ টাকা, দেশি কৈ ১ হাজার ৬০০ টাকা, শিং ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, শোল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, লাক্ষা ১ হাজার ২০০ টাকা, ছুরি ৩৫০ টাকা, মাইট্যা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং মলা মাছ ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

পোলট্রি ও মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, সোনালি ৩৫০ টাকা, পাকিস্তানি কক ৪০০ টাকা, দেশি সোনালি ৪৫০ টাকা, লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে হাঁসের দাম ৮৫০ টাকা এবং বেলজিয়াম হাঁস ৪০০ টাকা কেজি। মাংসের বাজারে হাড়যুক্ত গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, হাড়হীন মাংস ৯৫০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা, ছাগলের মাংস ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং ভেড়ার মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আমিষের সহজ উৎস ডিমের বাজারে ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫৫ টাকা, সাদা ডিম ১৪৫ টাকা, দেশি ডিম ২০০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২৪০ টাকায় ঠেকেছে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ ও প্রশাসনের বক্তব্য

বহদ্দারহাটে বাজার করতে আসা জিয়াউল হক নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'একই বাজেট নিয়ে বাজারে এসে এখন আর পরিবারের প্রয়োজনীয় সবজি কেনা যাচ্ছে না। বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি বাজারের এই অস্বাভাবিক ব্যয় সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।' ষোলশহর কর্ণফুলী হাটে রুবায়েত তানভীর নামের এক ক্রেতা বলেন, 'মাছ-মাংসের বাজারে তো আগুন লেগেছেই, ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই বাজারে। এ অবস্থায় গরিব মানুষ খাবে কী? বাঁচবে কীভাবে?'

বাজার পরিস্থিতি ও তদারকি সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিবিড় তদারকি চালানো হচ্ছে। দোকানগুলোতে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ এবং কেনাবেচার নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত