সংবাদ

প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে দেশে ফিরলেন দুই যুবক


প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে দেশে ফিরলেন দুই যুবক
ছবি : সংবাদ

পরিবারের দুশ্চিন্তা ও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাতটায় বুরাক এয়ারের ‘ইউজেড২২২’ ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ওই দুই যুবক।

ফিরে আসা দুই যুবক হলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া গ্রামের ফজলু হকের ছেলে মো. সবুজ আলী (২২) এবং আব্দুল মালেকের ছেলে মেহেদী হাসান (২৩)।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উন্নত জীবনের আশায় দালালের প্রলোভনে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন সবুজ ও মেহেদী। কিন্তু মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে সৌদি আরব ও মিসর হয়ে তাদের লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর নানা অজুহাতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৩২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালালরা। এরপর প্রায় সাত মাস পর লিবিয়া পুলিশ তাদের আটক করে ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, টাঙ্গাইল শহরের ঘারিন্দা এলাকার সিএনজিচালক কাইয়ুম ও এলেঙ্গা এলাকার আমিন এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বিদেশে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তারা দুই যুবককে লিবিয়ায় বন্দিদশায় ঠেলে দেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৬ আগস্টের পর থেকে মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পরিবারটির। এমতাবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে সবুজ আলীর মালয়েশিয়াপ্রবাসী বড় ভাই রিপন আহমেদ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ তুলে দেন।

মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে রিপন আহমেদ বলেন, “ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি সম্পূর্ণ নিরুপায় হয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের কথা শুনেছেন এবং দ্রুত সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। তার সহায়তা না পেলে আজ ভাইকে ফিরে পেতাম কি না জানি না। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।”

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে ওই দুই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ সহযোগিতায় মানবিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, 'সবুজের বড় ভাই রিপন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার পর আমি দ্রুত দুই যুবকের অবস্থান শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলি। তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরে আমরা সত্যি স্বস্তি বোধ করছি। পাশাপাশি দেশের তরুণ সমাজকে বলবো, অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত থাকুন।'

এদিকে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও আইওএমের সহযোগিতায় এদিন মোট ১৭৪ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে সাগর থেকে উদ্ধারের পর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ৩৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় ফেরা ১৩৮ জন রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে দেশে ফিরলেন দুই যুবক

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পরিবারের দুশ্চিন্তা ও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাতটায় বুরাক এয়ারের ‘ইউজেড২২২’ ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ওই দুই যুবক।

ফিরে আসা দুই যুবক হলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া গ্রামের ফজলু হকের ছেলে মো. সবুজ আলী (২২) এবং আব্দুল মালেকের ছেলে মেহেদী হাসান (২৩)।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উন্নত জীবনের আশায় দালালের প্রলোভনে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন সবুজ ও মেহেদী। কিন্তু মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে সৌদি আরব ও মিসর হয়ে তাদের লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর নানা অজুহাতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৩২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালালরা। এরপর প্রায় সাত মাস পর লিবিয়া পুলিশ তাদের আটক করে ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, টাঙ্গাইল শহরের ঘারিন্দা এলাকার সিএনজিচালক কাইয়ুম ও এলেঙ্গা এলাকার আমিন এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বিদেশে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তারা দুই যুবককে লিবিয়ায় বন্দিদশায় ঠেলে দেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৬ আগস্টের পর থেকে মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পরিবারটির। এমতাবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে সবুজ আলীর মালয়েশিয়াপ্রবাসী বড় ভাই রিপন আহমেদ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ তুলে দেন।

মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে রিপন আহমেদ বলেন, “ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি সম্পূর্ণ নিরুপায় হয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের কথা শুনেছেন এবং দ্রুত সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। তার সহায়তা না পেলে আজ ভাইকে ফিরে পেতাম কি না জানি না। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।”

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে ওই দুই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ সহযোগিতায় মানবিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, 'সবুজের বড় ভাই রিপন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার পর আমি দ্রুত দুই যুবকের অবস্থান শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলি। তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরে আমরা সত্যি স্বস্তি বোধ করছি। পাশাপাশি দেশের তরুণ সমাজকে বলবো, অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত থাকুন।'

এদিকে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও আইওএমের সহযোগিতায় এদিন মোট ১৭৪ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে সাগর থেকে উদ্ধারের পর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ৩৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় ফেরা ১৩৮ জন রয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত