সংবাদ

সৌদির তেল পাইপলাইন ও বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

সৌদির তেল পাইপলাইন ও বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম অপরিশোধিত তেল পরিবহন পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশন ও রিয়াদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালানোর জোর দাবি করেছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গোষ্ঠীটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি নিশ্চিত করে। তবে এই চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেনি।

এর আগে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, রাজধানী সানায় হুথিদের দুটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

জোটটি দাবি করে, এসব উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকেই মূলত সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উদ্দেশ্যে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছিল। তবে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝআকাশেই ধ্বংস ও প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।

ইরানের সুসংগঠিত সমর্থনের ওপর ভর করে হুথিরা দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর এবং স্পর্শকাতর তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালিয়ে আসছে। ক্রমাগত এসব আকস্মিক আক্রমণের কারণে মার্কিন সামরিক জোটের প্রধান মিত্র সৌদি আরব সামগ্রিকভাবে একটি তীব্র ও জটিল আঞ্চলিক সংঘাতের মুখে পড়েছে।

হুথিরা তাদের সামরিক বিবৃতিতে আরও দাবি করেছে, তারা সফলভাবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের স্পর্শকাতর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে গোষ্ঠীটির চালানো এক ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নাগরিক নিহত হওয়ার পর বিমানবন্দরটির ক্ষতিগ্রস্ত দুটি টার্মিনালে ঘটনার কিছুদিন পর রোববার থেকে আবার বিমান চলাচলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু হয়। এক দশকেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে সৌদি আরবে সংঘটিত এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী ও ক্ষতিকর আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উত্তপ্ত ও চরম সংকটাপন্ন মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে উচ্চপর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মক্কা চুক্তির অন্তর্ভূক্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।

কূটনৈতিক তথ্যমতে জানা যায়, পরিকল্পিত ও বহুল আলোচিত এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলে তা হবে সৌদি আরবে হুথিদের সামরিক আঘাত হানার পর তিন দেশের জোটের সঙ্গে তেহরানের প্রথম প্রত্যক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ। মূলতঃ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অক্ষ অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


সৌদির তেল পাইপলাইন ও বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম অপরিশোধিত তেল পরিবহন পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশন ও রিয়াদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালানোর জোর দাবি করেছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গোষ্ঠীটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি নিশ্চিত করে। তবে এই চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেনি।

এর আগে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, রাজধানী সানায় হুথিদের দুটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

জোটটি দাবি করে, এসব উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকেই মূলত সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উদ্দেশ্যে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছিল। তবে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝআকাশেই ধ্বংস ও প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।

ইরানের সুসংগঠিত সমর্থনের ওপর ভর করে হুথিরা দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর এবং স্পর্শকাতর তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালিয়ে আসছে। ক্রমাগত এসব আকস্মিক আক্রমণের কারণে মার্কিন সামরিক জোটের প্রধান মিত্র সৌদি আরব সামগ্রিকভাবে একটি তীব্র ও জটিল আঞ্চলিক সংঘাতের মুখে পড়েছে।

হুথিরা তাদের সামরিক বিবৃতিতে আরও দাবি করেছে, তারা সফলভাবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের স্পর্শকাতর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে গোষ্ঠীটির চালানো এক ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নাগরিক নিহত হওয়ার পর বিমানবন্দরটির ক্ষতিগ্রস্ত দুটি টার্মিনালে ঘটনার কিছুদিন পর রোববার থেকে আবার বিমান চলাচলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু হয়। এক দশকেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে সৌদি আরবে সংঘটিত এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী ও ক্ষতিকর আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উত্তপ্ত ও চরম সংকটাপন্ন মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে উচ্চপর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মক্কা চুক্তির অন্তর্ভূক্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।

কূটনৈতিক তথ্যমতে জানা যায়, পরিকল্পিত ও বহুল আলোচিত এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলে তা হবে সৌদি আরবে হুথিদের সামরিক আঘাত হানার পর তিন দেশের জোটের সঙ্গে তেহরানের প্রথম প্রত্যক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ। মূলতঃ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অক্ষ অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত