সংবাদ

চার শতাধিক সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে


প্রতিনিধি, লালমোহন (ভোলা)
প্রতিনিধি, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

চার শতাধিক সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
ছবি : সংবাদ

ভোলার লালমোহনে সড়কের পাশ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চার শতাধিক সরকারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। কেটে ফেলা এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কাটা চললেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে উপজেলার কর্তারহাট থেকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলছে। এই কাজের সুবিধার্থে সড়কের পাশের কিছু গাছ কাটার প্রয়োজন দেখা দিলে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে গাছের সংখ্যা ও সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন ইউএনও।

উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সরেজমিন পরিদর্শন করে ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা ও সেগুলোর টেন্ডারমূল্য নির্ধারণ করে তিনি ইউএনওর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। তবে এই গাছগুলো বন বিভাগের মালিকানাধীন নয় বলেও জানান তিনি।

এদিকে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সড়কের দুই পাশের চার শতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রায়চাঁদ উদয়চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং তার সহযোগী মাসুম বিল্লাহর নাম সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির এসব গাছ কাটার পর অধিকাংশ অংশ রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হয়েছে। আবার কিছু গাছ স্থানীয় স-মিলে বিক্রি করা হয়েছে। কাটা গাছের চিহ্ন আড়াল করতে অনেক গাছের গোড়া সড়কের কাজের মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া এবং কিছু গাছ গোড়াসহ উপড়ে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সহযোগী মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, তারা নিয়ম মেনে ৪৮টি গাছ ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দরপত্রে পেয়ে সেগুলো কাটছেন।

এদিকে গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবগত করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, নিয়ম অনুযায়ী একটি গাছ কাটলে পাঁচটি গাছ রোপণের নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় দরপত্র প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তবে ১০-১২ দিন আগে গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, প্রশাসনকে আগে জানানো হলেও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অধিকাংশ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেখানে এভাবে প্রকাশ্যে শত শত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


চার শতাধিক সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভোলার লালমোহনে সড়কের পাশ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চার শতাধিক সরকারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। কেটে ফেলা এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কাটা চললেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে উপজেলার কর্তারহাট থেকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলছে। এই কাজের সুবিধার্থে সড়কের পাশের কিছু গাছ কাটার প্রয়োজন দেখা দিলে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে গাছের সংখ্যা ও সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন ইউএনও।

উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সরেজমিন পরিদর্শন করে ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা ও সেগুলোর টেন্ডারমূল্য নির্ধারণ করে তিনি ইউএনওর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। তবে এই গাছগুলো বন বিভাগের মালিকানাধীন নয় বলেও জানান তিনি।

এদিকে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সড়কের দুই পাশের চার শতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রায়চাঁদ উদয়চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং তার সহযোগী মাসুম বিল্লাহর নাম সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির এসব গাছ কাটার পর অধিকাংশ অংশ রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হয়েছে। আবার কিছু গাছ স্থানীয় স-মিলে বিক্রি করা হয়েছে। কাটা গাছের চিহ্ন আড়াল করতে অনেক গাছের গোড়া সড়কের কাজের মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া এবং কিছু গাছ গোড়াসহ উপড়ে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সহযোগী মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, তারা নিয়ম মেনে ৪৮টি গাছ ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দরপত্রে পেয়ে সেগুলো কাটছেন।

এদিকে গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবগত করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, নিয়ম অনুযায়ী একটি গাছ কাটলে পাঁচটি গাছ রোপণের নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় দরপত্র প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তবে ১০-১২ দিন আগে গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, প্রশাসনকে আগে জানানো হলেও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অধিকাংশ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেখানে এভাবে প্রকাশ্যে শত শত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত