এ বছর দেশে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি এবং ভবিষ্যতেও পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
শনিবার গাজীপুরের ভবানীপুরে দেশের প্রথম বৃহৎ পরিসরের ‘গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন তিনি। মন্ত্রী তার বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "দেশে প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতে এক কেজি পেঁয়াজও আমদানি করার প্রয়োজন হবে না।"
কৃষিপণ্যের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, "কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষিপণ্য এখনো প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারা হতাশাজনক। এর অন্যতম কারণ প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা। এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।"
তিনি জানান, দেশীয় আম, কাঁঠাল ও আনারসের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় বড় বাজার ধরা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে নতুন এ গামা ইরেডিয়েশন কেন্দ্র স্থাপনের ফলে ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস এবং পচন রোধের মাধ্যমে রপ্তানি বাণিজ্য আরও ত্বরান্বিত হবে।
খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, "স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা গেলে অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষা করা হচ্ছে। যেসব খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, সেগুলোর আমদানি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
তিনি আরও জানান, দেশে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে গাজর, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি ও ফল প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে, যার ফলে কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এমন আধুনিক কেন্দ্র স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তিনি ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) অধীনে নির্মিত ৫ লাখ কিউরি ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি ড. জিয়াগুন শি। এছাড়া পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও কমিশনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না আইসোটোপ অ্যান্ড রেডিয়েশন করপোরেশন’ (সিআইআরসি) এ বৃহৎ প্রকল্পটি নির্মাণের দায়িত্ব পায়। এই ইরেডিয়েশন কেন্দ্র সচল হওয়ার মাধ্যমে ফসল ও খাদ্যের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করা যাবে, যা আলু, পেঁয়াজ ও ফলের পচন ঠেকাতে চমৎকার ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে রপ্তানি পণ্যের কোয়ারেন্টাইন পরীক্ষার সার্বিক মান উন্নত করতে এই প্রযুক্তি বিশাল মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
এ বছর দেশে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি এবং ভবিষ্যতেও পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
শনিবার গাজীপুরের ভবানীপুরে দেশের প্রথম বৃহৎ পরিসরের ‘গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন তিনি। মন্ত্রী তার বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "দেশে প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতে এক কেজি পেঁয়াজও আমদানি করার প্রয়োজন হবে না।"
কৃষিপণ্যের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, "কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষিপণ্য এখনো প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারা হতাশাজনক। এর অন্যতম কারণ প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা। এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।"
তিনি জানান, দেশীয় আম, কাঁঠাল ও আনারসের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় বড় বাজার ধরা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে নতুন এ গামা ইরেডিয়েশন কেন্দ্র স্থাপনের ফলে ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস এবং পচন রোধের মাধ্যমে রপ্তানি বাণিজ্য আরও ত্বরান্বিত হবে।
খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, "স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা গেলে অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষা করা হচ্ছে। যেসব খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, সেগুলোর আমদানি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
তিনি আরও জানান, দেশে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে গাজর, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি ও ফল প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে, যার ফলে কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এমন আধুনিক কেন্দ্র স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তিনি ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) অধীনে নির্মিত ৫ লাখ কিউরি ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি ড. জিয়াগুন শি। এছাড়া পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও কমিশনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না আইসোটোপ অ্যান্ড রেডিয়েশন করপোরেশন’ (সিআইআরসি) এ বৃহৎ প্রকল্পটি নির্মাণের দায়িত্ব পায়। এই ইরেডিয়েশন কেন্দ্র সচল হওয়ার মাধ্যমে ফসল ও খাদ্যের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করা যাবে, যা আলু, পেঁয়াজ ও ফলের পচন ঠেকাতে চমৎকার ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে রপ্তানি পণ্যের কোয়ারেন্টাইন পরীক্ষার সার্বিক মান উন্নত করতে এই প্রযুক্তি বিশাল মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন