রাঙামাটির সাজেক সড়কে চলমান অবরোধ আগামী রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। সাজেকে চলমান খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কথা বিবেচনা করে এক দিনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে সংগঠনটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বিহার কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘদিনের অবরোধের কারণে সাজেকে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেও এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এই সাময়িক শিথিলতা স্থায়ী কোনো সিদ্ধান্ত নয় বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কমিটির আহ্বায়ক। তিনি জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আগামী ২ নভেম্বর থেকে আবারও অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।
এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণায় সাজেকের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন স্থানীয়রা। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন সাজেকবাসী।
প্রসঙ্গত, রাঙামাটির সাজেক সড়কে চলমান অবরোধের মূল কারণ হলো পাহাড়ি অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট। স্থানীয় দুটি সংগঠন—সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন গত ১০ অক্টোবর অনির্দিষ্টকালের জন্য এই অবরোধের ডাক দেয়।তাদের মূল দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেকের চাইল্যাতলী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে সঞ্জিতা ত্রিপুরা নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
অবরোধের ফলে সাজেকের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অবরোধে খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যটন শিল্প চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে; রিসোর্ট ও কটেজের বুকিং বাতিল হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা—শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হচ্ছে এবং কৃষকরা তাদের পণ্য বাজারে নিতে পারছেন না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে টহল দিচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার চেষ্টা চলছে, তবে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
রাঙামাটির সাজেক সড়কে চলমান অবরোধ আগামী রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। সাজেকে চলমান খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কথা বিবেচনা করে এক দিনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে সংগঠনটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বিহার কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘদিনের অবরোধের কারণে সাজেকে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেও এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এই সাময়িক শিথিলতা স্থায়ী কোনো সিদ্ধান্ত নয় বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কমিটির আহ্বায়ক। তিনি জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আগামী ২ নভেম্বর থেকে আবারও অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।
এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণায় সাজেকের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন স্থানীয়রা। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন সাজেকবাসী।
প্রসঙ্গত, রাঙামাটির সাজেক সড়কে চলমান অবরোধের মূল কারণ হলো পাহাড়ি অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট। স্থানীয় দুটি সংগঠন—সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন গত ১০ অক্টোবর অনির্দিষ্টকালের জন্য এই অবরোধের ডাক দেয়।তাদের মূল দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেকের চাইল্যাতলী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে সঞ্জিতা ত্রিপুরা নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
অবরোধের ফলে সাজেকের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অবরোধে খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যটন শিল্প চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে; রিসোর্ট ও কটেজের বুকিং বাতিল হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা—শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হচ্ছে এবং কৃষকরা তাদের পণ্য বাজারে নিতে পারছেন না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে টহল দিচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার চেষ্টা চলছে, তবে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।

আপনার মতামত লিখুন