ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এবার নতুন করে প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের আবেদনের নিষ্পত্তি করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৈরি হয়েছিল ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল।
কিন্তু সেই ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরাই অভিযোগ তুলছেন, নির্বাচন কমিশনের তৈরি ওয়েব পোর্টালের সমস্যায় তাঁরা চূড়ান্ত নির্দেশ আপলোড করতে পারছেন না। তাহলে ভোটারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁরাই যদি প্রযুক্তিগত বাধায় আটকে যান, তা হলে বিচারপ্রক্রিয়া এগোবে কীভাবে?
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা।
গত ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ওয়েব পোর্টালে আধার যাচাইকরণের বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিচারপতিরা আপত্তি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থার কারণে চূড়ান্ত নির্দেশ আপলোড করা যাচ্ছে না। ফলে বাস্তবে আবেদন নিষ্পত্তি হলেও অনলাইনে সেই নির্দেশ প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এর আগে ১১ অগস্টও ১৯টি ট্রাইব্যুনালের মধ্যে এক ডজনের বেশি বিচারপতি পোর্টালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, পোর্টালের মাধ্যমে আবেদনকারীদের নোটিস পাঠানো যাচ্ছে না, অতিরিক্ত নথি আপলোড করা যাচ্ছে না, ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা নেই। এমনকি কোনও ভোটারের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হলেও পোর্টালে তা কার্যকর করার ব্যবস্থাও নেই।
বিচারপতিরা আরও জানিয়েছেন, আবেদনকারীরা ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের কপি ডাউনলোড করতে পারছেন না। ফলে তাঁদের আবেদন কেন খারিজ হল, কিংবা কেন নাম অন্তর্ভুক্ত হল, তা জানার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিচারপতিরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আধার যাচাইকরণের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের আবেদন জানান। এরপর ১৩ অক্টোবরও ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কমিশনকে চিঠি দিয়ে পোর্টালের সমস্যা দ্রুত সমাধানের অনুরোধ করেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৈরি ট্রাইব্যুনাল যদি নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে কাজ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে, তাহলে বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন কীভাবে?
এখানে উল্লেখযোগ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই পশ্চিমবঙ্গে SIR-এ বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই ট্রাইব্যুনালগুলিকে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ২২ লক্ষ ২১ হাজার আবেদন ছিল বাদ পড়া ভোটারদের, আর ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন ছিল ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে। ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছিল মাত্র ১ লক্ষ ২৬ হাজার আবেদন।
অর্থাৎ, বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। তার উপর পোর্টালের প্রযুক্তিগত সমস্যা বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল-সহ একাধিক আইনজীবী আগেও সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বিচারপতিদের সাম্প্রতিক অভিযোগের পর সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট যে ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, সেই ব্যবস্থাই যদি নির্বাচন কমিশনের ওয়েব পোর্টালের সমস্যায় আটকে যায়, তাহলে দায় কার?
বিচারপতিদের অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেয়, এবং এই সমস্যার সমাধানে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে কি না, এখন সেটাই দেখার।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এবার নতুন করে প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের আবেদনের নিষ্পত্তি করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৈরি হয়েছিল ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল।
কিন্তু সেই ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরাই অভিযোগ তুলছেন, নির্বাচন কমিশনের তৈরি ওয়েব পোর্টালের সমস্যায় তাঁরা চূড়ান্ত নির্দেশ আপলোড করতে পারছেন না। তাহলে ভোটারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁরাই যদি প্রযুক্তিগত বাধায় আটকে যান, তা হলে বিচারপ্রক্রিয়া এগোবে কীভাবে?
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা।
গত ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ওয়েব পোর্টালে আধার যাচাইকরণের বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিচারপতিরা আপত্তি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থার কারণে চূড়ান্ত নির্দেশ আপলোড করা যাচ্ছে না। ফলে বাস্তবে আবেদন নিষ্পত্তি হলেও অনলাইনে সেই নির্দেশ প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এর আগে ১১ অগস্টও ১৯টি ট্রাইব্যুনালের মধ্যে এক ডজনের বেশি বিচারপতি পোর্টালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, পোর্টালের মাধ্যমে আবেদনকারীদের নোটিস পাঠানো যাচ্ছে না, অতিরিক্ত নথি আপলোড করা যাচ্ছে না, ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা নেই। এমনকি কোনও ভোটারের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হলেও পোর্টালে তা কার্যকর করার ব্যবস্থাও নেই।
বিচারপতিরা আরও জানিয়েছেন, আবেদনকারীরা ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের কপি ডাউনলোড করতে পারছেন না। ফলে তাঁদের আবেদন কেন খারিজ হল, কিংবা কেন নাম অন্তর্ভুক্ত হল, তা জানার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিচারপতিরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আধার যাচাইকরণের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের আবেদন জানান। এরপর ১৩ অক্টোবরও ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কমিশনকে চিঠি দিয়ে পোর্টালের সমস্যা দ্রুত সমাধানের অনুরোধ করেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৈরি ট্রাইব্যুনাল যদি নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে কাজ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে, তাহলে বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন কীভাবে?
এখানে উল্লেখযোগ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই পশ্চিমবঙ্গে SIR-এ বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই ট্রাইব্যুনালগুলিকে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ২২ লক্ষ ২১ হাজার আবেদন ছিল বাদ পড়া ভোটারদের, আর ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন ছিল ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে। ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছিল মাত্র ১ লক্ষ ২৬ হাজার আবেদন।
অর্থাৎ, বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। তার উপর পোর্টালের প্রযুক্তিগত সমস্যা বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল-সহ একাধিক আইনজীবী আগেও সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বিচারপতিদের সাম্প্রতিক অভিযোগের পর সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট যে ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, সেই ব্যবস্থাই যদি নির্বাচন কমিশনের ওয়েব পোর্টালের সমস্যায় আটকে যায়, তাহলে দায় কার?
বিচারপতিদের অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেয়, এবং এই সমস্যার সমাধানে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে কি না, এখন সেটাই দেখার।

আপনার মতামত লিখুন