সংবাদ

মোদির আইনের বিরুদ্ধে আদালতে আদানি-আম্বানিরসহ ২১ মিডিয়া


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

মোদির আইনের বিরুদ্ধে আদালতে আদানি-আম্বানিরসহ ২১ মিডিয়া
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের অধিকার এবং গোপন সূত্রের সুরক্ষা নিয়ে এবার বড় আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্টে। আর এই লড়াইয়ে একদিকে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন, অন্যদিকে দেশের ২১টি সংবাদ প্রকাশক সংস্থা।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই সংবাদমাধ্যমগুলির মধ্যে রয়েছে মুকেশ আম্বানির নেটওয়ার্কনিউজ-১৮ এবং গৌতম আদানির মালিকানাধীন এনডিটিভিও। ডিজিটাল তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি আইনই সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে—এই আশঙ্কা তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ডিএনপিএ।

তাদের আবেদনে সংবাদমাধ্যমের ডিজিটাল শাখার সঙ্গে যুক্ত মোট ২১টি প্রকাশক সংস্থার স্বার্থের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে নেটওয়ার্ক১৮, এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস ইন্টারনেট-সহ একাধিক বড় সংবাদমাধ্যম গোষ্ঠী।

কিন্তু কী নিয়ে আপত্তি?

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট, ২০২৩ এবং ২০২৫ সালের সংশ্লিষ্ট বিধি। সংবাদমাধ্যমগুলির বক্তব্য, এই আইনি কাঠামোয় সাংবাদিকতার জন্য স্পষ্ট ছাড় বা বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। ফলে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।

সংবাদমাধ্যমগুলির আশঙ্কা, এই নিয়ম কার্যকর হলে কোনও দুর্নীতি, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত করার আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানাতে হতে পারে। তাতে তদন্তের খবর আগেভাগে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা কিংবা সম্ভাব্য সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে বলে আবেদনকারীদের যুক্তি।

বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। আইনটির কয়েকটি বিধান অনুযায়ী, ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের সম্মতি প্রত্যাহার বা তথ্য মুছে ফেলার দাবি ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলির প্রশ্ন, জনস্বার্থে প্রকাশিত কোনও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আপত্তিতে সরিয়ে ফেলতে হয়, তাহলে অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতার স্বাধীনতা কতটা সুরক্ষিত থাকবে?

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে। আবেদনকারীদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকলে সাংবাদিকদের গোপন তথ্যসূত্রের পরিচয় প্রকাশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে দুর্নীতি বা প্রশাসনিক অনিয়ম সম্পর্কে তথ্য দিতে আগ্রহী ব্যক্তিরা পিছিয়ে যেতে পারেন বলেও দাবি সংবাদমাধ্যমগুলির।

এই মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তথ্যের অধিকার আইন বা আরটিআই-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পরিবর্তন। ডিএনপিএ-র বক্তব্য, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশোধিত বিধান সরকারি আধিকারিকদের সম্পর্কে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়ার সুযোগও সংকুচিত করতে পারে। ফলে তথ্যের অধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।

২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটি শুনেছে। সংবাদমাধ্যমের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের বক্তব্য জানতে নোটিস জারি করেছে আদালত। আপাতত চ্যালেঞ্জ করা বিধানগুলির উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৭ নভেম্বর।

শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী মাধবী দিভান যুক্তি দেন, সাংবাদিকতার জন্য নির্দিষ্ট ছাড় না থাকলে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুতর বাধা তৈরি হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা সংবাদমাধ্যমের কাজকে কার্যত অসম্ভব করে তুলতে পারে।

তবে আদালতের সামনে বিষয়টি শুধু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়। সাধারণ নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাও আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। তাই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা—এই দুই সাংবিধানিক স্বার্থের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

এখানে রাজনৈতিক ও কর্পোরেট তাৎপর্যও রয়েছে। আদানি ও আম্বানি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সংবাদমাধ্যম-সহ দেশের একাধিক বড় প্রকাশক একই আইনি চ্যালেঞ্জে সামিল হয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি কোনও একটি সংবাদমাধ্যম বা রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর কেন্দ্রে রয়েছে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের কাজের নিয়ম এবং অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ।

তবে এটিকে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আদানি-আম্বানির সরাসরি রাজনৈতিক বিদ্রোহ বলা এখনই ঠিক হবে না। আদালতে যাওয়ার নথিভুক্ত কারণ হল সংশ্লিষ্ট আইনের কয়েকটি বিধান নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলির আইনি আপত্তি। এই পদক্ষেপ সরকারের সঙ্গে তাঁদের সামগ্রিক সম্পর্কের পরিবর্তন প্রমাণ করে না।

এখন নজর ১৭ নভেম্বরের শুনানির দিকে। কেন্দ্রীয় সরকার আদালতে কী ব্যাখ্যা দেয়, সাংবাদিকতার জন্য বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিচারপতিরা কী অবস্থান নেন এবং বিতর্কিত বিধানগুলির ভবিষ্যৎ কী হয়—তার উপর নির্ভর করবে এই মামলার পরবর্তী গতিপথ।

সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই প্রশ্নই এখন সুপ্রিম কোর্টের সামনে। আর এই আইনি লড়াইয়ের ফল শুধু বড় সংবাদমাধ্যমের নয়, দেশের সাংবাদিকতা, তথ্যের অধিকার এবং জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


মোদির আইনের বিরুদ্ধে আদালতে আদানি-আম্বানিরসহ ২১ মিডিয়া

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের অধিকার এবং গোপন সূত্রের সুরক্ষা নিয়ে এবার বড় আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্টে। আর এই লড়াইয়ে একদিকে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন, অন্যদিকে দেশের ২১টি সংবাদ প্রকাশক সংস্থা।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই সংবাদমাধ্যমগুলির মধ্যে রয়েছে মুকেশ আম্বানির নেটওয়ার্কনিউজ-১৮ এবং গৌতম আদানির মালিকানাধীন এনডিটিভিও। ডিজিটাল তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি আইনই সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে—এই আশঙ্কা তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ডিএনপিএ।

তাদের আবেদনে সংবাদমাধ্যমের ডিজিটাল শাখার সঙ্গে যুক্ত মোট ২১টি প্রকাশক সংস্থার স্বার্থের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে নেটওয়ার্ক১৮, এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস ইন্টারনেট-সহ একাধিক বড় সংবাদমাধ্যম গোষ্ঠী।

কিন্তু কী নিয়ে আপত্তি?

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট, ২০২৩ এবং ২০২৫ সালের সংশ্লিষ্ট বিধি। সংবাদমাধ্যমগুলির বক্তব্য, এই আইনি কাঠামোয় সাংবাদিকতার জন্য স্পষ্ট ছাড় বা বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। ফলে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।

সংবাদমাধ্যমগুলির আশঙ্কা, এই নিয়ম কার্যকর হলে কোনও দুর্নীতি, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত করার আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানাতে হতে পারে। তাতে তদন্তের খবর আগেভাগে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা কিংবা সম্ভাব্য সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে বলে আবেদনকারীদের যুক্তি।

বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। আইনটির কয়েকটি বিধান অনুযায়ী, ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের সম্মতি প্রত্যাহার বা তথ্য মুছে ফেলার দাবি ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলির প্রশ্ন, জনস্বার্থে প্রকাশিত কোনও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আপত্তিতে সরিয়ে ফেলতে হয়, তাহলে অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতার স্বাধীনতা কতটা সুরক্ষিত থাকবে?

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে। আবেদনকারীদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকলে সাংবাদিকদের গোপন তথ্যসূত্রের পরিচয় প্রকাশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে দুর্নীতি বা প্রশাসনিক অনিয়ম সম্পর্কে তথ্য দিতে আগ্রহী ব্যক্তিরা পিছিয়ে যেতে পারেন বলেও দাবি সংবাদমাধ্যমগুলির।

এই মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তথ্যের অধিকার আইন বা আরটিআই-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পরিবর্তন। ডিএনপিএ-র বক্তব্য, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশোধিত বিধান সরকারি আধিকারিকদের সম্পর্কে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়ার সুযোগও সংকুচিত করতে পারে। ফলে তথ্যের অধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।

২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটি শুনেছে। সংবাদমাধ্যমের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের বক্তব্য জানতে নোটিস জারি করেছে আদালত। আপাতত চ্যালেঞ্জ করা বিধানগুলির উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৭ নভেম্বর।

শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী মাধবী দিভান যুক্তি দেন, সাংবাদিকতার জন্য নির্দিষ্ট ছাড় না থাকলে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুতর বাধা তৈরি হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা সংবাদমাধ্যমের কাজকে কার্যত অসম্ভব করে তুলতে পারে।

তবে আদালতের সামনে বিষয়টি শুধু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়। সাধারণ নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাও আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। তাই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা—এই দুই সাংবিধানিক স্বার্থের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

এখানে রাজনৈতিক ও কর্পোরেট তাৎপর্যও রয়েছে। আদানি ও আম্বানি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সংবাদমাধ্যম-সহ দেশের একাধিক বড় প্রকাশক একই আইনি চ্যালেঞ্জে সামিল হয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি কোনও একটি সংবাদমাধ্যম বা রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর কেন্দ্রে রয়েছে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের কাজের নিয়ম এবং অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ।

তবে এটিকে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আদানি-আম্বানির সরাসরি রাজনৈতিক বিদ্রোহ বলা এখনই ঠিক হবে না। আদালতে যাওয়ার নথিভুক্ত কারণ হল সংশ্লিষ্ট আইনের কয়েকটি বিধান নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলির আইনি আপত্তি। এই পদক্ষেপ সরকারের সঙ্গে তাঁদের সামগ্রিক সম্পর্কের পরিবর্তন প্রমাণ করে না।

এখন নজর ১৭ নভেম্বরের শুনানির দিকে। কেন্দ্রীয় সরকার আদালতে কী ব্যাখ্যা দেয়, সাংবাদিকতার জন্য বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিচারপতিরা কী অবস্থান নেন এবং বিতর্কিত বিধানগুলির ভবিষ্যৎ কী হয়—তার উপর নির্ভর করবে এই মামলার পরবর্তী গতিপথ।

সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই প্রশ্নই এখন সুপ্রিম কোর্টের সামনে। আর এই আইনি লড়াইয়ের ফল শুধু বড় সংবাদমাধ্যমের নয়, দেশের সাংবাদিকতা, তথ্যের অধিকার এবং জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত