বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।
তিনি বলেছেন, বন্ধু দীপ যা বলেছে এবং করেছে সেগুলো আসলে সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ। এর সঙ্গে ঠিক কে বা কারা জড়িত এবং কে কী করেছে, তা তিনি কিছুতেই বুঝতে পারছেন না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) উত্তরার নিজস্ব বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নিহত তাহসিফের বাবা বলেন, তার ছেলে অত্যন্ত মেধাবী একজন পাইলট ও কমিশন্ড অফিসার ছিলেন। বেশ বিনয়ী ও ভদ্র স্বভাবের এই তরুণ সবার সঙ্গেই চমৎকার সম্পর্ক বজায় রাখতেন এবং কারও কোনো সমস্যার কথা শুনলেই সেখানে ছুটে গিয়ে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতেন।
এমন একজন ছেলের এই ধরনের অস্বাভাবিক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে জানান তিনি।
ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর এক বন্ধুর ফোনে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। যাওয়ার সময় মাকে তিনি বলেছিলেন, এখনই কথা বলে ফিরে আসছেন। এরপর আর তিনি বাসায় ফেরেননি। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে নৌ পুলিশ ফোন করে জানায় যে রাজাবাড়ি ঘাটে তার ছেলের মরদেহ পাওয়া গেছে, যা তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও হৃদয়বিদারক।
ছেলের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য এরই মধ্যে উত্তরখান থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সেখানে তার ছেলের মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আবেদন জানানো হয়েছে। তাহসিফের বাবার অভিযোগ, দীপের সঙ্গে তার ছেলের বেশ কিছুদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং সে তাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ও খাওয়া-দাওয়া করায় তাকে ছোট ছেলের মতোই দেখা হতো। দীপই তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল এবং এরপর থেকে ছেলে আর ফিরে আসেনি।
পিবিআইয়ের তদন্তের সামান্য কিছু দেখে তিনি জানতে পেরেছেন, পরবর্তী সময়ে দীপ স্বীকার করেছে তারা একসঙ্গে টঙ্গীতে গিয়েছিল, অথচ দীপ এর আগে তাকে জানিয়েছিল সে তাহসিফকে নির্দিষ্ট কম্পাউন্ডের মধ্যেই রেখে এসেছে। এই অসঙ্গতিপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ছেলের মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচনে সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণমাধ্যমকর্মীরা সত্য প্রকাশে সহায়তা করবেন এবং রাষ্ট্র তার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সঠিক তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনবে। সুনাগরিক হিসেবে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেটাই তার প্রধান প্রত্যাশা।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এর আগে দুপুর সোয়া দুইটার দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত, আলামত ও নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অপরাধের মূল স্থান নির্ধারণের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গত শুক্রবার রাতে নিহতের বাবা বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ বন্ধু দীপকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখায়।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।
তিনি বলেছেন, বন্ধু দীপ যা বলেছে এবং করেছে সেগুলো আসলে সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ। এর সঙ্গে ঠিক কে বা কারা জড়িত এবং কে কী করেছে, তা তিনি কিছুতেই বুঝতে পারছেন না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) উত্তরার নিজস্ব বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নিহত তাহসিফের বাবা বলেন, তার ছেলে অত্যন্ত মেধাবী একজন পাইলট ও কমিশন্ড অফিসার ছিলেন। বেশ বিনয়ী ও ভদ্র স্বভাবের এই তরুণ সবার সঙ্গেই চমৎকার সম্পর্ক বজায় রাখতেন এবং কারও কোনো সমস্যার কথা শুনলেই সেখানে ছুটে গিয়ে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতেন।
এমন একজন ছেলের এই ধরনের অস্বাভাবিক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে জানান তিনি।
ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর এক বন্ধুর ফোনে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। যাওয়ার সময় মাকে তিনি বলেছিলেন, এখনই কথা বলে ফিরে আসছেন। এরপর আর তিনি বাসায় ফেরেননি। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে নৌ পুলিশ ফোন করে জানায় যে রাজাবাড়ি ঘাটে তার ছেলের মরদেহ পাওয়া গেছে, যা তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও হৃদয়বিদারক।
ছেলের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য এরই মধ্যে উত্তরখান থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সেখানে তার ছেলের মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আবেদন জানানো হয়েছে। তাহসিফের বাবার অভিযোগ, দীপের সঙ্গে তার ছেলের বেশ কিছুদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং সে তাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ও খাওয়া-দাওয়া করায় তাকে ছোট ছেলের মতোই দেখা হতো। দীপই তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল এবং এরপর থেকে ছেলে আর ফিরে আসেনি।
পিবিআইয়ের তদন্তের সামান্য কিছু দেখে তিনি জানতে পেরেছেন, পরবর্তী সময়ে দীপ স্বীকার করেছে তারা একসঙ্গে টঙ্গীতে গিয়েছিল, অথচ দীপ এর আগে তাকে জানিয়েছিল সে তাহসিফকে নির্দিষ্ট কম্পাউন্ডের মধ্যেই রেখে এসেছে। এই অসঙ্গতিপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ছেলের মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচনে সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণমাধ্যমকর্মীরা সত্য প্রকাশে সহায়তা করবেন এবং রাষ্ট্র তার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সঠিক তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনবে। সুনাগরিক হিসেবে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেটাই তার প্রধান প্রত্যাশা।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এর আগে দুপুর সোয়া দুইটার দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত, আলামত ও নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অপরাধের মূল স্থান নির্ধারণের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গত শুক্রবার রাতে নিহতের বাবা বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ বন্ধু দীপকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখায়।

আপনার মতামত লিখুন