চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার সামান্য কমলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
গত বছর যেখানে ৬ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ হাজার ৯২৯ জনে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫২ শতাংশেরও বেশি।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.০৭ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৫২.৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার কমেছে ০.৫০ শতাংশ পয়েন্ট।
বরাবরের মতোই ফলাফলের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা; সেখানে পাসের হার মাত্র ২৯.৮৫ শতাংশ। পাশাপাশি এবার বোর্ডের অধীনে তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
পরীক্ষার্থী ও অংশগ্রহণের চিত্র
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮৩টি কলেজের ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন। গত বছর ১১৫টি কেন্দ্রে ২৮১টি কলেজের ১ লাখ ২ হাজার ৯৭০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিলেন।
এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থী। গত বছর অংশ নিয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৮৮৮ জন। সে হিসাবে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৫৫৩ জন। চলতি বছর অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৫৪৪ জন শিক্ষার্থী (গত বছর যা ছিল ১ হাজার ৮২ জন)। এছাড়া পরীক্ষায় অসাধুপায় অবলম্বনের দায়ে ২৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে (গত বছর ছিল ৩৮ জন) এবং একটি ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।
ছাত্রীদের পাসের হার বেশি
ফলাফলে এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭.৬২ শতাংশ (গত বছর ছিল ৪৪.৯৫ শতাংশ)। অন্যদিকে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬.৪৯ শতাংশ (গত বছর ছিল ৫৫.৪৯ শতাংশ)।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪.৪২ শতাংশ (গত বছর ৭৮.৭৫%), মানবিক বিভাগে ৩৮.৩৬ শতাংশ (গত বছর ৩৭.৮০%) এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪.১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন, যা গত বছর ছিল ৫৫.৩০ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ফল : এগিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর
জেলাভিত্তিক ফলাফলে বরাবরের মতো এবারও এগিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর। মহানগরে পাসের হার ৬৬.২০ শতাংশ (গত বছর ৭০.৯০%)। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৪৫.৫৯ শতাংশ (গত বছর ৪৩.৬৩%)। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭.৮২ শতাংশ (গত বছর ৫৭.৯০%)।
বোর্ডের অধীন অন্য চার জেলার মধ্যে কক্সবাজারে পাসের হার ৪৩.৩৪ শতাংশ (গত বছর ৪৫.৩৯%), রাঙ্গামাটিতে ৩৩.২৪ শতাংশ (গত বছর ৪১.২৪%), এবং খাগড়াছড়িতে সবচেয়ে কম ২৯.৮৫ শতাংশ (গত বছর ৩৫.৫৩%)। তবে একমাত্র বান্দরবানে পাসের হার বেড়ে ৪১.৪২ শতাংশ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৩৬.৭৮ শতাংশ।
তিন কলেজে শূন্য পাস
কলেজভিত্তিক ফলাফলেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। এবার বোর্ডের অধীনে তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি, যা গত বছর ছিল পাঁচটি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ছয়টিতে (গত বছর ছিল আটটি)।
বাকি কলেজগুলোর মধ্যে পাসের হার শূন্যের বেশি থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে ১০টিতে (গত বছর ৬টি), ১০% থেকে ২০% এর মধ্যে রয়েছে ২৭টিতে (গত বছর ৪২টি), ২০% থেকে ৫০% পর্যন্ত রয়েছে ১৫৫টিতে (গত বছর ১৩৪টি), এবং ৫০% থেকে ১০০% এর কম পাসের হার রয়েছে ৮২টি কলেজে (গত বছর ৮৬টি)।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার সামান্য কমলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
গত বছর যেখানে ৬ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ হাজার ৯২৯ জনে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫২ শতাংশেরও বেশি।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.০৭ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৫২.৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার কমেছে ০.৫০ শতাংশ পয়েন্ট।
বরাবরের মতোই ফলাফলের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা; সেখানে পাসের হার মাত্র ২৯.৮৫ শতাংশ। পাশাপাশি এবার বোর্ডের অধীনে তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
পরীক্ষার্থী ও অংশগ্রহণের চিত্র
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮৩টি কলেজের ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন। গত বছর ১১৫টি কেন্দ্রে ২৮১টি কলেজের ১ লাখ ২ হাজার ৯৭০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিলেন।
এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থী। গত বছর অংশ নিয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৮৮৮ জন। সে হিসাবে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৫৫৩ জন। চলতি বছর অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৫৪৪ জন শিক্ষার্থী (গত বছর যা ছিল ১ হাজার ৮২ জন)। এছাড়া পরীক্ষায় অসাধুপায় অবলম্বনের দায়ে ২৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে (গত বছর ছিল ৩৮ জন) এবং একটি ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।
ছাত্রীদের পাসের হার বেশি
ফলাফলে এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭.৬২ শতাংশ (গত বছর ছিল ৪৪.৯৫ শতাংশ)। অন্যদিকে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬.৪৯ শতাংশ (গত বছর ছিল ৫৫.৪৯ শতাংশ)।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪.৪২ শতাংশ (গত বছর ৭৮.৭৫%), মানবিক বিভাগে ৩৮.৩৬ শতাংশ (গত বছর ৩৭.৮০%) এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪.১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন, যা গত বছর ছিল ৫৫.৩০ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ফল : এগিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর
জেলাভিত্তিক ফলাফলে বরাবরের মতো এবারও এগিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর। মহানগরে পাসের হার ৬৬.২০ শতাংশ (গত বছর ৭০.৯০%)। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৪৫.৫৯ শতাংশ (গত বছর ৪৩.৬৩%)। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭.৮২ শতাংশ (গত বছর ৫৭.৯০%)।
বোর্ডের অধীন অন্য চার জেলার মধ্যে কক্সবাজারে পাসের হার ৪৩.৩৪ শতাংশ (গত বছর ৪৫.৩৯%), রাঙ্গামাটিতে ৩৩.২৪ শতাংশ (গত বছর ৪১.২৪%), এবং খাগড়াছড়িতে সবচেয়ে কম ২৯.৮৫ শতাংশ (গত বছর ৩৫.৫৩%)। তবে একমাত্র বান্দরবানে পাসের হার বেড়ে ৪১.৪২ শতাংশ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৩৬.৭৮ শতাংশ।
তিন কলেজে শূন্য পাস
কলেজভিত্তিক ফলাফলেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। এবার বোর্ডের অধীনে তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি, যা গত বছর ছিল পাঁচটি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ছয়টিতে (গত বছর ছিল আটটি)।
বাকি কলেজগুলোর মধ্যে পাসের হার শূন্যের বেশি থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে ১০টিতে (গত বছর ৬টি), ১০% থেকে ২০% এর মধ্যে রয়েছে ২৭টিতে (গত বছর ৪২টি), ২০% থেকে ৫০% পর্যন্ত রয়েছে ১৫৫টিতে (গত বছর ১৩৪টি), এবং ৫০% থেকে ১০০% এর কম পাসের হার রয়েছে ৮২টি কলেজে (গত বছর ৮৬টি)।

আপনার মতামত লিখুন