সংবাদ

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বান্দরবানে শুরু হলো সাংগ্রাই


প্রতিনিধি, বান্দরবান
প্রতিনিধি, বান্দরবান
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বান্দরবানে শুরু হলো সাংগ্রাই
বান্দরবানে সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে সোমবার সকালে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ছবি : সংবাদ

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর নাচে-গানে পাহাড়ে শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব ‘সাংগ্রাই’। পুরোনো বছরের সব ক্লান্তি ও গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে পাহাড়জুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।

উৎসব উপলক্ষে সকালে বান্দরবান শহরের রাজার মাঠ থেকে এক বর্ণিল শোভাযাত্রা বের করা হয়। ৩০০ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরি বেলুন উড়িয়ে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শহরের মোড়ে মোড়ে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে দেয়।

শোভাযাত্রায় মারমা, ত্রিপুরা, বম, খুমি, তঞ্চঙ্গ্যা, চাকমা ও ম্রোসহ ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অংশ নেন। তাদের বর্ণিল উপস্থিতি আর পাহাড়ি গানের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

শোভাযাত্রা শেষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘বয়স্ক পূজা’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রবীণদের পা ধুইয়ে ও শ্রদ্ধা জানিয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন নবীন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। সামাজিক সম্প্রীতি ও মঙ্গল কামনায় এই প্রথা পালন করা হয়।

বিকালে প্রতিটি মারমা পাড়ায় পাড়ায় আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরির উৎসব। সেখানে পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন পাহাড়ের মানুষ।

সাংগ্রাই উৎসব উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক চথুইপ্রু মারমা বলেন, ‘উৎসবের মাধ্যমে আমরা পাহাড়ের ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই। এ বছর নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।’

সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরি বলেন, ‘বহু বছর পর সব জাতিগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি পালিত হচ্ছে। এটি পাহাড়ের সব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।’

উল্লেখ্য, সাংগ্রাই উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের পাশাপাশি বাঙালি ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের উপস্থিতিতে এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে বান্দরবান। আগামী কয়েক দিন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব চলবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বান্দরবানে শুরু হলো সাংগ্রাই

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর নাচে-গানে পাহাড়ে শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব ‘সাংগ্রাই’। পুরোনো বছরের সব ক্লান্তি ও গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে পাহাড়জুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।

উৎসব উপলক্ষে সকালে বান্দরবান শহরের রাজার মাঠ থেকে এক বর্ণিল শোভাযাত্রা বের করা হয়। ৩০০ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরি বেলুন উড়িয়ে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শহরের মোড়ে মোড়ে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে দেয়।

শোভাযাত্রায় মারমা, ত্রিপুরা, বম, খুমি, তঞ্চঙ্গ্যা, চাকমা ও ম্রোসহ ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অংশ নেন। তাদের বর্ণিল উপস্থিতি আর পাহাড়ি গানের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

শোভাযাত্রা শেষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘বয়স্ক পূজা’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রবীণদের পা ধুইয়ে ও শ্রদ্ধা জানিয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন নবীন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। সামাজিক সম্প্রীতি ও মঙ্গল কামনায় এই প্রথা পালন করা হয়।

বিকালে প্রতিটি মারমা পাড়ায় পাড়ায় আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরির উৎসব। সেখানে পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন পাহাড়ের মানুষ।

সাংগ্রাই উৎসব উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক চথুইপ্রু মারমা বলেন, ‘উৎসবের মাধ্যমে আমরা পাহাড়ের ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই। এ বছর নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।’

সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরি বলেন, ‘বহু বছর পর সব জাতিগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি পালিত হচ্ছে। এটি পাহাড়ের সব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।’

উল্লেখ্য, সাংগ্রাই উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের পাশাপাশি বাঙালি ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের উপস্থিতিতে এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে বান্দরবান। আগামী কয়েক দিন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব চলবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত