সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ রাজনীতিবিদ দবিরুল ইসলাম আর নেই


প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ রাজনীতিবিদ দবিরুল ইসলাম আর নেই
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলাম। ছবিঃ সংবাদ

উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহার দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ ঠাকুরগাঁও জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দবিরুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। পরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে দবিরুল ইসলাম একটি বিরল রেকর্ডের অধিকারী। ঠাকুরগাঁও-২ আসন (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রানীশংকৈলের একাংশ) থেকে তিনি সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে তিনি বিজয়ী হন। পরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি উল্লেখযোগ্য।

দবিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে চা-চাষ সম্প্রসারণেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি ‘রণবাগ ইসলামী টি এস্টেট’–এর মালিক ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। ওই নির্বাচনে তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ রাজনীতিবিদ দবিরুল ইসলাম আর নেই

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহার দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ ঠাকুরগাঁও জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দবিরুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। পরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে দবিরুল ইসলাম একটি বিরল রেকর্ডের অধিকারী। ঠাকুরগাঁও-২ আসন (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রানীশংকৈলের একাংশ) থেকে তিনি সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে তিনি বিজয়ী হন। পরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি উল্লেখযোগ্য।

দবিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে চা-চাষ সম্প্রসারণেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি ‘রণবাগ ইসলামী টি এস্টেট’–এর মালিক ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। ওই নির্বাচনে তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত