সংবাদ

শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্তে ইউএনও


প্রতিনিধি, মহাদেবপুর (নওগাঁ)
প্রতিনিধি, মহাদেবপুর (নওগাঁ)
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্তে ইউএনও
নওগাঁর মহাদেবপুরে সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের গুরুতর অপরাধ বারবার প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকদের একটি প্রভাবশালী চক্র অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে বাধা দিয়ে আসছিল। তবে বিষয়টি নজরে আসার পর মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ায় অভিভাবকমহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিদ্যালয়টির এক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাবা-মা অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস ধরে সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম তাদের মেয়েকে একাধিকবার ‘ব্যাড টাচ’ বা আপত্তিকর স্পর্শ করে আসছেন। বিষয়টি বারবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও তিনি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তিন দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষককে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি এখনো পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এর ধারাবাহিকতায় অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী সরাসরি মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পর রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ইউএনও সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে হইচই করলে তিনি তাদের গায়ে হাত দিয়ে শান্ত করতেন। এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অন্যত্র বদলি হওয়ার শর্তে আপস হয়েছিল বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনওয়ারুল আবেদীন বর্ষণ বলেন, “জাহাঙ্গীর আলমকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হলেও অন্য দুজন শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তাকে ক্লাস দিতে বাধ্য হতে হয়েছে। তার বদলির বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি আপাতত বদলি সম্ভব নয় বলে জানান।”

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আবু রায়হান জানান, কাগজে-কলমে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত ছিলেন না। তবে তদন্তের দিন উত্তরগ্রাম ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পবিত্র কুমারও ইউএনওর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় অভিভাবক ও অভিযুক্ত শিক্ষকের মধ্যে একটি আপসনামা প্রস্তুত করা হয়েছিল।

এদিকে, শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা স্বরসতীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাণী ইসরাইল সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, লিখিত অভিযোগ না থাকা এবং আপস হওয়ার পর এ বিষয়ে নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।

জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ বলেন, 'কয়েক সপ্তাহ আগে উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অফিসে এসে সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয়। দাপ্তরিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। এটি একটি গুরুতর অপরাধ এবং এ ধরনের অপরাধ আপসযোগ্য নয়। তাই স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সতত্যা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর চিঠি পাঠানো হচ্ছে।'

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্তে ইউএনও

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের গুরুতর অপরাধ বারবার প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকদের একটি প্রভাবশালী চক্র অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে বাধা দিয়ে আসছিল। তবে বিষয়টি নজরে আসার পর মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ায় অভিভাবকমহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিদ্যালয়টির এক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাবা-মা অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস ধরে সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম তাদের মেয়েকে একাধিকবার ‘ব্যাড টাচ’ বা আপত্তিকর স্পর্শ করে আসছেন। বিষয়টি বারবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও তিনি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তিন দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষককে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি এখনো পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এর ধারাবাহিকতায় অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী সরাসরি মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পর রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ইউএনও সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে হইচই করলে তিনি তাদের গায়ে হাত দিয়ে শান্ত করতেন। এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অন্যত্র বদলি হওয়ার শর্তে আপস হয়েছিল বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনওয়ারুল আবেদীন বর্ষণ বলেন, “জাহাঙ্গীর আলমকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হলেও অন্য দুজন শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তাকে ক্লাস দিতে বাধ্য হতে হয়েছে। তার বদলির বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি আপাতত বদলি সম্ভব নয় বলে জানান।”

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আবু রায়হান জানান, কাগজে-কলমে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত ছিলেন না। তবে তদন্তের দিন উত্তরগ্রাম ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পবিত্র কুমারও ইউএনওর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় অভিভাবক ও অভিযুক্ত শিক্ষকের মধ্যে একটি আপসনামা প্রস্তুত করা হয়েছিল।

এদিকে, শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা স্বরসতীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাণী ইসরাইল সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, লিখিত অভিযোগ না থাকা এবং আপস হওয়ার পর এ বিষয়ে নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।

জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ বলেন, 'কয়েক সপ্তাহ আগে উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অফিসে এসে সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয়। দাপ্তরিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। এটি একটি গুরুতর অপরাধ এবং এ ধরনের অপরাধ আপসযোগ্য নয়। তাই স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সতত্যা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর চিঠি পাঠানো হচ্ছে।'


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত