সংবাদ

ঢাকার পর খুলনাতেও রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম

ঢাকার পর খুলনাতেও রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি
খুলনা রেলস্টেশনের দেয়ালে থাকা রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়া অবস্থায় দেখা যায়

রাজধানী ঢাকার পর এবার খুলনায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খুলনা রেলস্টেশনের দেয়ালে আঁকা কবিগুরুর প্রতিকৃতি কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে বিদ্বেষমূলক লিফলেটও লাগিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা রেলস্টেশনের দেয়ালে থাকা রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়া অবস্থায় দেখা যায়।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর ঢাকাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গ্রাফিতির মুখমণ্ডলে কালি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াশসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

খুলনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে রেলস্টেশনের দেয়ালে জুলাই অভ্যুত্থান, সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাটশিল্পের গ্রাফিতির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, ফকির লালন সাঁই, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।

তবে শুক্রবার হঠাৎ দেখা যায়, এসবের মধ্যে শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়া হয়েছে। এর পাশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা’ শিরোনামে দুটি লিফলেট লাগিয়ে দিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ওই লিফলেটে লেখা ছিল, ‘তিতুমীরের বাংলায়, মুসলিম ও পূর্ব বাংলা বিদ্বেষী রঠার ঠাঁই নাই/ভারত বন্দনার ঠাঁই নাই’।

সড়কের বিপরীত পাশের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কারা, কখন এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানা যায়নি। খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, 'বিকেলে বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করি। এখনো বলার মতো কোনো তথ্য পাইনি।'

ঘটনাটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘এগুলো আমাদের শিশু-কিশোরদের মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটাবে। কালি দিয়ে তারা তাদের সংকীর্ণ মনন ও অসুস্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরাম খুলনার আহ্বায়ক কাজল ইসলামের মতে, ইদানীং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কিছু তরুণ-যুবককে ভুল বুঝিয়ে নোংরামিগুলো করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সব পক্ষের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।'

ঢাকার ঘটনায় চারজনকে আটকের পর আদালত তাদের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু খুলনার এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, একটি সংকীর্ণ গোষ্ঠী ধর্ম ও রাজনীতির নাম ব্যবহার করে মানবতাবাদী ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্বদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনার পেছনে কারা, তাদের উদ্দেশ্য কী—সেটি খতিয়ে দেখতে হবে এবং ঢাকার ঘটনার মতোই খুলনার ঘটনাতেও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


ঢাকার পর খুলনাতেও রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানী ঢাকার পর এবার খুলনায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খুলনা রেলস্টেশনের দেয়ালে আঁকা কবিগুরুর প্রতিকৃতি কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে বিদ্বেষমূলক লিফলেটও লাগিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা রেলস্টেশনের দেয়ালে থাকা রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়া অবস্থায় দেখা যায়।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর ঢাকাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গ্রাফিতির মুখমণ্ডলে কালি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াশসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

খুলনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে রেলস্টেশনের দেয়ালে জুলাই অভ্যুত্থান, সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাটশিল্পের গ্রাফিতির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, ফকির লালন সাঁই, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।

তবে শুক্রবার হঠাৎ দেখা যায়, এসবের মধ্যে শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়া হয়েছে। এর পাশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা’ শিরোনামে দুটি লিফলেট লাগিয়ে দিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ওই লিফলেটে লেখা ছিল, ‘তিতুমীরের বাংলায়, মুসলিম ও পূর্ব বাংলা বিদ্বেষী রঠার ঠাঁই নাই/ভারত বন্দনার ঠাঁই নাই’।

সড়কের বিপরীত পাশের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কারা, কখন এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানা যায়নি। খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, 'বিকেলে বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করি। এখনো বলার মতো কোনো তথ্য পাইনি।'

ঘটনাটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘এগুলো আমাদের শিশু-কিশোরদের মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটাবে। কালি দিয়ে তারা তাদের সংকীর্ণ মনন ও অসুস্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরাম খুলনার আহ্বায়ক কাজল ইসলামের মতে, ইদানীং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কিছু তরুণ-যুবককে ভুল বুঝিয়ে নোংরামিগুলো করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সব পক্ষের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।'

ঢাকার ঘটনায় চারজনকে আটকের পর আদালত তাদের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু খুলনার এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, একটি সংকীর্ণ গোষ্ঠী ধর্ম ও রাজনীতির নাম ব্যবহার করে মানবতাবাদী ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্বদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনার পেছনে কারা, তাদের উদ্দেশ্য কী—সেটি খতিয়ে দেখতে হবে এবং ঢাকার ঘটনার মতোই খুলনার ঘটনাতেও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত