কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্রবধূ সমাজকর্মী নাইমা খন্দকার প্রাণ হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুকে পেইজ থেকে স্ট্যাটাসে তিনি এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তার দাবি শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন স্বামী খন্দকার মাহবুব হোসেন তুষার। এ সুযোগে তাকে নানাভাবে হয়রানি নাজেহালসহ প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
যেকোনো সময় তাকে প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে দাউদকান্দির বেশ কয়েকটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
নাইমা খন্দকার জে. হুদা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও সচিব এবং জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কুমিল্লা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নারী ও শিশুদের অধিকার এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার সঙ্গে ছেলে মাহবুব হোসেন তুষারসহ পরিবারের একাধিক সদস্য সেখানে অবস্থান করছেন।
এমন স্পর্শকাতর ও কঠিন সময়ে নিজ বাসায় সম্পূর্ণ একা থাকা অবস্থাতেই তাকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার, হুমকি ও হয়রানি করা হচ্ছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে নাইমা খন্দকার বলেন, “গত ২০ দিন ধরে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসির কাছে ঘুরেও আমি কোনো কার্যকর প্রতিকার পাইনি। প্রায় এক সপ্তাহ আগে সাইবার ক্রাইম বিভাগেও অভিযোগ করেছি, কিন্তু সেখান থেকেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি। একজন নারী নিজের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গিয়েও যদি সহযোগিতা না পাই, তবে আমি কার কাছে বিচার চাইব?”
নিজের অসহায়ত্ব ও মানসিক বিপযর্য়ের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, চলমান মানসিক চাপ ও নিরাপত্তার আশঙ্কার মধ্যেই আমাকে আইনের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। চরম মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষার হলে আমার প্রায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়েছিল।
এই সমাজকর্মী বলেন, “আমি একটি সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের পুত্রবধূ হয়েও যদি নিজের এলাকায় এমন হেনস্তা ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হই, তবে সাধারণ পরিবারের মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? যাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী পরিচিতি নেই, তারা বিপদে পড়লে কার কাছে যাবেন?”
কারা এই অপপ্রচার এবং হুমকীর পেছনে রয়েছে, তার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে দাউদকান্দির সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষের নৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছেন।
নাইমা খন্দকার স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কোনো বাড়তি সুবিধা চাই না, কেবল একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই। আজ আমার সঙ্গে যা ঘটছে, কাল তা অন্য কোনো পরিবারের মেয়ের সঙ্গেও ঘটতে পারে। তাই এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত লড়াই নয়, এটি নারীর সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।”দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। আমরা তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তাছাড়া ফেসবুক একাউন্টগুলো সনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ দিতে পরামর্শ দিয়েছি।

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্রবধূ সমাজকর্মী নাইমা খন্দকার প্রাণ হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুকে পেইজ থেকে স্ট্যাটাসে তিনি এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তার দাবি শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন স্বামী খন্দকার মাহবুব হোসেন তুষার। এ সুযোগে তাকে নানাভাবে হয়রানি নাজেহালসহ প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
যেকোনো সময় তাকে প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে দাউদকান্দির বেশ কয়েকটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
নাইমা খন্দকার জে. হুদা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও সচিব এবং জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কুমিল্লা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নারী ও শিশুদের অধিকার এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার সঙ্গে ছেলে মাহবুব হোসেন তুষারসহ পরিবারের একাধিক সদস্য সেখানে অবস্থান করছেন।
এমন স্পর্শকাতর ও কঠিন সময়ে নিজ বাসায় সম্পূর্ণ একা থাকা অবস্থাতেই তাকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার, হুমকি ও হয়রানি করা হচ্ছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে নাইমা খন্দকার বলেন, “গত ২০ দিন ধরে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসির কাছে ঘুরেও আমি কোনো কার্যকর প্রতিকার পাইনি। প্রায় এক সপ্তাহ আগে সাইবার ক্রাইম বিভাগেও অভিযোগ করেছি, কিন্তু সেখান থেকেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি। একজন নারী নিজের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গিয়েও যদি সহযোগিতা না পাই, তবে আমি কার কাছে বিচার চাইব?”
নিজের অসহায়ত্ব ও মানসিক বিপযর্য়ের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, চলমান মানসিক চাপ ও নিরাপত্তার আশঙ্কার মধ্যেই আমাকে আইনের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। চরম মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষার হলে আমার প্রায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়েছিল।
এই সমাজকর্মী বলেন, “আমি একটি সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের পুত্রবধূ হয়েও যদি নিজের এলাকায় এমন হেনস্তা ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হই, তবে সাধারণ পরিবারের মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? যাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী পরিচিতি নেই, তারা বিপদে পড়লে কার কাছে যাবেন?”
কারা এই অপপ্রচার এবং হুমকীর পেছনে রয়েছে, তার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে দাউদকান্দির সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষের নৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছেন।
নাইমা খন্দকার স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কোনো বাড়তি সুবিধা চাই না, কেবল একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই। আজ আমার সঙ্গে যা ঘটছে, কাল তা অন্য কোনো পরিবারের মেয়ের সঙ্গেও ঘটতে পারে। তাই এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত লড়াই নয়, এটি নারীর সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।”দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। আমরা তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তাছাড়া ফেসবুক একাউন্টগুলো সনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ দিতে পরামর্শ দিয়েছি।

আপনার মতামত লিখুন