সংবাদ

ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি ইরান: ট্রাম্প


প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি ইরান: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে একটি শান্তিচুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে এক বক্তব্যে তিনি জানান, আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে পরিচিত ‘ইউরেনিয়াম হস্তান্তর’ ইস্যুতে তেহরান সম্মতি দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার খুব ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তারা তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ আমাদের কাছে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে।” উল্লেখ্য, এই ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে দাবি করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি এবং তেহরানের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি আগামী ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখুক। বিপরীতে তেহরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ এবং তাদের ‘সার্বভৌম অধিকার’ বলে দাবি করে আসছে। তবে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ে তারা আলোচনায় রাজি হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসবেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংলাপ আয়োজনে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সম্প্রতি ইরানি নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, তারা শান্তি আলোচনার বিষয়ে ‘সতর্কভাবে আশাবাদী’।

শান্তি আলোচনার সমান্তরালে যুক্তরাষ্ট্রের চাপও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তাদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে বোমা হামলা চালানো হবে। ইতোমধ্যে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে দেশটির বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে।

এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব বাজারেও। ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড তেলের দাম ৩.২৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৮.০১ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়, যা বর্তমানে যুদ্ধের কারণে সংকটের মুখে।

মার্কিন অবরোধের জবাবে ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান আলী আবদোল্লাহি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন পিছু না হটলে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে কোনো আমদানি-রপ্তানি চলতে দেওয়া হবে না। এমনকি মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই সামরিক উপদেষ্টা।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের মাধ্যমে বড় কোনো শান্তিচুক্তি হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি ইরান: ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে একটি শান্তিচুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে এক বক্তব্যে তিনি জানান, আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে পরিচিত ‘ইউরেনিয়াম হস্তান্তর’ ইস্যুতে তেহরান সম্মতি দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার খুব ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তারা তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ আমাদের কাছে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে।” উল্লেখ্য, এই ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে দাবি করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি এবং তেহরানের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি আগামী ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখুক। বিপরীতে তেহরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ এবং তাদের ‘সার্বভৌম অধিকার’ বলে দাবি করে আসছে। তবে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ে তারা আলোচনায় রাজি হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসবেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংলাপ আয়োজনে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সম্প্রতি ইরানি নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, তারা শান্তি আলোচনার বিষয়ে ‘সতর্কভাবে আশাবাদী’।

শান্তি আলোচনার সমান্তরালে যুক্তরাষ্ট্রের চাপও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তাদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে বোমা হামলা চালানো হবে। ইতোমধ্যে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে দেশটির বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে।

এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব বাজারেও। ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড তেলের দাম ৩.২৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৮.০১ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়, যা বর্তমানে যুদ্ধের কারণে সংকটের মুখে।

মার্কিন অবরোধের জবাবে ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান আলী আবদোল্লাহি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন পিছু না হটলে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে কোনো আমদানি-রপ্তানি চলতে দেওয়া হবে না। এমনকি মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই সামরিক উপদেষ্টা।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের মাধ্যমে বড় কোনো শান্তিচুক্তি হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

 

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত