সংবাদ

আইএমএফের কিস্তি নিয়ে সংশয়: হাল ছাড়েনি ঢাকা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

আইএমএফের কিস্তি নিয়ে সংশয়: হাল ছাড়েনি ঢাকা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি পাওয়া নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূলত রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারা এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ধীরগতির কারণে . বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই অর্থছাড় নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

তবে এই সংকট কাটাতে হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। ঋণ প্রাপ্তির পথ সুগম করতে ওয়াশিংটনে আইএমএফের সদর দপ্তরে সংস্থাটির নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। সংস্থাটি ইতিমধ্যে অতিরিক্ত শর্তসহ নতুন একটি ঋণ কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছে, যা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ বিশ্বব্যাংকের চলমান বসন্তকালীন বৈঠকে ঋণের এই অমীমাংসিত বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

বর্তমান . বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় চলতি জুনের মধ্যেই . বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। তবে আইএমএফ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কাঙ্ক্ষিত অর্থসহায়তা পেতে হলে সংস্কার কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে।

আইএমএফের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি বলেন, "বাংলাদেশ সংস্কার কার্যক্রম কতটা এগিয়ে নিচ্ছে, সেদিকেই নজর রাখছে আইএমএফ। এর ওপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের অর্থছাড়।"

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর সঙ্গে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, ব্যাংক রেজল্যুশন বিলে ১৮ক ধারা যুক্ত করে পুরনো মালিকদের ফেরার সুযোগ দেওয়া এবং আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে বাজেটের অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে আইএমএফ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটির মতে, বাজেট থেকে অর্থ খরচ না করে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স স্কিমের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা করা উচিত।

আইএমএফের এমন কঠোর অবস্থানের মুখে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বিকল্প হিসেবে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে তুলনামূলক সহজ শর্তে অতিরিক্ত অর্থায়নের বিষয়েও আলোচনা করছে। তবে নানামুখী চাপের মধ্যেও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশাবাদী।

তিনি বলেন, "আগামীদিনে বাংলাদেশে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে দাতাসংস্থাগুলো।" এছাড়া তিনি মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এখন সবার নজর শনিবারের বৈঠকের দিকে, যেখান থেকে ঋণের কিস্তি নিয়ে চূড়ান্ত বার্তা আসতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


আইএমএফের কিস্তি নিয়ে সংশয়: হাল ছাড়েনি ঢাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি পাওয়া নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূলত রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারা এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ধীরগতির কারণে . বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই অর্থছাড় নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

তবে এই সংকট কাটাতে হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। ঋণ প্রাপ্তির পথ সুগম করতে ওয়াশিংটনে আইএমএফের সদর দপ্তরে সংস্থাটির নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। সংস্থাটি ইতিমধ্যে অতিরিক্ত শর্তসহ নতুন একটি ঋণ কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছে, যা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ বিশ্বব্যাংকের চলমান বসন্তকালীন বৈঠকে ঋণের এই অমীমাংসিত বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

বর্তমান . বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় চলতি জুনের মধ্যেই . বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। তবে আইএমএফ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কাঙ্ক্ষিত অর্থসহায়তা পেতে হলে সংস্কার কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে।

আইএমএফের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি বলেন, "বাংলাদেশ সংস্কার কার্যক্রম কতটা এগিয়ে নিচ্ছে, সেদিকেই নজর রাখছে আইএমএফ। এর ওপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের অর্থছাড়।"

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর সঙ্গে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, ব্যাংক রেজল্যুশন বিলে ১৮ক ধারা যুক্ত করে পুরনো মালিকদের ফেরার সুযোগ দেওয়া এবং আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে বাজেটের অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে আইএমএফ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটির মতে, বাজেট থেকে অর্থ খরচ না করে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স স্কিমের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা করা উচিত।

আইএমএফের এমন কঠোর অবস্থানের মুখে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বিকল্প হিসেবে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে তুলনামূলক সহজ শর্তে অতিরিক্ত অর্থায়নের বিষয়েও আলোচনা করছে। তবে নানামুখী চাপের মধ্যেও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশাবাদী।

তিনি বলেন, "আগামীদিনে বাংলাদেশে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে দাতাসংস্থাগুলো।" এছাড়া তিনি মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এখন সবার নজর শনিবারের বৈঠকের দিকে, যেখান থেকে ঋণের কিস্তি নিয়ে চূড়ান্ত বার্তা আসতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত