সংবাদ

মার্কিন সবুজ সংকেত পেলো বাংলাদেশ

রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে ৬০ দিনের স্বস্তি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে ৬০ দিনের স্বস্তি

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের অস্থিরতার মধ্যেই বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সুখবর নিয়ে এলো ওয়াশিংটন। রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে নতুন করে আরও ৬০ দিনের বিশেষ ছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ।

মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

জ্বালানি খনিজসম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত ১১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়।

এর আগে গত ১২ মার্চ একবার ৩০ দিনের সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছিলো, যা ১১ এপ্রিল শেষ হয়। তবে আগের সেই সুযোগটি কেবল ট্রানজিটে থাকা কার্গোর জন্য হওয়ায় বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে কোনো সুফল পায়নি। এবারের ৬০ দিনের এই বর্ধিত সময়সীমা রাশিয়ার সাথে নতুন করে জ্বালানি বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রুশ জ্বালানি আমদানিতে এমন ছাড় পেতে দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া দেনদরবার করতে হয়েছে ঢাকাকে। গত ৩০ মার্চ মার্কিন সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছাড়ের আবেদন জানিয়েছিলো।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রথাগত উৎসগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, “জ্বালানি সম্পদের সহজলভ্যতা এবং দ্রুত সরবরাহের সক্ষমতার কারণে রাশিয়া এখন একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে সামনে এসেছে।

এই ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করার আগে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৮ মার্চ এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেই আলোচনার পর ২০ মার্চ বিপিসি আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় এবং পরবর্তীতে মার্কিন সরকার এই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে ৬০ দিনের স্বস্তি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের অস্থিরতার মধ্যেই বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সুখবর নিয়ে এলো ওয়াশিংটন। রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে নতুন করে আরও ৬০ দিনের বিশেষ ছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ।

মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

জ্বালানি খনিজসম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত ১১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়।

এর আগে গত ১২ মার্চ একবার ৩০ দিনের সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছিলো, যা ১১ এপ্রিল শেষ হয়। তবে আগের সেই সুযোগটি কেবল ট্রানজিটে থাকা কার্গোর জন্য হওয়ায় বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে কোনো সুফল পায়নি। এবারের ৬০ দিনের এই বর্ধিত সময়সীমা রাশিয়ার সাথে নতুন করে জ্বালানি বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রুশ জ্বালানি আমদানিতে এমন ছাড় পেতে দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া দেনদরবার করতে হয়েছে ঢাকাকে। গত ৩০ মার্চ মার্কিন সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছাড়ের আবেদন জানিয়েছিলো।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রথাগত উৎসগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, “জ্বালানি সম্পদের সহজলভ্যতা এবং দ্রুত সরবরাহের সক্ষমতার কারণে রাশিয়া এখন একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে সামনে এসেছে।

এই ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করার আগে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৮ মার্চ এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেই আলোচনার পর ২০ মার্চ বিপিসি আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় এবং পরবর্তীতে মার্কিন সরকার এই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত