সংবাদ

ভোগান্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষ

ডিম, সবজি ও মুরগির দাম বাড়তি


অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

ডিম, সবজি ও মুরগির দাম বাড়তি

  • সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা
  • অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে
  • ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের বেড়ে গেছে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম। এই দাম বাড়তির তালিকায় আছে ডিম, সবজি, সয়াবিন তেল, মুরগিসহ একাধিক পণ্য।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ-সংকটের কারণ দেখিয়ে গত এক-দুই মাসে ধাপে ধাপে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ চাপে পড়েছে। শুক্রবার রাজধানির বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারে সোনালি ব্রয়লার মুরগি এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে চলতি সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০-৩৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর কালার বার্ড বা হাইব্রিড সোনালি বিক্রি হয়েছে ৩৫০-৩৬০ টাকায়। এই দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০-৩০ টাকা কম।

যদিও মাসখানেক আগে সোনালি মুরগি ২৮০-৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসেবে এখনো চড়া দামেই সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লারের দামও চড়া। বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। রোজার আগে ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

এদিকে গত তিন-চার দিনের ব্যবধানে বাজারে ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়ার পর আজ এক ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকায়। ডিমের আকার বড় হলে দাম পড়ছে ১৩০ টাকা।

এখন গ্রীষ্ম মৌসুমের সবজি বাজারে আসা শুরু হয়েছে। সাধারণত সময় নতুন সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। আবার শীতের কিছু সবজির সরবরাহ কমায় সেগুলোর দামও বাড়তি। গত এক-দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে লাউ, বেগুন, কাঁকরোল, পেঁপে, টমেটো, চিচিঙ্গা প্রভৃতি সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম কাঁকরোলের, কেজি ১২০-১৪০ টাকা।

ছাড়া বরবটি, পটোল, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বেগুন প্রভৃতি সবজির দাম ৮০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি। আগে প্রতিটি লাউ ৪০-৬০ টাকায় কেনা যেত যা এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। অবশ্য দাম কম রয়েছে কাঁচা মরিচ আলুর।

গত দুই মাসেও বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ-সংকট কাটেনি। কৃষি মার্কেট টাউন হল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ মুদিদোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল তেমন একটা নেই। ফলে ক্রেতারাও তাদের চাহিদা অনুসারে বোতলের সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে দামও বেশি দিতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকে আবার খোলা সয়াবিন কেনা বাড়িয়েছেন। এই তেলের দামও গত এক মাসে লিটারে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে।

বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম কাঁকরোলের, কেজি ১২০-১৪০ টাকা। ছাড়া বরবটি, পটোল, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বেগুন প্রভৃতি সবজির দাম ৮০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি। আগে প্রতিটি লাউ ৪০-৬০ টাকায় কেনা যেত যা এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। অবশ্য দাম কম রয়েছে কাঁচা মরিচ আলুর।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে কয়েক দিনে একাধিকবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সর্বশেষ গত রোববার নিয়ে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন, এটা স্বাভাবিক। তবে জনগণের কথা ভেবে আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। যদিও ওই বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দাম না বাড়িয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের শুল্কছাড় দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে এসব আলাপ-আলোচনার মধ্যে বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ বাড়ায়নি কোম্পানিগুলো।

গরুর মাংসের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, আজ বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এই দাম ঈদের আগে কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মাঝরি সাইজের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা কেজি দরে। ছাড়া রুই মাছ ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ২০০ টাকা, সিলভার কার্প মাছ ১৬০ টাকা, কই মাছ ১৪০ টাকা, পাঙাস মাছ ২০০ টাকা এবং পাবদা মাছ ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মাছের বাজারে দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু ইলিশ মাছের দাম কিছুটা কমেছে, অন্য মাছের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


ডিম, সবজি ও মুরগির দাম বাড়তি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা
  • অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে
  • ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের বেড়ে গেছে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম। এই দাম বাড়তির তালিকায় আছে ডিম, সবজি, সয়াবিন তেল, মুরগিসহ একাধিক পণ্য।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ-সংকটের কারণ দেখিয়ে গত এক-দুই মাসে ধাপে ধাপে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ চাপে পড়েছে। শুক্রবার রাজধানির বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারে সোনালি ব্রয়লার মুরগি এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে চলতি সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০-৩৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর কালার বার্ড বা হাইব্রিড সোনালি বিক্রি হয়েছে ৩৫০-৩৬০ টাকায়। এই দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০-৩০ টাকা কম।

যদিও মাসখানেক আগে সোনালি মুরগি ২৮০-৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসেবে এখনো চড়া দামেই সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লারের দামও চড়া। বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। রোজার আগে ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

এদিকে গত তিন-চার দিনের ব্যবধানে বাজারে ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়ার পর আজ এক ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকায়। ডিমের আকার বড় হলে দাম পড়ছে ১৩০ টাকা।

এখন গ্রীষ্ম মৌসুমের সবজি বাজারে আসা শুরু হয়েছে। সাধারণত সময় নতুন সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। আবার শীতের কিছু সবজির সরবরাহ কমায় সেগুলোর দামও বাড়তি। গত এক-দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে লাউ, বেগুন, কাঁকরোল, পেঁপে, টমেটো, চিচিঙ্গা প্রভৃতি সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম কাঁকরোলের, কেজি ১২০-১৪০ টাকা।

ছাড়া বরবটি, পটোল, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বেগুন প্রভৃতি সবজির দাম ৮০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি। আগে প্রতিটি লাউ ৪০-৬০ টাকায় কেনা যেত যা এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। অবশ্য দাম কম রয়েছে কাঁচা মরিচ আলুর।

গত দুই মাসেও বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ-সংকট কাটেনি। কৃষি মার্কেট টাউন হল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ মুদিদোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল তেমন একটা নেই। ফলে ক্রেতারাও তাদের চাহিদা অনুসারে বোতলের সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে দামও বেশি দিতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকে আবার খোলা সয়াবিন কেনা বাড়িয়েছেন। এই তেলের দামও গত এক মাসে লিটারে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে।

বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম কাঁকরোলের, কেজি ১২০-১৪০ টাকা। ছাড়া বরবটি, পটোল, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বেগুন প্রভৃতি সবজির দাম ৮০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি। আগে প্রতিটি লাউ ৪০-৬০ টাকায় কেনা যেত যা এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। অবশ্য দাম কম রয়েছে কাঁচা মরিচ আলুর।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে কয়েক দিনে একাধিকবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সর্বশেষ গত রোববার নিয়ে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন, এটা স্বাভাবিক। তবে জনগণের কথা ভেবে আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। যদিও ওই বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দাম না বাড়িয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের শুল্কছাড় দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে এসব আলাপ-আলোচনার মধ্যে বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ বাড়ায়নি কোম্পানিগুলো।

গরুর মাংসের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, আজ বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এই দাম ঈদের আগে কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মাঝরি সাইজের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা কেজি দরে। ছাড়া রুই মাছ ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ২০০ টাকা, সিলভার কার্প মাছ ১৬০ টাকা, কই মাছ ১৪০ টাকা, পাঙাস মাছ ২০০ টাকা এবং পাবদা মাছ ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মাছের বাজারে দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু ইলিশ মাছের দাম কিছুটা কমেছে, অন্য মাছের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত