সংবাদ

মেঘনার চরে কৃষি জমি নষ্ট

‘ওরা আ.লীগ না বিএনপি করে?’


প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

‘ওরা আ.লীগ না বিএনপি করে?’
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাটিকাটা বন্ধ। ছবি: প্রতিনিধি

চাঁদপুর সদরের ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন। মেঘনার পশ্চিমপাড় ঘেঁষে বিস্তীর্ণ চরের উর্বর কৃষিজমি। যেখানে এক সময় ধান তুলতেন কৃষক, সেখানে এখন চলছে মাটি কাটা আর ঝিল বানানোর মহোৎসব। থেমে নেই রাতের অন্ধকারে খনন যন্ত্রের আওয়াজ। থেমে নেই চরের বুক চিরে ফেলা।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এই চরের জমি দখল, ভাগবাটোয়ারা আর জোরপূর্বক ভোগদখলের অভিযোগ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। সেই ধারাবাহিকতা থেমে নেই ক্ষমতা বদলের পরেও।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি, গণমাধ্যমের সংবাদ- সবকিছুতে উঠে আসে চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর, খানেপুর ও চালিতাতলির চর এলাকার চিত্র। সেখানে কৃষিজমি আর সরকারি সম্পত্তি জবর দখল করে তৈরি করা হচ্ছে গভীর ঝিল। কেটে নেওয়া হচ্ছে মাটি, চলছে বালু উত্তোলন।

সংবাদ প্রকাশের পর বারবার অভিযান চালিয়েও বন্ধ করা যাচ্ছিল না এই অপকর্ম। এবার চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে মাঠে নামে উপজেলা প্রশাসন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হাজির হন চরে।

প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটিকাটায় জড়িতরা পালিয়ে গেলেও হাতে আটকানো হয় ৮টি ভারী খনন যন্ত্র (ভেকু)। প্রশাসন সেগুলো অকেজো করে দেয়। আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতি ১৬ থেকে ২০ লাখ টাকা। জব্দ করা হয় ১০টি ব্যাটারি, ৭০-৮০ পিস কারিগরি যন্ত্রপাতি ও ৯০ লিটার ডিজেল।

খননযন্ত্র জব্দ।

প্রশাসনের এই অভিযান প্রশংসিত হলেও এখন চাঁদপুরজুড়ে আলোচনা অন্য বিষয় নিয়ে—কারা এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত?‘ওরা আওয়ামী লীগ করে না বিএনপি করে?’- এখন এমন প্রশ্নই উঠেছে সাধারণ মানুষের মুখে। স্থানীয়রা বলছেন, এখন তো আওয়ামী লীগের প্রভাব নেই। বিএনপি ক্ষমতায়। তাহলে কার দুঃসাহসে থামছে না এই মাটিকাটা?

দুর্গম চরে প্রশাসনের পৌঁছাতে সময় লাগে। একবার অভিযান গেলে বন্ধ হয় সবকিছু। তবে কিছু দিন পর আবারও সক্রিয় হয় একই চক্র। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


‘ওরা আ.লীগ না বিএনপি করে?’

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চাঁদপুর সদরের ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন। মেঘনার পশ্চিমপাড় ঘেঁষে বিস্তীর্ণ চরের উর্বর কৃষিজমি। যেখানে এক সময় ধান তুলতেন কৃষক, সেখানে এখন চলছে মাটি কাটা আর ঝিল বানানোর মহোৎসব। থেমে নেই রাতের অন্ধকারে খনন যন্ত্রের আওয়াজ। থেমে নেই চরের বুক চিরে ফেলা।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এই চরের জমি দখল, ভাগবাটোয়ারা আর জোরপূর্বক ভোগদখলের অভিযোগ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। সেই ধারাবাহিকতা থেমে নেই ক্ষমতা বদলের পরেও।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি, গণমাধ্যমের সংবাদ- সবকিছুতে উঠে আসে চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর, খানেপুর ও চালিতাতলির চর এলাকার চিত্র। সেখানে কৃষিজমি আর সরকারি সম্পত্তি জবর দখল করে তৈরি করা হচ্ছে গভীর ঝিল। কেটে নেওয়া হচ্ছে মাটি, চলছে বালু উত্তোলন।

সংবাদ প্রকাশের পর বারবার অভিযান চালিয়েও বন্ধ করা যাচ্ছিল না এই অপকর্ম। এবার চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে মাঠে নামে উপজেলা প্রশাসন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হাজির হন চরে।

প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটিকাটায় জড়িতরা পালিয়ে গেলেও হাতে আটকানো হয় ৮টি ভারী খনন যন্ত্র (ভেকু)। প্রশাসন সেগুলো অকেজো করে দেয়। আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতি ১৬ থেকে ২০ লাখ টাকা। জব্দ করা হয় ১০টি ব্যাটারি, ৭০-৮০ পিস কারিগরি যন্ত্রপাতি ও ৯০ লিটার ডিজেল।

খননযন্ত্র জব্দ।

প্রশাসনের এই অভিযান প্রশংসিত হলেও এখন চাঁদপুরজুড়ে আলোচনা অন্য বিষয় নিয়ে—কারা এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত?‘ওরা আওয়ামী লীগ করে না বিএনপি করে?’- এখন এমন প্রশ্নই উঠেছে সাধারণ মানুষের মুখে। স্থানীয়রা বলছেন, এখন তো আওয়ামী লীগের প্রভাব নেই। বিএনপি ক্ষমতায়। তাহলে কার দুঃসাহসে থামছে না এই মাটিকাটা?

দুর্গম চরে প্রশাসনের পৌঁছাতে সময় লাগে। একবার অভিযান গেলে বন্ধ হয় সবকিছু। তবে কিছু দিন পর আবারও সক্রিয় হয় একই চক্র। 



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত