সংবাদ

মুজিবনগর দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান না থাকায় ক্ষোভ


প্রতিনিধি, মেহেরপুর
প্রতিনিধি, মেহেরপুর
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

মুজিবনগর দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান না থাকায় ক্ষোভ

আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শপথ নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। কিন্তু সেই দিনটিকে ঘিরে এ বছর রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। পরে বক্তব্য দেন নাগরিক উদ্যোগ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও লেখক আবু সাইদ খান বলেন, “যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাণী নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন, তারা যদি মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান না জানান, একাত্তরের স্মৃতির প্রতি মাথা নত না করেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের বোধদয় হওয়া উচিত। আগামীতে এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা রাখি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষিত হোক। মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্রের ভাস্কর্যগুলো ধ্বংস করা হয়েছে- সেগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হোক। আর এই ভাস্কর্য ভাঙচুরের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সব দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের দাবি জানাই।”

এদিকে ‘অস্থায়ী সরকার’ না ‘সাংবিধানিক প্রথম সরকার’- এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, “এই সরকারকে ‘অস্থায়ী সরকার’ বলা আমাদের কথা নয়। তখনকার গণমাধ্যমে, পত্রপত্রিকায় এভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এটি শুধু মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্যই গঠিত হয়েছিল। এই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যদিও তিনি তখন উপস্থিত ছিলেন না।”

ভাস্কর্য ভাঙচুরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে যেসব ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো ভাঙার ঘটনা নিন্দনীয়। ঢাকায় গিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।”

বিকেলের এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সহসাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন ও সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

এর আগে সকাল ৯টায় মুজিবনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা হাজী আহসান আলী খাঁন, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আব্দুল মালেক, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের উপজেলা সভাপতি মোখলেছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম ও অন্য সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (পরবর্তীতে মুজিবনগর) অনুষ্ঠিত হয় শপথ অনুষ্ঠান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় প্রায় তিন শতাধিক ভাস্কর্য।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


মুজিবনগর দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান না থাকায় ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শপথ নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। কিন্তু সেই দিনটিকে ঘিরে এ বছর রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। পরে বক্তব্য দেন নাগরিক উদ্যোগ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও লেখক আবু সাইদ খান বলেন, “যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাণী নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন, তারা যদি মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান না জানান, একাত্তরের স্মৃতির প্রতি মাথা নত না করেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের বোধদয় হওয়া উচিত। আগামীতে এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা রাখি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষিত হোক। মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্রের ভাস্কর্যগুলো ধ্বংস করা হয়েছে- সেগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হোক। আর এই ভাস্কর্য ভাঙচুরের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সব দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের দাবি জানাই।”

এদিকে ‘অস্থায়ী সরকার’ না ‘সাংবিধানিক প্রথম সরকার’- এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, “এই সরকারকে ‘অস্থায়ী সরকার’ বলা আমাদের কথা নয়। তখনকার গণমাধ্যমে, পত্রপত্রিকায় এভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এটি শুধু মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্যই গঠিত হয়েছিল। এই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যদিও তিনি তখন উপস্থিত ছিলেন না।”

ভাস্কর্য ভাঙচুরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে যেসব ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো ভাঙার ঘটনা নিন্দনীয়। ঢাকায় গিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।”

বিকেলের এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সহসাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন ও সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

এর আগে সকাল ৯টায় মুজিবনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা হাজী আহসান আলী খাঁন, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আব্দুল মালেক, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের উপজেলা সভাপতি মোখলেছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম ও অন্য সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (পরবর্তীতে মুজিবনগর) অনুষ্ঠিত হয় শপথ অনুষ্ঠান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় প্রায় তিন শতাধিক ভাস্কর্য।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত