দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণের স্পন্দন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী পারাপার হন এ পথে। সেই ফেরিতেই যেন বসেছে প্রতারণার আসর। যাত্রী সেজে ওঠা নৌ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নয়, তাদেরই সামনেই ‘তিন তাস’ খেলার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চক্রের সদস্যরাই পড়লেন ফাঁদে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায় শাহপরাণ ফেরি। এরই মধ্যে ফেরিতে ওঠেন বেশ কিছু ‘যাত্রী’। তাদের হাতে তাস। চোখে-মুখে চেনা চালাকি। কিন্তু তারা আসলে যাত্রী নন—ছদ্মবেশি পুলিশ।
গোপন সংবাদ পেয়ে ফরিদপুর অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশে পাটুরিয়া নৌ থানা ও দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ টিম এ অভিযান চালায়।
ফেরির যাত্রীদের বেশে ওঠা পুলিশ সদস্যরা প্রথমে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেন। চক্রের সদস্যরা ‘তিন তাস’ খেলার ফাঁদ পাতেন। একজন সাধারণ যাত্রীকে দেখে বোঝানো হয় তিনি অতি সহজে জিতছেন।
তারপর প্রলোভন দেখিয়ে বাজিতে টাকা ফেলান চক্রের অন্য সদস্যরা। সাধারণ যাত্রী যখন টাকা ফেলতে রাজি হন, তখন সব হারিয়ে ফেলেন। এটাই ছিল তাদের পুরো কৌশল।
গভীর রাতে যখন তারা আরেক যাত্রীকে ফাঁদে ফেলতে উদ্যত, তখনই চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। হাতে-নাতে ধরা পড়েন চারজন। তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলার সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়।
এ সময় চক্রের আরও দুই সহযোগী যাত্রীদের ভিড়ে মিশে পালিয়ে যান। আটককৃত চারজনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক মামলা। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ‘পেশাদার জুয়াড়ি’ ও প্রতারক।
আটকরা হলেন- মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার তেঘুরী এলাকার মো. আকাশ (২৩) ও একই এলাকার মো. রাসেল মুন্সি (৩৩), রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার জহির ওরফে জহু ফকির (৪২) ও একই এলাকার মো. বাবু ফকির (৩৫)।
আকাশের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জুয়া আইনে চারটি মামলা বিচারাধীন। রাসেলের বিরুদ্ধে রয়েছে দ্রুত বিচার ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা। এছাড়া জহু ফকিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জুয়া আইনে মোট ১০টি মামলা রয়েছে। বাবু ফকিরের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া পাটুরিয়া নৌ থানার ওসি কেএম নজরুল ইসলাম (পিপিএম) ও দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি ফেরিতে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।
ঘটনার পর আটক চারজনের বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় জুয়া আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, “নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফেরিতে যাত্রী সেজে পুলিশ কাজ করছে, এটি যেন কেউ আমলে না নেয়।”
নৌ পুলিশ ও ফেরি কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বলেছেন, ফেরিতে কোনো অপরিচিত ব্যক্তি ‘তিন তাস’ বা জুয়ার প্রলোভন দেখালে সঙ্গে সঙ্গে নৌ পুলিশ বা ফেরি কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। দ্রুত টাকা জেতার লোভে পড়া যাবে না। কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা দেখলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে হবে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণের স্পন্দন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী পারাপার হন এ পথে। সেই ফেরিতেই যেন বসেছে প্রতারণার আসর। যাত্রী সেজে ওঠা নৌ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নয়, তাদেরই সামনেই ‘তিন তাস’ খেলার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চক্রের সদস্যরাই পড়লেন ফাঁদে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায় শাহপরাণ ফেরি। এরই মধ্যে ফেরিতে ওঠেন বেশ কিছু ‘যাত্রী’। তাদের হাতে তাস। চোখে-মুখে চেনা চালাকি। কিন্তু তারা আসলে যাত্রী নন—ছদ্মবেশি পুলিশ।
গোপন সংবাদ পেয়ে ফরিদপুর অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশে পাটুরিয়া নৌ থানা ও দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ টিম এ অভিযান চালায়।
ফেরির যাত্রীদের বেশে ওঠা পুলিশ সদস্যরা প্রথমে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেন। চক্রের সদস্যরা ‘তিন তাস’ খেলার ফাঁদ পাতেন। একজন সাধারণ যাত্রীকে দেখে বোঝানো হয় তিনি অতি সহজে জিতছেন।
তারপর প্রলোভন দেখিয়ে বাজিতে টাকা ফেলান চক্রের অন্য সদস্যরা। সাধারণ যাত্রী যখন টাকা ফেলতে রাজি হন, তখন সব হারিয়ে ফেলেন। এটাই ছিল তাদের পুরো কৌশল।
গভীর রাতে যখন তারা আরেক যাত্রীকে ফাঁদে ফেলতে উদ্যত, তখনই চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। হাতে-নাতে ধরা পড়েন চারজন। তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলার সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়।
এ সময় চক্রের আরও দুই সহযোগী যাত্রীদের ভিড়ে মিশে পালিয়ে যান। আটককৃত চারজনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক মামলা। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ‘পেশাদার জুয়াড়ি’ ও প্রতারক।
আটকরা হলেন- মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার তেঘুরী এলাকার মো. আকাশ (২৩) ও একই এলাকার মো. রাসেল মুন্সি (৩৩), রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার জহির ওরফে জহু ফকির (৪২) ও একই এলাকার মো. বাবু ফকির (৩৫)।
আকাশের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জুয়া আইনে চারটি মামলা বিচারাধীন। রাসেলের বিরুদ্ধে রয়েছে দ্রুত বিচার ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা। এছাড়া জহু ফকিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জুয়া আইনে মোট ১০টি মামলা রয়েছে। বাবু ফকিরের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া পাটুরিয়া নৌ থানার ওসি কেএম নজরুল ইসলাম (পিপিএম) ও দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি ফেরিতে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।
ঘটনার পর আটক চারজনের বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় জুয়া আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, “নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফেরিতে যাত্রী সেজে পুলিশ কাজ করছে, এটি যেন কেউ আমলে না নেয়।”
নৌ পুলিশ ও ফেরি কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বলেছেন, ফেরিতে কোনো অপরিচিত ব্যক্তি ‘তিন তাস’ বা জুয়ার প্রলোভন দেখালে সঙ্গে সঙ্গে নৌ পুলিশ বা ফেরি কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। দ্রুত টাকা জেতার লোভে পড়া যাবে না। কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা দেখলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন