সংবাদ

৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না তেল, প্রভাবশালীরা নিচ্ছেন ‘সিরিয়াল’ ভেঙে


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না তেল, প্রভাবশালীরা নিচ্ছেন ‘সিরিয়াল’ ভেঙে
রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে আজ শনিবার জ্বালানি তেলের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি। ছবি : সংবাদ

বিভাগীয় শহর রংপুরে জ্বালানি তেল (পেট্রোল ও অকটেন) বিক্রিতে চরম নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। শহরের ৩৫টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৩৪টিই বন্ধ থাকায় শনিবার (১৮ এপ্রিল) একটি মাত্র পাম্পে তেল নিতে আসা গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এই সুযোগে সাধারণ গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে প্রভাবশালী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ‘সিরিয়াল’ ভেঙে তেল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থিত ‘ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন’ ছাড়া অন্য কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সেখানে ভোর থেকে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেকে তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা লাইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পরিবর্তে নিজেদের পরিচিত ব্যক্তিদের সিরিয়াল ছাড়াই তেল নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। সাধারণ গ্রাহকদের মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের ‘পছন্দের’ ব্যক্তিদের ঠিকই ট্যাংকি ভর্তি করে তেল দিচ্ছে।

নগরীর স্টেশন বাবু পাড়া এলাকার আবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকাল আটটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু দেখছি যারা অনেক পরে আসছে, তারা সিরিয়াল না মেনেই তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। পুলিশ সদস্যরাও তাদের পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পরিচিতদের লাইন ভেঙে আগে তেল নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। আমাদের বলার কিছু নেই।’

সিও বাজার থেকে আসা প্রাইভেট কার চালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পাঁচ ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। এখনো পাম্পের ধারেকাছে যেতে পারলাম না। অথচ চোখের সামনে দিয়ে অনেকে সিরিয়াল ছাড়াই তেল নিয়ে যাচ্ছে। সরকার বলছে তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে, তাহলে এই হয়রানি কেন?’

এদিকে স্টেশন রোডের ‘সালেক পেট্রোল পাম্প’ ও ‘রহমান ট্রেডার্স’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত চার দিন ধরে তারা ডিপো থেকে কোনো তেল পাচ্ছে না। কিন্তু ইউনিক ট্রেডার্স কীভাবে প্রতিদিন তেল পাচ্ছে, তা নিয়ে অন্য পাম্পের কর্মচারীরাও প্রশ্ন তুলেছেন।

অরাজকতার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ওপরের মহলের নির্দেশ ছাড়া এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক রিপন দাবি করেন, তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে। তবে কেন এত দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে, তা তার বোধগম্য নয়।

ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ রংপুরে জ্বালানি তেলের এই কৃত্রিম সংকট ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না তেল, প্রভাবশালীরা নিচ্ছেন ‘সিরিয়াল’ ভেঙে

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিভাগীয় শহর রংপুরে জ্বালানি তেল (পেট্রোল ও অকটেন) বিক্রিতে চরম নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। শহরের ৩৫টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৩৪টিই বন্ধ থাকায় শনিবার (১৮ এপ্রিল) একটি মাত্র পাম্পে তেল নিতে আসা গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এই সুযোগে সাধারণ গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে প্রভাবশালী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ‘সিরিয়াল’ ভেঙে তেল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থিত ‘ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন’ ছাড়া অন্য কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সেখানে ভোর থেকে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেকে তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা লাইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পরিবর্তে নিজেদের পরিচিত ব্যক্তিদের সিরিয়াল ছাড়াই তেল নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। সাধারণ গ্রাহকদের মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের ‘পছন্দের’ ব্যক্তিদের ঠিকই ট্যাংকি ভর্তি করে তেল দিচ্ছে।

নগরীর স্টেশন বাবু পাড়া এলাকার আবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকাল আটটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু দেখছি যারা অনেক পরে আসছে, তারা সিরিয়াল না মেনেই তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। পুলিশ সদস্যরাও তাদের পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পরিচিতদের লাইন ভেঙে আগে তেল নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। আমাদের বলার কিছু নেই।’

সিও বাজার থেকে আসা প্রাইভেট কার চালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পাঁচ ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। এখনো পাম্পের ধারেকাছে যেতে পারলাম না। অথচ চোখের সামনে দিয়ে অনেকে সিরিয়াল ছাড়াই তেল নিয়ে যাচ্ছে। সরকার বলছে তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে, তাহলে এই হয়রানি কেন?’

এদিকে স্টেশন রোডের ‘সালেক পেট্রোল পাম্প’ ও ‘রহমান ট্রেডার্স’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত চার দিন ধরে তারা ডিপো থেকে কোনো তেল পাচ্ছে না। কিন্তু ইউনিক ট্রেডার্স কীভাবে প্রতিদিন তেল পাচ্ছে, তা নিয়ে অন্য পাম্পের কর্মচারীরাও প্রশ্ন তুলেছেন।

অরাজকতার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ওপরের মহলের নির্দেশ ছাড়া এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক রিপন দাবি করেন, তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে। তবে কেন এত দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে, তা তার বোধগম্য নয়।

ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ রংপুরে জ্বালানি তেলের এই কৃত্রিম সংকট ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত