সংবাদ

প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

তেল দিতে রাজি না হওয়ায় পাম্প মালিককে ‘প্রাণনাশের হুমকি’


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

তেল দিতে রাজি না হওয়ায় পাম্প মালিককে ‘প্রাণনাশের হুমকি’
সাতক্ষীরার শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন। ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের হামলা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পাম্পের মালিককে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলায় স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনায় শ্যামনগরের পাম্পগুলোতে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দাদের তেল দেওয়া হয়। আজ শনিবার ছিল নূরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের তেল দেওয়ার দিন। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে তেল বিতরণ চলছিল।

পাম্প কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, সকালের দিকে পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন থেকে শতাধিক মোটরসাইকেলে একদল লোক এসে জোরপূর্বক তেল দাবি করেন। পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, আজ শুধু নূরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের তেল দেওয়া হবে। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ফিলিং স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ আটকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিএনপি নেতা কাজী আলাউদ্দিনের ভাতিজা শহিদুল নবী ওরফে বাবুর নেতৃত্বে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। এ সময় শহিদুল নবী পাম্পের মালিক নাহিদ নাজনীনকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন। এমনকি এই পথ দিয়ে যাওয়া তেলবাহী লরি বা গাড়ি আটকে দেওয়ার ও ভাঙচুরের হুমকিও দেওয়া হয়।

ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের তেলবাহী গাড়িগুলো কালীগঞ্জের মৌতলা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে শ্যামনগরে আসে। এখন ওই এলাকায় গাড়ি লুটপাট বা বাধার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমাদের মালিক ও কর্মচারীদের যাতায়াতের পথেও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’

পাম্প কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয় এবং এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তবে তারা সাময়িকভাবে বা অনির্দিষ্টকালের জন্য জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হবেন। এ বিষয়ে তারা স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


তেল দিতে রাজি না হওয়ায় পাম্প মালিককে ‘প্রাণনাশের হুমকি’

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের হামলা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পাম্পের মালিককে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলায় স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনায় শ্যামনগরের পাম্পগুলোতে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দাদের তেল দেওয়া হয়। আজ শনিবার ছিল নূরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের তেল দেওয়ার দিন। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে তেল বিতরণ চলছিল।

পাম্প কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, সকালের দিকে পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন থেকে শতাধিক মোটরসাইকেলে একদল লোক এসে জোরপূর্বক তেল দাবি করেন। পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, আজ শুধু নূরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের তেল দেওয়া হবে। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ফিলিং স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ আটকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিএনপি নেতা কাজী আলাউদ্দিনের ভাতিজা শহিদুল নবী ওরফে বাবুর নেতৃত্বে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। এ সময় শহিদুল নবী পাম্পের মালিক নাহিদ নাজনীনকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন। এমনকি এই পথ দিয়ে যাওয়া তেলবাহী লরি বা গাড়ি আটকে দেওয়ার ও ভাঙচুরের হুমকিও দেওয়া হয়।

ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের তেলবাহী গাড়িগুলো কালীগঞ্জের মৌতলা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে শ্যামনগরে আসে। এখন ওই এলাকায় গাড়ি লুটপাট বা বাধার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমাদের মালিক ও কর্মচারীদের যাতায়াতের পথেও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’

পাম্প কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয় এবং এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তবে তারা সাময়িকভাবে বা অনির্দিষ্টকালের জন্য জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হবেন। এ বিষয়ে তারা স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত